ছাত্র আন্দোলনের নামে গুণ্ডামি! আপাতত বন্ধ হল চারুচন্দ্র কলেজ
নিরাপত্তারক্ষীকে সরানো নিয়ে মঙ্গলবার রাত থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে চারুচন্দ্র কলেজ। বেলা দু'টো থেকে কলেজের অধ্যক্ষকে ঘেরাও করে পড়ুয়া। রাত ৯টা পর্যন্ত এই অবস্থান চলে। পরিস্থিতি চরম অশান্তিতে পৌঁছয় রাতে।
অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হল চারুচন্দ্র কলেজ। অধ্যক্ষ এই মর্মে নোটিস জারি করেছেন। রাতেই চারুচন্দ্র কলেজের গেটে এই নোটিস ঝুলিয়েও দেওয়া হয়। চারুচন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন কলেজের অধ্যাপকরা। সেই কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তারক্ষীকে সরানো নিয়ে মঙ্গলবার রাত থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে চারুচন্দ্র কলেজ। বেলা দু'টো থেকে কলেজের অধ্যক্ষকে ঘেরাও করে পড়ুয়া। রাত ৯টা পর্যন্ত এই অবস্থান চলে। পরিস্থিতি চরম অশান্তিতে পৌঁছয় রাতে। সে সময় কিছু উত্তেজিত ছাত্র বেশকিছু অধ্যাপককে শারীরিকভাবে হেনস্থা করে বলে অভিযোগ। এরপর ছাত্ররা অবস্থান তুলে নিলেও অধ্যাপকরা পাল্টা আন্দোলন শুরু করেন।
চারুচন্দ্র কলেজের অধ্যাপকরা নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ এনে অধ্যক্ষের শরণাপন্ন হন। পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে অধ্যক্ষও জানান, আন্দোলনরত পড়ুয়াদের হাতে কলেজের অধ্যাপক শারীরিক নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। এমনকী, এই ঘটনায় কিছু বহিরাগত জড়িত বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, নিরাপত্তারক্ষীকে সরানো নিয়ে যে সব পড়ুয়া আন্দোলনে নেমেছিলেন তাদের মধ্যে অনেকেই ছাত্র হলেও তাঁর কলেজের সঙ্গে এদের কোনও যোগ নেই।
চারুচন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষের অভিযোগ, ছাত্ররা প্রায়সই এমনইভাবে ঘেরাও শুরু করছে। অধ্যক্ষকের ঘরের মধ্যে বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি থাকে। ছাত্রদের উত্তেজনায় সে সব নথিপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিচ্ছে। এরসঙ্গে যেভাবে বহিরাগত ছাত্ররা অধ্যক্ষের ঘরে ঢুকে পড়ছে তা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যথেষ্টই উদ্বেগের বলে মনে করছেন তিনি।
অধ্যক্ষের আরও অভিযোগ, নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহকারী সংস্থার মালিকের সঙ্গে কথা বলেই পুরনো এক নিরাপত্তাকর্মীকে সরানোর সিদ্ধান্ত হয়। কারণ, ওই নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা পড়ছিল। এরপরই নিরাপত্তা দেওয়া সংস্থার মালিকের সঙ্গে কথা বলে অভিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মীকে সরিয়ে নতুন একজনকে স্থালাভিষিক্ত করা হয়। অধ্যক্ষের অভিযোগ, এই সামান্য ঘটনা নিয়েই কিছু ছাত্র অযথা কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করে। আর তার জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাজ্য শিক্ষা দফতরের আনা ছাত্র বিল অনুযায়ী কলেজে ছাত্র সংসদ গঠিত না হলে এই সমস্যা থেকে যাবে বলেই মনে করছেন চারুচন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ।












Click it and Unblock the Notifications