প্রকাশ জাভড়েকরের বৈঠকের মধ্যে আইসিসিআরের বাইরে বিশৃঙ্খলা, বিজেপি কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি
রাজ্য বিধানসভায় একমাত্র এবং স্বীকৃত বিরোধী দল বিজেপি(BJP)। তৃণমূলের (Trinamool Congress) বিরুদ্ধে দুর্নীতের অভিযোগ তুলে তাদের শাসনের অবসানের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে। কেন্দ্রীয় নেতা প্রকাশ জাভড়েকরের (Prakash Javade
রাজ্য বিধানসভায় একমাত্র এবং স্বীকৃত বিরোধী দল বিজেপি(BJP)। তৃণমূলের (Trinamool Congress) বিরুদ্ধে দুর্নীতের অভিযোগ তুলে তাদের শাসনের অবসানের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে। কেন্দ্রীয় নেতা প্রকাশ জাভড়েকরের (Prakash Javadekar) উপস্থিতি হওয়া বৈঠকের মধ্যেই শনিবার সন্ধেয় আইসিসিএর-এর বাইরে দুই-দল বিজেপি নেতা-কর্মীর মধ্যে হাতাহাতি। যা বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্যের (Samik Bhattacharya) কথায় মান্যতা পেয়েছে।

কলকাতায় মোদী শাসনকাল উদযাপন
প্রায় বারো বছর গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকার পরে দেশে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। সেই অর্থে, ২০ বছরের শাসনকাল। উদ্দেশ্য তাঁর শাসনকালের সুফল তুলে ধরা। সেই উপলক্ষে কলকাতায় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। আইসিসিআর-এ হওয়া অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর। যখন তিনি ভিতরে বক্তৃতা করছেন, সেই সময় বাইরে বিজেপি গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে দুপক্ষের মারামারিতে উত্তেজনা চরমে।

সকাল থেকে অনুষ্ঠান ছিলেন রাজ্য নেতারা
রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে অবশ্য ওই অনুষ্ঠানে পাওয়া যায়নি। তবে রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এবং শমীক ভট্টাচার্যের মতো নেতারা সেখানে উপস্থিতি ছিলেন। সকাল থেকে দফায় দফায় সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন রাজ্যের বিভিন্ন অংশ থেকে আসা প্রতিনিধিরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২০ বছরের শাসনকাল- রাজনৈতিক জীবন নিয়ে ছিল বিশেষ সেমিনার।

অভিজিৎ নাহার মার সব্যসাচী রায় চৌধুরীকে
সন্ধের পরে হঠাৎই হো চি মিন সরণির আইসিসিআর-এর বাইরে উত্তেজনা। বিজেপি কর্মী অভিজিৎ নাহাকে দেখা যায় সব্যসাবী রায়চৌধুরী নামে এক ব্যক্তিকে মারধর করছেন। তিনি সব্যসাচী রায় চৌধুরীকে তৃণমূলের দালাল এবং তোলাবাদ বলেও আক্রমণ করেন। কোনও সময় হাত এবং কোনও সময় সব্যসাচী রায় চৌধুরীর কলার ধরে মারধরের ছবি ধরা পরে ক্যামেরায়। বিজেপি নেতাদের নাম করে সব্যসাচী রায় চৌধুরী বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা তুলেছেন বলে অভিযোগ করেন অভিজিৎ নাহা।
অন্যদিকে অভিজিৎ নাহার উদ্দেশে সব্যসাচী রায় চৌধুরী বলেন, তারা গরু চুরি করেন। তিনি বলেন শমীক ভট্টাচার্য ওকালত নামায় সই করতে তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছেন। সব্যসাচী রায় চৌধুরী বলেন, তিনি অ্যাডভোকেট। এর পরেও তাঁকে ধরে টানা-হ্যাঁচড়া চলে।

শমীক ভট্টাচার্যের প্রতিক্রিয়া
বাইরের মারধরের খবর যায় ভিতরে থাকা শমীক ভট্টাচার্যের কাছে। তিনি স্বীকার করে নেন, ওকালত নামায় সই করানোর জন্য সব্যসাচী রায় চৌধুরীকে ডাকা হয়েছিল। তিনি বলেন, কলকাতা পুরসভার নির্বাচনের আগে তাঁর সল্টলেকের বাড়িতে সব্যসাচী রায়চৌধুরীকে নিয়ে গিয়েছিলেন ওই অভিজিৎ নাহাই। সব্যসাচী রায় চৌধুরা সাবর্ণ রায় চৌধুরীর পরিবারের সদস্য বলেও জানান শমীক ভট্টাচার্য। এর বেশি কিছু বলবেন না বলে জানান তিনি।
মোদীর শাসনকাল নিয়ে অনুষ্ঠান, যেখানে প্রধান বক্তা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা প্রকাশ জাভড়েকর, সেইরকম এক অনুষ্ঠানে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মারামারি রাজ্য বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকেই আরও প্রকট করে দিল বলেও মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।












Click it and Unblock the Notifications