হাসপাতালগুলিতে তৈরি করতে হবে শিশু বিভাগ! অ্যাডিনোভাইরাস মোকাবিলায় একাধিক নির্দেশ
রাজ্যে ভয় ধরাচ্ছে অ্যাডিনোভাইরাস! সর্দি-কাশি'র সঙ্গে জ্বর এবং সকষ্টে আক্রান্ত হয়ে রবিবার পর্যন্ত ১০ টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
রাজ্যে ভয় ধরাচ্ছে অ্যাডিনোভাইরাস! সর্দি-কাশি'র সঙ্গে জ্বর এবং সকষ্টে আক্রান্ত হয়ে রবিবার পর্যন্ত ১০ টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুধু তাই নয়, গত ২৪ ঘন্টা আগেও এক ১৩ বছরের নাবালিকার মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ওই নাবালিকা পিয়ারলেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
এই অবস্থায় চিকিৎসকরা সবরকম চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। এই অবস্থায় অ্যাডিনোভাইরাস নিয়ে ফের নয়া নির্দেশিকা জারি করল স্বাস্থ্য দফতর।

পর্যাপ্ত পরিকাঠামো তৈরি করতে নির্দেশ
কার্যত রাজ্যে অ্যাডিনোভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। সঙ্গে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। এই অবস্থায় নয়া নির্দেশিকা জারি করল স্বাস্থ্যভবন। গত কয়েকদিন আগে বেশ কিছু নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু এরপরেও অ্যাডিনোভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এই অবস্থায় নতুন করে নির্দেশিকা জারি করা হল স্বাস্থ্য ভবনের তরফে। যেখানে সমস্ত হাসপাতাল এবং মেডিক্যাল কলেজকে শিশু বিভাগের জন্যে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো তৈরি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিশুদের জন্য বেড তৈরি রাখতেও বলা হয়েছে। অন্যদিকে যদি কোনও শিশু বিভাগ না থাকে তাহলে তা দ্রুত তৈরি করতেও বলা হয়েছে।

কোনও শিশুর মৃত্যু না হয় সেদিকেও বিশেষ নজর
অন্যদিকে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে যাতে কোনও শিশুর মৃত্যু না হয় সেদিকেও বিশেষ নজর স্বাস্থ্য ভবনের। সেজন্যে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থা হাসপাতালগুলিকে রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়াও শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ভেন্টিলেটর তৈরি রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়াও সবসময়ের জন্যে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের শিশু বিভাগে রাখতে হবে বলেও নির্দেশিকাতে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের হাসপাতাল এবং মেডিক্যাল কলেজগুলিতে শ্বাসকষ্ট নিয়ে কত রোগী আসছে তাও প্রত্যেকদিন স্বাস্থ্যভবনকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

ভাইরাসের থাবা ক্রমশ চওড়া হচ্ছে রাজ্যে
অ্যাডিনো ভাইরাসের থাবা ক্রমশ চওড়া হচ্ছে রাজ্যে। কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া জেলায় অ্যাডিনোভাইরাসের সংক্রমণ মারাত্মক আকার নিয়েছে। ঘরে ঘরে শিশুদের শরীরে থাবা বসিয়েছে অ্যাডিনো ভাইরাস। গলা খুশখুস থেকে শুরু তারপরে ধীরে ধীরে সর্দি কাশি জ্বর। অনেক্ষেত্রে আবার শ্বাসকষ্ট দেখা দিচ্ছে শিশুদের মধ্যে। তারপরেই তাঁদের হাসপাতে ভর্তি করতে হচ্ছে। এই অবস্থায় সতর্ক স্বাস্থ্যনভবন। অন্তত যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে তাতে সতর্ক রাজ্য সরকারও।

সতর্ক কলকাতা পুরসভাও
এই অবস্থায় কোমর বেঁধে নামছে পুরসভা। এমনটাই জানিয়েছেন মেয়র পরিষদ স্বাস্থ্য। তাঁর কথা মতো, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সার্ভে করবেন কলকাতা পৌর সংস্থার স্বাস্থ্য কর্মীরা। তবে এই শিশুদের অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া যায় না তাই কলকাতা পুর সংস্থার স্বাস্থ্য চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে কোনও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অতীন ঘোষ। তবে যাদের সমস্যা গভীর রয়েছে তাদেরকে হাসপতালে ভর্তি করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মেয়র পরিষদ স্বাস্থ্য।












Click it and Unblock the Notifications