তৃণমূলের সঙ্গে জোট ‘পাকা’ কংগ্রেসের! পঞ্চায়েত থেকেই যাত্রা শুরু মিশন ২০১৯-এর
রাজ্যে একসঙ্গে পথ চলা শুরু কংগ্রেস-তৃণমূল কংগ্রেসের। ২০১৯ লোকসভাকে সামনে রেখে বেজে গেল দুই কংগ্রেসের জোট দামামা।
রাজ্যে একসঙ্গে পথ চলা শুরু কংগ্রেস-তৃণমূল কংগ্রেসের। ২০১৯ লোকসভাকে সামনে রেখে বেজে গেল দুই কংগ্রেসের জোট দামামা। আসন্ন লোকসভার নির্বাচনের কথা ভেবে পঞ্চায়েতেও তৃণমূলের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল কংগ্রেস। জেলা সভাপতি মৌসম বেনজির নুর ঘোষণা করলেন, ত্রিশঙ্কু পঞ্চায়েতগুলিতে তৃণমূলকেই সমর্থন করবে কংগ্রেস।

তৃণমূল কংগ্রেস জেলা নেতৃত্বও কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তে খুশি। বিজেপিকে আটকাতে কংগ্রেস যেভাবে এগিয়ে এসেছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছেন জেলা তৃণমূল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন। কংগ্রেস জেলা সভাপতি মৌসম বেনজির নুর বলেন, হাইকম্যান্ডের নির্দেশ মেনেই আমরা বিজেপিকে আটকাতে তৃণমূলকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যদিও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী জানান, দলকে না জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটা একেবারেই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
উল্লেখ্য, গনিখান চৌধুরীর মালদহে এতদিন শেষ কথা ছিল কংগ্রেস। কিন্তু এবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে তাদের। ১৪৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে মাত্র তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতে জেতে কংগ্রেস। তৃণমূল কংগ্রসে দখল করে ৫১টি গ্রাম পঞ্চায়েত। বিজেপি জেতে ২২টি গ্রাম পঞ্চায়েতে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ৪৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত ত্রিশঙ্কু হয়।

এখন এই ৪৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতে কংগ্রেসের তরফে তৃণমূলকে সমর্থন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। বিজেপিকে রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস। এর ফলে ত্রিশঙ্কু গ্রাম পঞ্চায়েত গুলিতে কংগ্রেস বা তৃণমূলের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনাই প্রবল। সেক্ষেত্রে বিজেপি এই পঞ্চায়েতগুলিতে দাঁত ফোটাতে পারবে না। আর সিপিএম তথা বামফ্রন্টের অস্তিত্বও বিলুপ্ত জেলায়।
উল্লেখ্য, মালদহে মোট গ্রাম পঞ্চায়েত আসনের মধ্যে ৫৫৬টিতে জয়ী হয় তৃণমূল। বিজেপি জেতে ২৮৩টি আসনে। কংগ্রেস জয়ী হয় ২০৭টিতে। বামেদের দখলে মাত্র ৬৫টি আসন। এতদিন এই জেলায় তৃণমূল সে অর্থে দাঁত ফোটাতে পারেনি। দাঁত ফোটাতে পারেনি বিজেপিও। তারাই এবার দাপিয়ে বেড়িয়েছে। এখন তৃণমূল-বিজেপির লড়াইয়ে কংগ্রেস তৃণমূলকেই সমর্থন জানাল।
ফলে লোকসভা নির্বাচনের আগেই রাজ্যের এই জেলায় জোট দামামা বেজে দেল কংগ্রেস-তৃণমূলের। পঞ্চায়েতে তৃণমূলকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী যতই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করুন, এর পিছনে বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে কংগ্রেসের। কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের নির্দেশ মেনেই মৌসম এমন তৎপরতা দেখিয়েছেন বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।












Click it and Unblock the Notifications