ভাদু শেখ হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার নিয়ে সংশয়, হাইকোর্টে প্রথম রিপোর্ট জমা দিয়ে কী জানাল সিবিআই
ভাদু শেখ হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার নিয়ে সংশয়, হাইকোর্টে প্রথম রিপোর্ট জমা দিয়ে কী জানাল সিবিআই
বীরভূমের রামপুরহাটে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ভাদু শেখের খুনের ঘটনার তদন্তের প্রথম রিপোর্ট কলকাতা হাইকোর্টে জমা দিল সিবিআই। আজই আদালতে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু রিপোর্ট জমা পড়লেও পরবর্তী প্রক্রিয়া কী হতে চলেছে। এবং সিবিআই এই তদন্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে চাইছে কিনা তা নিয়ে প্রবল সংশয় তৈরি হয়েছে।

বগটুই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত রিপোর্ট জমা
রামপুরহাটের বগটুই হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট হাইকোর্টে জমা দিল সিবিআই। সাত তারিখেই সিবিআইকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই সিবিআউ আজ রিপোর্ট পেশ করে। বগটুই কাণ্ডের রিপোর্টে সিবিআই আদালতকে জানিয়েছে, 'তদন্তভার নেওয়ার পরে বেশ কয়েকদিন কেটে গিয়েছে। ভাদু শেখের বাড়ি এবং বাড়ির আশপাশে মানুষ হাঁটাচলা করেছে, তথ্য প্রমাণ বেশিরভাগ নষ্ট হয়ে গিয়েছে।' এই মামলার তদন্তে টাওয়ার ডাম্পিং প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

ভাদু শেখের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে সংশয়
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ভাদু শেখের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিবিআই তদন্ত দাবি করে মামলা করেছিলেন আইনজীবী কৌস্তভ বাগচি। সেই মামলার তদন্তভার সিবিআই নিতে চায় কিনা জিজ্ঞাসা করেছিল আদালত। তাতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দুই আইনজীবী দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। অর্থাৎ দুই আইনজীবী দুরকম মত জানিয়েছে। কাজেই এই মামলায় সিবিআই তদন্ত হবে কিনা তা নিেয় সংশয় দেখা দিয়েছে। সিবিআই খুব একটা এই ঘটনার তদন্তভার নিতে রাজি নয় বলেই বোঝা গিয়েছে। রাজ্য সরকার কিন্তু ভাদু শেখ হত্যাকাণ্ডের তদন্তবার সিবিআইয়ের হাতে দিতে নারাজ।

আনারুলের নির্দেশেই বোমা-আগুন
রামপুরহাটের বগটুই গ্রামে নারকীয় ভাবে খুন করা হয়েছে ৯ জনকে। হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে বাড়িতে পুড়িয়ে মারা হয়েছে তাঁদের। তৃণমূল কংগ্রেস ব্লক সভাপতি আনারুল হোসেনকে এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই পুলিশ আনারুলকে গ্রেফতার করে। তারপরেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। আনারুল শেখের নির্দেশেই সেদিন বগটুই গ্রামে আগুন ধরানো হয়েছিল ৪-৫টি বাড়িতে। আনারুলের দুই শাগরেদ লালন এবং জাহাঙ্গিরের খোঁজ করছে পুলিশ। তাঁদের বাড়িতে ইতিমধ্যেই তল্লাশি চালিয়েছে সিবিআই।

স্ক্যানারে অনুব্রতও
এই ঘটনার পর তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকট হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জেরা করা হয়েছে রামপুরহাট থানার আইসিকে এবং এসডিপিওকে। ২ জনকেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে এই ঘটনায় বারবার তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের নাম উঠে আসছে। আনারুল হোসেনও অনুব্রত মণ্ডলের নাম করেছেন। তিনি বলেছেন অনুব্রত মণ্ডল তাঁকে ফাঁসিয়েছে। কাজেই চাপ বেড়েছে শাসক দলের তাতে কোনও সন্দেহ নেই।












Click it and Unblock the Notifications