দেবাশিস কুমারের বাড়িতে আয়কর দফতরের হানা, ভোটের মুখে অস্বস্তিতে রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটপ্রক্রিয়া শুরু হতে আর এক সপ্তাহও বাকি নেই। এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের রাসবিহারী কেন্দ্রের প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে শুক্রবার সকালে আচমকা হানা দিয়েছে আয়কর দফতর। এদিন ভোরবেলা থেকেই এই অভিযান শুরু হয়েছে। সেই সময় তৃণমূলের এই বিদায়ী বিধায়ক বাড়িতেই উপস্থিত ছিলেন।
আয়কর দপ্তরের কর্তারা শুধু দেবাশিস কুমারের বাড়িই নয়, তাঁর নির্বাচনী কার্যালয় এবং মোতিলাল নেহরু রোডের কাউন্সিলর অফিসেও একই সঙ্গে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-তে দেবাশিস কুমার কিছু নথি জমা দিয়েছিলেন, সেগুলি খতিয়ে দেখার পরই আয়কর দফতরের নজরে আসে কিছু অসঙ্গতি।

এই অসঙ্গতি ও 'হিসাব বহির্ভূত সম্পত্তি’র সত্যতা যাচাই করতেই আয়কর দফতরের আজকের এই অভিযান বলে সূত্রের দাবি। উল্লেখ্য, এর আগে দক্ষিণ কলকাতার জমি দখল ও আর্থিক তছরুপের একটি মামলায় ইডি দেবাশিস কুমারকে একাধিকবার তলব করেছিল।
ইডির দাবি অনুযায়ী, অমিত গঙ্গোপাধ্যায় নামে একজন ব্যবসায়ী শহরের একাধিক জমি অবৈধভাবে দখল করতেন। এরপর পুরসভা থেকে ভুয়ো নথি তৈরি করে সেই জমি অন্যদের কাছে বিক্রি করা হত। ইডির তল্লাশি অভিযানে অমিত গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে এই সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়েছিল।
ইডির অনুমান, মেয়র পারিষদ থাকাকালীন দেবাশিস কুমার এই সমস্ত বেআইনি নথি তৈরিতে অমিত গঙ্গোপাধ্যায়কে সাহায্য করেছিলেন। দেবাশিস কুমার এই প্রক্রিয়ায় আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন কি না, তার তদন্তও চালাচ্ছে ইডি। এই মামলায় ইডি তাঁকে দুবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং দফতরে একাধিক নথি জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছিল।
একই সঙ্গে, আজ সকাল থেকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) মার্লিন গ্রুপের জমি ও ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলায় শহরের বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি চালাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে মার্লিন গ্রুপ অর্থ বিনিয়োগ করে কালো টাকা সাদা করার প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিল। এখনও পর্যন্ত শহরের ৬টি ঠিকানায় অভিযান পরিচালিত হয়েছে, যার মধ্যে ব্যবসায়ী ডিসি পালের সিকে ১১১ এবং সল্টলেকের সিকে ১১৬ নম্বর বাড়িও অন্তর্ভুক্ত।












Click it and Unblock the Notifications