ভোটের অঙ্কে ‘শূন্য’ বামেরা, কিন্তু হার না মানা লড়াই শেষে ৫০০ দিনে পা যাদবপুরের শ্রমজীবী ক্যান্টিনের

ভোটে কার্যত ভরাডুবিই হয়েছে বামেরা। রাজ্য বিধানসভায় নেই কোনও প্রতিনিধিও। এমনকি, এই ফলাফলের পরে দলের অন্দরে বিস্তর কাটাছেড়া চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এটা রাজনৈতিক দল না এনজিও? কিন্তু এতকিছুর পরেও ৫০০ দিনে পা দিল যাদবপুর সিপিএমের শ্রমজীবী ক্যান্টিন। দেশজোড়া মন্দা, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের অগ্নিমূল্যের এই বাজারে এক্কেবারে 'মডেলে’ পরিণত হওয়া যাদবপুরের শ্রমজীবী ক্যান্টিনের কথা এখন জেলায় জেলায়।

বসেছিল চাঁদের হাট

বসেছিল চাঁদের হাট

বর্তমানে একাধিক জায়গায় নেওয়া হয়েছে একই ধরণের প্রকল্প। এদিকে এদিনের ৫০০ দিনের উদযাপন অনুষ্ঠানে কার্যত বসেছিল চাঁদের হাট। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বহু নামী-দামী শিল্পী। যাদবপুরের প্রার্থী সুজন চক্রবর্তী, মহম্মদ সেলিম, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, কসবার প্রার্থী শতরূপ ঘোষ, টালিগঞ্জের প্রার্থী অভিনেতা দেবদূত ঘোষ, অভিনেতা-পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় সহ আরও একাধিক পরিচিত মুখ।

২০ টাকাতেই পেট ভর্তি ভাত

২০ টাকাতেই পেট ভর্তি ভাত

এই মুহূর্তে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ থেকে ১০০০ মানুষ এই ক্যান্টিন থেকে খাবার সংগ্রহ করেন। অঞ্চলের একেবারে নিঃসহায় ৬৫ জন মানুষকে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে এই খাবারের প্যাকেট দেওয়া হয়। বাকি সকলেই মাত্র ২০ টাকার বিনিময়ে এই প্যাকেট সংগ্রহ করতে পারেন। তবে পথ চলা শুরু হয়েছিল গত বছরের ২০ শে মার্চ। দেশব্যাপী লকডাউনের কথা ঘোষণা হতেই মহামারীর গ্রাসে অনাহারে দিন কাটতে থাকে দেশের লক্ষ লক্ষ অসহায় মানুষ।

যৌথ রান্না ঘরই সময়ের দাবি মেনে আজ শ্রমজীবী ক্যান্টিন

যৌথ রান্না ঘরই সময়ের দাবি মেনে আজ শ্রমজীবী ক্যান্টিন

আর সেই সময়েই প্রত্যহ দু'মুঠো খাবারের জন্য বুভুক্ষ মানুষের হাহাকারের করুণ ছবি ভাসতে থাকে সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে দেওয়ালে। বন্ধ হয়ে যায় গরীব, খেটে খাওয়া মানুষের উপার্জনের পথ। আর তখনই সমাজতান্ত্রিক চিন্তায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একদল বামপন্থী তরুণ তরুণী শুরু করেন এই যৌথ রান্না ঘর। নাম মাত্র মূল্যের বিনিময়ে যাদবপুরের সিপিএম নেতৃত্বের উদ্যোগে চালু হওয়া সেই রান্না ঘরই সময়ের দাবি মেনে পরিণত হয়েছে শ্রমজীবী ক্যান্টিনে৷

কেন ছাপ পড়ছে না ভোট বাক্সে ?

কেন ছাপ পড়ছে না ভোট বাক্সে ?

কম খরচে বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে রান্না করা ডিম/মাছ/ মাংস, তার সঙ্গে যথেষ্ট পরিমাণে ভাত ও তরকারি দিয়ে ২০ টাকার বিনিময়েই পাওয়া যায় এই খাবারের প্যাকেট। শপিং মলের নিরাপত্তারক্ষী থেকে নির্মাণ শ্রমিক, ছোটখাটো দোকানের কর্মী থেকে ই-কমার্স সংস্থার ডেলিভারি বয়, রিক্সা চালক সহ বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী মানুষের কাছে বর্তমানে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এই ক্যান্টিন। এমনকী করোনাককালে সংক্রমিত ব্যক্তিদের বাড়িতেও এই ক্যান্টিন থেকেও খাবার পৌঁছে দেন রেড ভলান্টিয়াররা। যাও প্রশংসিত হয় বিভিন্ন মহলে। যদিও এত কিছুর পরে তার ছাপ কেন ভোট বাক্সে পড়ল না তা নিয়ে নানান প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে রাজনৈতিক মহলের অন্দরে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+