ভরসা মহিলা 'ব্রিগেডে', প্রতি আক্রমণে 'বিরোধী নেত্রী'র ঝাঁঝ ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় মমতা
আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদ করে অভিযুক্তের ফাঁসির দাবি এদিন পথে নেমেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় খিল্লির বন্যা। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরজি কর নিয়ে পরিস্থিতি যে খুব ভাল দিকে যাচ্ছে না, তা আঁচ করতে পেরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই জায়গায় দাঁড়িয়েই এবার কার্যত বিরোধী নেত্রী হওয়ার চেষ্টা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

- আন্দোলনেই জন্ম, আন্দোলনেই মৃত্যু
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন আন্দোলনের মাধ্যমেই তাঁর জন্ম হয়েছে, আন্দোলনের মাধ্যমেই তাঁর মৃত্যু হবে। বৃহস্পতিবারের পর এদিনও তিনি ফের একবার অভিযোগ করলেন আরজি করে ১৪ অগাস্ট রাতে হামলার পিছনে রয়েছে সিপিএম এবং বিজেপি। তিনি বলেন, জানার চেষ্টা করেছিলেন আরজি করে কত টাকার ক্ষতি হয়েছে। তাঁকে বলা হয়েছে ৫০ থেকে একশো কোটির মধ্যে।
- সিপিআইএম ও বিজেপিকে নিশানা
আরজি কর ইস্যুতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে রাজ্যের বাম ও বিজেপি নেতারা। কলকাতা তথা সারা রাজ্যে ১৪ অগাস্ট রাতে মহিলাদের ঝান্ডা বিহীন প্রতিবাদ সফল, বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলাদের সেই পদক্ষেপকে খুব কষ্ট হলেও স্বাগত জানাতে বাধ্যে হয়েছেন এদিন। তবে ১৪ অগাস্ট রাতে আরজি করে হামলার ঘটনায় বাম বিজেপিকে নিশানা করেছেন। তাঁর একই দাবি, একদিকে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে বিজেপি অন্যদিকে ডিওয়াইএফআই-এর পতাকা নিয়ে বাম ছাত্রযুবরা পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করছেন। আরজি করে হামলার পিছনে এরাই রয়েছে বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও এই হামলা নিয়ে কলকাতা পুলিশ এখনও সেরকমভাবে কিছু বলেনি। তারা শুধু বলেছে, ছবিতে যাদের দেখা গিয়েছে, তাদের সবাইকে গ্রেফতার করা হবে।
- পাশে মহিলা জনপ্রতিনিধিরা
এদিন প্রতিবাদ মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে ছিলেন কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর জুঁই বিশ্বাস, বিধায়ক অদিতি মুন্সি, সাংসদ শতাব্দী রায়, জুন মালিয়ার মতো আরও অনেকে। অন্যদিকে দর্শক আসনের সামনের সারিতে ছিলেন শুধুই মহিলারা। শুরুতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের নেতাদের জানিয়ে দিয়েছিলেন সামনের আসন মহিলাদের জন্য ছেড়ে দিতে।
লোকসভা নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছিলেন এবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সংখ্যালঘুদের পাশাপাশি মহিুলারা, যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা টানা পেয়ে আসছেন।
আর আরজি করের ঘটনার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠেছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আর কন্যাশ্রীর মতো সরকারি প্রকল্প নিয়ে।
- উল্লেখ মহিলাদের জন্য সরকারি পরিষেবা কী কী
সেই ঘটনা যে তাঁর নজর এড়ায়নি, তা এদিন বুঝিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিবাদ সভা থেকে তিনি উল্লেখ করেছেন, তৃণমূলই একমাত্র দল যারা লোকসভায় ৩৮ শতাংশ মহিলাকে পাঠিয়েছে। পুরসভায় ৫০ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের প্রধান করা .হয়েছে পরিবারের কোনও পুরুষ নয়, মহিলাকে। এছাড়াও কন্যাশ্রী ও রূপশ্রীর কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications