মোদীর দলে বন্দি ছিলেন, মমতা দিলেন মুক্তি! নতুন ঘরে এসে বিজেপিকে খোঁটা চন্দনের
রাজ্যে সচিব পর্যায়ে বড়সড় রদবদল করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বাস্থ্যসচিব অনিল ভার্মাকে সরিয়ে দেওয়া হল। তাঁর জায়গায় দায়িত্বে এলেন রাজীব সিনহা।
কথা দিয়েছিলেন সোমবার মুখ খুলবেন তিনি। কেন বিজেপি ছাড়লেন তা জানাবেন। কথা রাখলেন চন্দন মিত্র। বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ তৃণমূলে যোগ দিয়েই নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের বিরুদ্ধে উগরে দিলেন যাবতীয় ক্ষোভ। বললেন, নতুন ঘরে এসে নিজেকে মুক্ত লাগছে। এবার বাংলার জন্য কিছু করতে চাই। আর সেজন্য তৃণমূলের থেকে বড় মঞ্চ আর কী হতে পারে!

একুশের মঞ্চে উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল বিজেপি-ত্যাগী প্রাক্তন সাংসদ চন্দন মিত্রের। লালকৃষ্ণ আদবানির ঘনিষ্ঠ এই নেতা মোদী-শাহদের বৃত্তে স্থান পাননি। মেনে নিতে পারেননি বিজেপির বর্তমান নেতৃত্বের অনেক সিদ্ধান্তই। নোটবন্দি থেকে জিএসটি- সবকিছুতেই ছিল তাঁর তীব্র আপত্তি। তাই সমালোচনা করতে কখন পিছপা হননি। তাই তাঁকে আরও কোণঠাসা করে দেওয়া হয়েছিল দলে।
শেষমেশ ঘরবদল করলেন তিনি। নতুন ঘর পেয়ে একরাশ অভিযোগ বেরিয়ে এল বর্ষীয়ান নেতা চন্দন মিত্রের কণ্ঠ থেকে। তিনি বলেন, সরকারে এসে একের পর এক জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই কারণে যে জনপ্রিয়তা নিয়ে তিনি সরকারে এসেছিলেন, এই চার বছরে তা তলানিতে পৌঁছেছে। সম্প্রতি বিজেপির কার্যকলাপে তিনি খুশি নন।
চন্দনবাবু বলেন, আমি পদত্যাগপত্রের চিঠিতে লিখেছি, বিজেপি বর্তমানে ভুল পদক্ষেপ নিচ্ছে। সেই কারণেই উপনির্বাচনে একের পর এক হার স্বীকার করতে হচ্ছে। ধর্মান্ধতা বেড়ে গিয়েছে। সামাজিক পরিকাঠামোয় ভেঙে দিতে চাইছে বিজেপি। আদবানি, অটলবিহারীজির আমলের বিজেপির সঙ্গে আজকের মোদী-শাহদের বিজেপির আকাশ-পাতাল তফাৎ। এই য়ে অধঃপতন দেখা দিয়েছে, তা ভারতের বিবিধের মাঝে ঐক্যের চিরায়ত ধারা নষ্ট করে দিচ্ছে। তাই ওই দলে থাকতে আর মন চাইল না।
চন্দন মিত্র বলেন, এবার বাংলার জন্য কিছু করতে চাই। সেই স্বপ্ন নিয়েই তৃণমূলে যোগ দিয়েছি। আমি নিশ্চিত সেই সুযোগ আমি পাবো। বাংলায় জন্য কিছু স্বাক্ষর রেখে যাব। তার জন্য তৃণমূলের মঞ্চে এসেছি। নতুন ঘর পেয়ে আমি খুশি। দলনেত্রী যে দায়িত্ব দেবেন, তা পালন করব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বিজেপি-ত্যাগী এই প্রভাবশালী সাংসদকে কীভাবে ব্যবহার করে তার দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।












Click it and Unblock the Notifications