গার্ডেনরিচ কাণ্ডে বাড়ছে মৃত্যু, পৌঁছল SSKM-র বিশেষ টিম, সজল ঘোষকে ঘিরে বিক্ষোভ এলাকায়
গার্জেনরিচ কাণ্ডে আরও বাড়ল মৃতের সংখ্যা। সকালে ২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে পাঁচ হয়ে গিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও ৬ জন আটকে রয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল, রাজ্য বিপর্যট মোকাবিলা দল, দমকল, পুলিশ এক যোগে কাজ করছে।
গভীর রাতে গার্ডেনরিচের ১৩৪ নম্বর পুরএলাকায় হঠাৎই একটি নির্মিয়মাণ বহুতল হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে পাশের ঝুপড়ির উপরে। সকলেই প্রায় ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন সেসময়। রমজান মাসের কারণে তাড়াতাড়িই এলাকার বাসিন্দারা ঘুমিয়ে পড়েন। কারন ভোর থেকে আবার শুরু হয়ে যায় রমজানে উপবাস। তার মাঝে হঠাৎ এই ঘটনায় রীতিমতো চমকে গিয়েছিলেন বাসিন্দারা।

ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকাজ শুরু হতে দেরি হয়। রাতের অন্ধকারেই উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারপরে দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তারেই ২ জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে। ১৫ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছি ল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আরও ৬ জন ধ্বংসস্তূপের মাঝে আটকে রয়েছেন তাঁদের অক্সিজেন স্যালাইন পাঠানো হচ্ছে।
এদিকে খবর পেয়ে সকালেই সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন মেয়র ফিহাদ হাকিম এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফিরহাদ হাকিম এবং মুখ্যমন্ত্রী দুজনেই মেনে নিয়েছেন বেআইনি নির্মাণের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। মেয়রের নিজের এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী ব্যান্ডেজ মাথায় নিয়েই ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের আস্বস্ত করেছেন এবং দোষীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের এক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত প্রোমোটারকে গ্রেফতার করা হয়। দোতলার ভিতের উপরে পাঁচতলা বাড়ি তৈরি করছিলেন। সেকারণেই এই দু্ঘটনা। পুরসভার কাছে পাঁচতলা বাড়ির অনুমোদন চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২ তলার ভিত থাকায় প্রোমোটারকে অনুমোদন দেয়নি পুরসভা। মহম্মদ ওয়াসিম নামে সেই প্রোমোটারকে গ্রেফতার করে জেরা করছে পুলিশ। ৩০৪ ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুন এবং ৩০৭ খুনের চেষ্টার ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুকুর ভরাট করে সেখানে নির্মাণ চালাচ্ছিলে প্রোমোটার তার উপরে পাঁচকতলা বাড়ি তৈরির অনুমোদন তাঁর কাছে ছিল না। এরই মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ঘটনাস্থলে এসএসকেএমের চিকিৎসক দল পৌঁছেছে। ক্রিিটকাল কেয়ার ইউনিয়ের সদস্যরা সেখানে পৌঁছে গিয়েছেন। এদিকে বিজেপি নেতা সজল ঘোষ ঘটনাস্থলে গেলে তাঁকে দেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অবশেষে বিক্ষোভের মুখে পড়ে এলাকা ছাড়েন বিজেপি নেতা।












Click it and Unblock the Notifications