RG Kar Hospital: নিরাপত্তা নিয়েই বিরাট প্রশ্ন, হাসপাতালে সুরক্ষার অভাবই সঙ্গী চিকিৎসক থেকে নার্সদের
কথায় আছে বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো।। কিন্তু বজ্র তো দূর, রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা ঢিলেঢালা তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে আরজি কর কাণ্ড। খাস কলকাতার বুকে একটি বড় সরকারি হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তা দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেছে।
মানুষের জীবন বাঁচানোর কাজ করতে এসে নিজের জীবনকেই অকালে বিসর্জন দিতে হল আরজি কর হাসপাতালের মহিলা চিকিৎসককে। আন্দোলন, বিক্ষোভে উত্তাল বঙ্গ মেডিকেল মহল। মহিলা চিকিৎসকের মৃত্যুর পরই নড়ে চড়ে বসেছে সরকার। আরজি কর হাসপাতালের নিরাপত্তাকে কঠোর থেকে কঠোরতর করার ঘোষণা এসেছে প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকেই। আরজি কর হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী? সেই খোঁজ নিল ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা।

প্রসূতি বিভাগ থেকে সার্জারি একাধিক বিভাগগুলিতে দায়সারা একটা নিরাপত্তা রয়েছে। প্রতিটি বিভাগের দরজাতে খাতা নিয়ে বসে আছেন একজন সিভিক, কিন্তু খাতা, পেন রয়েছে, কিন্তু অবারিত দারে প্রশ্নহীন প্রবেশের ভিসাও যে সবারই আছে। তাই যে কোনও সময় যে কেউ অবলীলায় ঢুকে পড়তে পারেন হাসপাতালের একাধিক বিভাগেই। রাতে খাঁ খাঁ করে হাসপাতালের বিশাল চত্বর। তার মধ্যে এ বিল্ডিং থেকে ও বাড়ি যেতে বুক কেঁপে ওঠে মানুষের।
নিরাপত্তার সঙ্গে নেই পর্যাপ্ত সিসিটিভি ব্যবস্থা। ফলে নিরাপত্তার অভাবকে সঙ্গী করেই দিন রাত কাজ করতে হয় এখানকার চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের। নিরাপত্তার অভাবেই কারণেই ঘটেছে মর্মান্তিক ঘটনা, হাসপাতালের চিকিৎসক থেকে জুনিয়র ডাক্তার প্রত্যেকের মুখেই নিরাপত্তা নিয়ে একরাশ প্রশ্ন এবং উৎকণ্ঠা।
ডাক্তার কিঞ্জল নন্দ জানিয়েছেন, 'নিরাপত্তার অভাব রয়েছে বলেই তো এত বড় কাণ্ড ঘটে গেল। আমরা তো বার বার নিরাপত্তার অভাবের কথাই তুলে ধরছি। অনেক সময়ই রোগীর পরিজনরা অনুমতি ছাড়াই ওয়ার্ডের মধ্যে প্রবেশ করেন। পর্যাপ্ত সিসিটিভির অভাব রয়েছে। আমরা এর আগে একাধিকবার নিরাপত্তার অভাবের কথা বলেছি। নিরাপত্তার অভাবের এর থেকে বড় উদাহরণ আর কী হতে পারে?'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহিলা জুনিয়র ডাক্তার বলেন, 'রাত্রি বেলা তো নিরাপত্তার অভাব তো হয়ই। কাজের মধ্যে সিস্টার থেকে ডাক্তার প্রত্যেককেই বিশ্রাম নিতে হয়। সিসিটিভি তো সব জায়গায় নেই, যেখানে থাকার কথা সেখানকার অনেক জায়গাতেই নেই। এমন কি সিসিটিভি থাকলেও সেটা মনিটর করার মতো কেউ নেই। শুধু গেটে নিরাপত্তা থাকলেই তো হবে না। হাসপাতালের ভিতরও নিরাপত্তা প্রয়োজন।'
শুধু কি চিকিৎসক, নিররাপত্তার অভাব প্রতিনিয়ত বোধ করেন নার্সরাও। আরজি কর হাসপাতালের প্রধান নার্স ভাস্বতী মুখোপাধ্যায়ও মানছেন নিরাপত্তার অভাব রয়েছে হাসপাতালে। তিনি বলছেন, 'কলকাতার হাসপাতালের এই ঘটনা ঘটলে তাহলে একটু দূরবর্তী হাসপাতালে কী অবস্থা। জেলার হাসপাতালে লেবার রুম পর্যন্ত রোগীর পরিজনরা ঢুকে পড়েন। সিসিটিভি তো সেখানে দূরের কথা। নিরাপত্তা একেবারেই নেই। এটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে বুঝতে হবে। অসুবিধা শুধু আমাদের নয় রোগী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদেরও হচ্ছে।'
ঘটনার পর পুলিশি নিরাপত্তা আরও বাড়াতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাতে সাদা পোশাকের মহিলা পুলিশ মোতায়েন থাকবে। প্রয়োজনে তাঁদের ওয়ার্ডে এবং লেডিজ হস্টেলে প্রবেশের অধিকার থাকবে। ঘটনার পর আন্দোলন সামাল দিতে হাসপাতাল মূল ফটকে পুলিশের ভিড় বেড়েছে। কিন্তু আন্দোলনের তীব্রতা কমতেই পুলিশের সংখ্যাও কমে যাবে না তো? আবার একরাশ নিরাপত্তাহীনতাকে সঙ্গী করেই কাজ করতে হবে নাতো চিকিৎসক থেকে নার্সদের?












Click it and Unblock the Notifications