মুখ পুড়ল কলকাতা পুলিশের! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে মন্তব্যে ব্যাঙ্কশাল আদালত থেকে জামিন পেলেন কৌস্তভ বাগচি
কৌস্তভ বাগচিকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন দিল ব্যাঙ্কশাল আদালত। ব্যাক্তিগত বন্ডে তাঁকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
কংগ্রেস নেতা ও আইনজীবী কৌস্তভ বাগচিকে জামিন দিল ব্যাঙ্কশাল আদালত। এদিন আদালতে তাঁর হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য-সহ ১০০ জন আইনজীবী। হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে কৌস্তভ বাগচিকে জামিন দিয়েছেন বিচারক। কৌস্তভ বাগচির বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের কোনও যুক্তিকেই আমল দেননি বিচারক।

ভোরে গ্রেফতার কৌস্তভ বাগচি
অভিযোগকারী সুমিত সিং নিজেকে বটতলা এলাকার তৃণমূল কর্মী পরিচয় দিয়ে জানিয়েছেন, কৌস্তভ বাগচিকে তিনি না চিনলেও শুক্রবার রাতে কৌস্তভ বাগচির করা মন্তব্য দেখে তার খারাপ লাগে। তারপরেই তিনি বটতনা থানায় রাত সাড়ে দশটা থেকে ১১টার মধ্যে এফআইআর দায়ের করেন। সেখানে শ্লীলতাহানি, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপর সেই রাতেই আড়াইটে থেকে তিনটের মধ্যে কলকাতা পুলিশের বটতলা থানার কর্মী ও আধিকারিকরা কৌস্তভ বাগচির ব্যারাকপুরের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারের সময় কৌস্তভ বাগচির সঙ্গে পুলিশ আধিকারিকদের বাদানুবাদ হয়। সকাল আটটায় কৌস্তভ বাগচিকে ব্যারাকপুর থেকে বটতলা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। কংগ্রেসের নেতারা-সহ অন্য বিরোধীরা প্রশ্ন তোলেন, যেখানে হাইকোর্টের বিচারপতির বাড়ির বাইরের পোস্টার কাণ্ডে অভিযুক্তের খোঁজ পায় না, সেখানে পুলিশের এই পদক্ষেপ অতিসক্রিয়তা।

আদালতে ধাক্কা খেল কলকাতা পুলিশ
দুপুরে কৌস্তভ বাগচিকে বটতলা থানা থেকে নিয়ে যাওয়া হয় ব্যাঙ্কশাল আদালতে। তাঁর হয়ে সওয়াল করেন ১০০ জন আইনজীবী। যাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। পুলিশের দেওয়া বিভিন্ন ধারার অসঙ্গতি তুলে ধরেন তিনি। যে কোনও শর্তে তিনি কৌস্তভ বাগচির জামিনের সওয়ালও করেন। আদালতে সওয়ালে আইনজীবীরা বলেন, যেসব ধারায় ন্যূনতম ৭ বছরের জেলের সংস্থান রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে গ্রেফতার না করেও মামলা চালানো যায়। কোনও বই থেকে কিছু বললেই তাঁকে গ্রেফতার করা যায় না, এমন সওয়ালও করেন আইনজীবীরা। বিশেষ করে যে বই এখনও সরকার নিষিদ্ধ করেনি। একটা সময়ে হইহট্টগোলের জেরে আদালত থেকে বেরিয়ে যান বিচারক।

আদালতে সওয়াল বিকাশ ভট্টাচার্যসহ অন্যদের
আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সওয়াল করতে গিয়ে প্রশ্ন করেন, তাঁর মক্কেল কি সন্ত্রাসবাদী? তিনি পুলিশের সাহস নিয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে, রাতে যেন কারও বাড়িতে হানা দেওয়া না হয়। তিনি বলেন ৪১-এর নোটিশ না থাকার পরেও কীভাবে রাতে গিয়ে গ্রেফতার? আগামী দিনে কোনও বিচারপতির বিরুদ্ধেও পুলিশ এমন ব্যবস্থা নিতে পারে বলে আশঙ্কার প্রকাশ করেন তিনি। পাল্টা সরকারি আইনজীবীরা ১০ মার্চ পর্যন্ত হেফাজতে রাখার আবেদন করেন। যদিও বিচারক সেই আবেদন রাখিজ করে কৌস্তভ বাগচিকে জামিন দেন। ব্যক্তিগত হাজার টাকার বন্ডে সপ্তাহে একদিন তদন্তকারী অফিসারের সঙ্গে দেখা করার শর্তে জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক।
এদিন কৌস্তভ বাগচিকে নিয়ে মামলার শুনানি হয় অ্যাজিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১ অতনু মণ্ডলের এজলাসে।
পরে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর চাপেই এই পরিস্থিতি। অর্বাচিনের হাতে ক্ষমতা চলে গেলেই এই পরিস্থিতি হয় বলে কটাক্ষ করেন তিনি।

কৌস্তভ কি সন্ত্রাসবাদী?
এক্ষেত্রে কৌস্তভ বাগচিকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করার আটঘন্টার মধ্যে তাঁর জামিন হয়ে গেল। যার জেরে মুখ পুড়ল কলকাতা পুলিশের। আদালতে আইনজীবীরা যেমন প্রশ্ন তোলেন কৌস্তভ কি সন্ত্রাসবাদী, অন্যদিকে কৌস্তভ বাগচির বাবা-মাও ঠিক সেই প্রশ্ন তুলেছেন। যা নিয়ে কলকাতা পুলিশের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া অবশ্য পাওয়া যায়নি।












Click it and Unblock the Notifications