এসআইআরের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের প্রচেষ্টা হলে তা রুখব, হুঁশিয়ারি মমতার
রাজ্যে বা দেশে কোনও প্রকৃত ভোটারকে হয়রানি করা উচিত নয়। সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে এমন "ভাগ করো ও শাসন করো" নীতি পরিহারের আহ্বান জানিয়ে এ কথা বললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সরাসরি স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিউ (এসআইআর) বা ন্যাশনাল রেজিস্ট্রি অফ সিটিজেনস (এনআরসি)-এর নাম উল্লেখ না করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, মহাত্মা গান্ধী, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এবং বি আর আম্বেদকরের প্রদর্শিত আদর্শ ও গণতান্ত্রিক চেতনাকে সুরক্ষিত ও সমুন্নত রাখা উচিত।

কলকাতায় একটি জগদ্ধাত্রী পুজো উদ্বোধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের যে কোনও প্রচেষ্টা বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের মতো গণতন্ত্রের স্তম্ভ দ্বারা প্রতিহত করা হবে।
মমতা বলেন, "আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ কারণ মানুষের মধ্যে কোনও বিভেদ বা বিভাজন থাকা উচিত নয়। মনে রাখবেন, পাঁচটি আঙুল একত্রিত হয়ে একটি মুষ্টি গঠন করে যা যে কোনও হুমকি বা চ্যালেঞ্জকে প্রতিহত করতে পারে।"
এসআইআর এবং এনআরসির প্রতি ইঙ্গিত করে মমতা বলেন, প্রকৃত ভোটারদের হয়রানি করা উচিত নয়। তিনি এদিন স্বাধীনতা আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যখন সকলে বিদেশি শাসকদের পরাজিত করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। মমতা বলেন যে, মানবতাই সবচেয়ে বড় ধর্ম। মানুষকে মানবিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে ও বিভেদ সৃষ্টিকারী শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করতে উৎসাহিতও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা বলেন, "আপনি ফল গাছ থেকে সংগ্রহ করেন স্বাদ নিতে এবং দেবতাকে নিবেদন করতে। আপনি গাছ থেকে কাঁটা বের করেন না। কাঁটা দিয়ে পূজা করবেন না, নেতিবাচকতার কাঁটা এড়িয়ে চলুন।"
দেবী জগদ্ধাত্রীর কাছে সকলের মঙ্গল কামনায় আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে শ্লোক ও স্তোত্র পাঠ করার সময় তিনি বলেন, "আমি পণ্ডিত বা পুরোহিত নই কিন্তু প্রতিদিন চণ্ডী শ্লোক পাঠ করি কারণ আমি এমন অনেক স্তোত্র জানি। তবে, কিছু লোক এটিকে একটি সমস্যা করে তোলে এবং ঝগড়া করতে থাকে। এত নেতিবাচকতা কেন? এত বিষাক্ততা কেন? আমি তাঁদের সুখ ও মঙ্গল কামনা করি।" উল্লেখ্য, এদিনও মমতার ভুল স্তোত্রপাঠ নিয়ে কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
কলকাতা থেকেই মমতা এদিন চন্দননগর ও কৃষ্ণনগরের বিভিন্ন জগদ্ধাত্রী পূজা প্যান্ডেলের ভার্চুয়াল দর্শন করেন এবং পূর্বতন ফরাসি উপনিবেশে ডব্লিউবিএসইডিসিএল দ্বারা ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত একটি ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ তারের লাইন উদ্বোধন করেন। তিনি কলকাতার মেয়র ও মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে বলেন, "এখন চন্দননগরে আর কোনও ওভারহেড বিদ্যুতের সংযোগ থাকবে না। কলকাতা ও অন্যান্য পৌরসভাতেও অনুরূপ সুবিধা চালু করা উচিত। দয়া করে তা দ্রুত করুন।"
মুখ্যমন্ত্রী অষ্টম দার্জিলিং সরস মেলারও ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, "১২ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী রয়েছে এবং আমরা ভারতে এক নম্বরে আছি।" তিনি বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করেন যে জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, মিরিক এবং কালিম্পং-এ সাম্প্রতিক ভূমিধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আবাস যোজনার অধীনে তহবিল কয়েক দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে।












Click it and Unblock the Notifications