পাকিস্তান থেকে বাংলায় প্রতারণা চক্র! কলকাতা থেকে জালে দুই
পাকিস্তান থেকে এ রাজ্যে সক্রিয় প্রতারণা চক্র। এরই পর্দা ফাঁস করেছে সিআইডি। এখনও পর্যন্ত রাজেশ ঘোষ এবং বিধান কীর্তনিয়া নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পাকিস্তান থেকে এ রাজ্যে সক্রিয় প্রতারণা চক্র। এরই পর্দা ফাঁস করেছে সিআইডি। এখনও পর্যন্ত রাজেশ ঘোষ এবং বিধান কীর্তনিয়া নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুধু বাংলাতেই নয়, লটারির নাম করে সারা দেশ জুড়ে প্রায় হাজারখানের মানুষকে আার্থিক প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই চক্রের বাকিদের সন্ধান করছে সিআইডি।
প্রাণ ব্রেভারেজ ইন্ডিয়ার ডিরেক্টর রাজেশ ঘোষ। এই সংস্থার আধিকারিক পদে কর্মরত বিধান কীর্তনিয়া। ২৫ জানুয়ারি তাদের গ্রেফতার করেছে সিআইডি। প্রাথমিক ভাবে
গোয়েন্দাদের অনুমান, হাওলার মাধ্যমে দুবাই হয়ে টাকা যেত পাকিস্তানে।

বিভিন্ন থানায় অভিযোগ
সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন থানা থেকে অভিযোগ আসছিল। প্রায় হাজার খানের অভিযোগ জমা পড়েছিল। সন্দেহজনক নম্বর থেকে ফোন করে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হত। +৯২ কিংবা ০০৯২ দিয়ে নম্বরগুলির শুরু। নম্বরগুলি পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, সেগুলি পাকিস্তানের।

নিউটাউনের অফিসে তল্লাশি
নিউটাউনে প্রাণ ব্রেভারেজ ইন্ডিয়া প্রাইভেট ইন্ডিয়া লিমিটেডের অফিস। এই ঠিকানাতেই দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালান সিআইডি আধিকারিকরা। সিআইডি সূত্রে খবর, বেশ কিছু কাগজ সেখান থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

প্রথমে প্রসেসিং ফি বাবদ টাকা আদায়
প্রথমে ফোনে পুরস্কারের কথা জানানো হত। পরে প্রসেসিং ফি বাবদ টাকা চাওয়া হত। একটি অ্যাকাউন্টের নম্বর দেওয়া হত। যেখানে ওই ফি জমা দিতে বলা হত। পরবর্তী পর্যায়ে যাঁরা ফোন করছিলেন কিংবা এই টাকা আদায় নিয়ে অভিযোগ জমা পড়তে শুরু করে বিভিন্ন থানা এলাকায়। ফলে স্বতঃপ্রণোদিত
মামলা শুরু করে সিআইডি। তদন্তে জানা যায়, প্রসেসিং ফি বাবদ যে টাকা জমা পড়ছিল তা হাওয়ালার মাধ্যমে প্রথমে দুবাই, সেখান থেকে সম্ভবত যাচ্ছিল
পাকিস্তানে। সেই টাকার কিছু অংস আসছিল ভারতীয় দু-একটি কোম্পানিতে। তাদের মধ্যে প্রাণ ব্রেভারেজ প্রাইভেট ইন্ডিয়া লিমিটেডও রয়েছে। কোম্পানির ডিরেক্টর এবং আধিকারিক পদে কর্মরত রাজেশ ঘোষ এবং বিধান কীর্তনিয়ার হাতেও গিয়েছে সেই টাকা। অনুমান সিআইডির। সেইজন্য তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

২ জনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ
গ্রেফতারের পর দুজনকেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে পেয়েছে সিআইডি। সে বিল্ডিং-এ প্রাণ ব্রেভারেজ ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিডেট রয়েছে, সেখানকার সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে নিয়ে গিয়েছেন সিআইডি আধিকারিকরা। এগরা থানায় হওয়া একটি মামলার জেরে এই সিআইডি তল্লাশি বলে জানা গিয়েছে। এই চক্রে আরও কতজন রয়েছে কিংবা কত দিন ধরে এই চক্র কাজ করছে তা খতিয়ে দেখছে সিআইডি।












Click it and Unblock the Notifications