অপরাধ দমনে ‘মুশকিল আসান’ হবেন আমজনতাই, ‘ভলেন্টিয়ার’ নিয়োগ করবে সিআইডি
রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত পেতে আমজনতাকে কাজে লাগাতে চাইছে সিআইডি। সাধারণ মানুষকে এবার ভলেন্টিয়ার হিসেবে নিয়োগ করে সিআইডি মুশকিল আসান করতে চায়।
কলকাতা, ১৬ মার্চ : রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত পেতে আমজনতাকে কাজে লাগাতে চাইছে সিআইডি। সাধারণ মানুষকে এবার ভলেন্টিয়ার হিসেবে নিয়োগ করে সিআইডি মুশকিল আসান করতে চায়। এইসব ভলেন্টিয়ারদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডি তদন্তকারী অফিসারকে তদন্তে পাঠাবে। অথবা সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশকে জানিয়ে দেবে তদন্তের গতি প্রকৃতি। অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এভাবেই আমজনতাকে কাজে লাগাতে চায় সিআইডি।
এই তথ্য সরবরাহের কাজ করে কোনও ভাতা বা পারিশ্রমিক মিলবে না। তবে তথ্যের ভিত্তিতে বড় কোনও অপরাধের রহস্যভেদ হলে স্বেচ্ছাসেবকদের পুরস্কার দেওয়ার ভাবনা রয়েছে। যদিও এই ভলেন্টিয়াররা পর্দার আড়ালে থেকেই কাজ করবেন। কারা সিআইডি-র ভলেন্টিয়ার, তা সিআইডি ছাড়া অন্য কেউ জানতে পারবে না।

এডিজি (সিআইডি) রাজেশ কুমার জানান, আপাতত প্রাথমিক স্তরে কাজকর্ম শুরু হয়েছে। এপ্রিলের মধ্যে বিষয়টা কার্যকর হবে। সাধারণ নাগরিকরাই হবেন ভলেন্টিয়ার। ভলেন্টিয়ার পদে আবেদন জমা পড়লে সেগুলি ভালো ভাবে খুঁটিয়ে দেখে তাঁদের নিয়োগ করা হবে। তাঁরা কী ধরনের তথ্য সরবরাহ করছেন তাও কিছুদিন খতিয়ে দেখা হবে। ভলেন্টিয়ারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোনও অপরাধের কিনারা হলে তাঁদের পুরস্কৃত করা বা ভলেন্টিয়ারদের শংসাপত্র দেওয়ার ভাবনাও রয়েছে সিআইডি-র।
বাম জামানা থেকেই কলকাতা ও রাজ্য পুলিশে সিভিক পুলিশ ভলেন্টিয়ার নিয়োগ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে তৃণমূল জমানায় সিভিক পুলিশ ভলেন্টিয়ার থেকে পুলিশ শব্দটি বাদ গিয়েছে। তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতে মামলাও হয়েছে। তবে ওই ভলেন্টিয়াররা মাসে নির্দিষ্ট ভাতা পান। সিআইডি যে ভলেন্টিয়ার নিয়োগে উদ্যোগ নিচ্ছে, তাঁরা অবশ্য সিভিক ভলেন্টিয়ারদের মতো হবেন না।
এর উদ্দেশ্য মূলত, নিজ নিজ এলাকায় অপরাধের খবর দ্রুত গোয়েন্দাদের কাছে পৌঁছনো। কিছুদিন আগে মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবর পেতে এভাবে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য মানবাধিকার কমিশনও। তবে সিআইডি সূত্রের খবর, তাঁদের ভলেন্টিয়াররা সন্দেহজনক কাজকর্ম দেখলেই খবর দিতে পারবেন।












Click it and Unblock the Notifications