সেনাকেও অপব্যবহার করছে বিজেপি! ভাষা আন্দোলনের মঞ্চ জওয়ানরা খুলে 'পালাতে'ই গর্জে উঠলেন মমতা

ভাষা সন্ত্রাসের প্রতিবাদে মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে তৃণমূল কংগ্রেসের ধরনা মঞ্চ সেনা ভেঙে দিতেই গর্জে উঠলেন দলনেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেনাবাহিনীর উপর ক্ষোভ না থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি নিশানা করলেন বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকেই।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মহাত্মা গান্ধী আমাদের মাথায় উপরে। আমরা ওদের মতো পায়ের নীচে রাখি না। অন্যায়, অত্যাচারের প্রতিবাদ আমরা করি গান্ধী মূর্তির পাদদেশেই। আমি যখন এখানে আসছিলাম প্রায় ২০০-র মতো সেনা আমাকে দেখে ছুটে পালাচ্ছিল। আমি বললাম, পালাচ্ছেন কেন? আপনারা তো আমাদের বন্ধু, আমরা আপনাদের নিয়ে গর্বিত। এটা আপনাদের দোষ নয়। বিজেপির কথায়, দিল্লির কথায় আপনারা এটা করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় করেছেন। আর্মিকে আমি দোষ দিই না। বিজেপি, বিজেপির সরকারের মন্ত্রীদের কথায় ধরনা মঞ্চের প্যান্ডেল খুলে দেওয়া হলো। এই মঞ্চে শনি ও রবিবার করে রাজনৈতিক কর্মসূচি হয়। আজ খালি করে দিয়েছে। পুলিশকেও জানায়নি। আইনশৃঙ্খলা কিন্তু রাজ্যের পুলিশের বিষয়।

মমতা বলেন, সেনাকে যখন বিজেপির কথায় চলতে হয়, সেনাকে যখন নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতে অপব্যবহার করা হয় তখন সন্দেহ জাগে দেশ কোথায় যাচ্ছে। গাড়ি চলাচলে কোনও অসুবিধা নেই। আমাদের বিভিন্ন সংগঠন প্রতি শনি ও রবিবার ভাষা আন্দোলন নিয়ে কর্মসূচি রাখছে। ৩০ ও ৩১ অগাস্টের জন্য আমরা ২০ হাজার টাকা সিকিউরিটি ডিপোজিট জমা করেছি। আরও লাগলে দিতাম। আমরা কিন্তু ওদের থেকে পয়সা নিই না। সৌজন্যের বিষয়। ডুরান্ড কাপ-সহ সেনার সব অনুষ্ঠানে আমি যাই। কলকাতার নগরপাল বা রাজ্যের ডিজিকে বলতে পারতো। পুলিশ আমাদের জানালে আমরাই মঞ্চ খুলে দিতাম। ডুরান্ড কাপ-সহ নানা বিষয়ে অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে ওদের ভালো যোগাযোগ রয়েছে। অরূপকে জানাতে পারতো। আমাকেও ফোন করতে পারতো। আমার ফোন সব সময় খোলা থাকে। আমিই মঞ্চ সরিয়ে নিতে বলতাম। কিন্তু বিজেপি যেভাবে এটা করল তা অসাংবিধানিক, গণতন্ত্রবিরোধী, অনৈতিক। আমাদের পতাকা, ভাষা সন্ত্রাসের প্রতিবাদের ব্যানার, আমার ছবি এভাবে খোলার অধিকার ওদের নেই! ফলে আমাদের প্রতিবাদ চলবে। আজ যেভাবে মঞ্চ খোলা হলো তার প্রতিবাদে জেলায়, ব্লকে, ওয়ার্ডে, পঞ্চায়েত এলাকায় কাল প্রতিবাদ মিছিল হবে। ভাষা সন্ত্রাসের প্রতিবাদ চলবে, আরও জোরদার হবে। কাল থেকে রানি রাসমনি রোডে সরকারের অধীনস্থ এলাকায় মঞ্চ বেঁধে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলবে। আমরা সবার পারমিশন নিয়েই প্রোগ্রাম রাখি।

মমতার কথায়, আমরা আর্মি, রেলকে ডিসটার্ব করতে চাই না। জোর করে মঞ্চ খোলায় ছুপা রুস্তম বিজেপি পার্টি ও সরকার। সেনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজে লাগানো হচ্ছে। যদি ওরা ঠিক হয় তাহলে পালাচ্ছিল কেন? বিজেপি যত এমন করবে তত ওদের খারাপ ফল হবে। সেনাকে এভাবে অপব্যবহার করা অগণতান্ত্রিক কাজ। বিজেপি দেশের লজ্জা। ডাবল ইঞ্জিন সরকার দেশের লজ্জা। মানুষের সমর্থন ওরা পাবে না যত দিন যাবে। সব এজেন্সি সরকারের ললিলপ হয়ে গিয়েছে। ভেবেছিলাম সেনা ঠিক রয়েছে। কিন্তু তাদেরও মিসইউজ করছে। নির্বাচনের ৬-৭ মাস আগে বদনাম করতে এজেন্সি পাঠায়। একটা এজেন্সির নাম বলুন যারা নিরপেক্ষ। সব স্বৈরাচারী পক্ষ, বিজেপি-পক্ষ। কাল যখন বিজেপি থাকবে না কোথায় পালাবে? পালাবার পথ নাই।

মমতা বলেন, আমরা তো তাহলে ব্রিগেডে সভা করতে পারব না,সেনা অনুমতি দেবে না। গান্ধী মূর্তির পাদদেশ বা রেড রোডেও অনুমতি দেবে না। এ আবার কী! সব প্রোগ্রাম তো হয়। রাস্তা দেখে কারা, পরিচর্যা করে কারা। আমাদের প্রোগ্রাম আটকানোর ক্ষমতা বিজেপির নেই। ওডিশায় গতকালও লোহার ডান্ডা দিয়ে পেটানো হয়েছে বাঙালি বলে। ফলে যতদিন ভাষা সন্ত্রাস চলবে, বাঙালিদের উপর অত্যাচার চলবে ততদিন আমরা প্রয়োজনে রোজ প্রোগ্রাম রাখব। এ জন্য মোদীবাবুর পারমিশন লাগবে না, জনগণের পারমিশন নিয়েই করব। কণ্ঠরোধ করতে পারবে না। আন্দোলন করা গণতান্ত্রিক অধিকার।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+