কয়লা পাচার-কান্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়, রাজ্যের একাধিক জায়গায় তল্লাশি সিবিআইয়ের
বেশ কিছু নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকাল থেকে তল্লাশি শুরু করেছে সিবিআই। জানা গিয়েছে, কলকাতা, পুরুলিয়া, আসানসোল, পশ্চিম বর্ধমান ও বাঁকুড়ার মোট ১০ জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি। আরও বেশ কয়েক
কয়লা পাচার-কান্ডে নয়া মোড়। ফের বাংলায় তল্লাশি অভিযান কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের। রাজ্যের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারিকরা। ভোটের আগে বাংলায় কয়লা, গরু পাচার-কান্ডের তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই।
ইতিমধ্যে শাসকদল ঘনিষ্ঠ একাধিক নাম উঠেছে। উঠে এসেছে একাধিক তথ্যও। ভোটের আগে সেই বিষয়টিকে সামনে এনে শাসকদলকে আক্রমণ শানাচ্ছে বঙ্গ বিজেপি। যদিও ভোটের আগে ফের একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

মোট ১০ জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা
বেশ কিছু নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকাল থেকে তল্লাশি শুরু করেছে সিবিআই। জানা গিয়েছে, কলকাতা, পুরুলিয়া, আসানসোল, পশ্চিম বর্ধমান ও বাঁকুড়ার মোট ১০ জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি। আরও বেশ কয়েকটি জেলাতেও এদিন হানা দিতে পারে সিবিআই। নতুন করে কয়লা কেলেঙ্কারি নিয়ে বেশ কিছু তথ্য হাতে এসেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। তা খতিয়ে দেখতেই সকালেই তল্লাশি অভিযানে নেমে পড়েন তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা।

গভীর রাতে লালার শ্বশুর বাড়িতে সিবিআই
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বাংলায় কয়লা কেলেঙ্কারির মুল পান্ডা অনুপ মাঝি ওরফে লালার শ্বশুরবাড়িতে হানা দেন সিবিআই গোয়েন্দারা। দীর্ঘক্ষণ সেখানে তল্লাশি অভিযান চালান তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। তল্লাশিতে সেখান থেকে একাধিক তথ্য পান তদন্তকারী আধিকারিকরা। সেই তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে আসানসোলে জয়দেব মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালান গোয়েন্দারা। পুরুলিয়ার সাতোরিযার বলিতোড়ায় লালা ঘনিষ্ট ব্যবসায়ী গুরুপদ মাজির বাড়ি ও অফিস সমেত চার জায়গায় হানা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকরা।

বাম আমলে কয়লা পাচারের গোটা সাম্রাজ্য ছিল জয়দেব মণ্ডলের হাতে
বাংলায় কয়লা কেলেঙ্কারির ঘটনা আজ নয়, বাম আমল থেকে কার্যত চলে আসছ। লোকে বলে একটা সময় বাংলায় জয়দেব মন্ডলই ছিল কয়লা কেলেঙ্কারির মুল পান্ডা। বিশেষ করে বাম আমলে তাঁর অঙ্গুলিহেলন ছাড়া কিছুই ঘটত না। যদিও এরপর ঘুরে জাউ খেলা। বাম জমানা শেষ হয়ে যাওয়ায় কিছুইটা কোণঠাসা হয়ে পড়েন ওই ব্যবসায়ী। এরপর ২০১১ সালে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকা থেকে জয়দেবকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স। তাঁর কাছ থেকে বেশ কিছু হাতিয়ারও বাজেয়াপ্ত করা হয়। যদিও পরে জামিন পেয়ে যান। তবে সেই ক্ষমতা আর হয়ে ওঠেনি। এখন জয়দেবের জায়গায় কয়লা সাম্রাজ্যের বাদশা হয়ে ওঠে লালা।

গুরুপদ মাজিও কয়লা কেলেঙ্কারির অন্যতম পান্ডা
পুরুলিয়ায় যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে গুরুপদ মাজির। বাংলায় কয়লা কেলেঙ্কারির মুল বাদশা লালার ঘনিষ্ঠ এই ব্যবসায়ী। শুহদু তাই নয়ম গুরুপদকে বেশ ভরসাও করত লালা। আর সেই কারণে টাকা পয়সা কম ছিল না। পুরুলিয়াতে রীতিমত বড় বাড়ি, সম্পতি রয়েছে তাঁর। সেই সমস্ত জায়গায় সিবিআই তল্লাশি শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও বাঁকুড়ার একাধিক জায়গায় এই মুহূর্তে তদন্তকারী আধিকারিকরা তল্লাশি চালাচ্ছেন বলে খবর।

খোঁজ নেই লালার
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তের প্রায় কয়েক মাস কেটে গিয়েছে। কিন্তু এখনও খোঁজ নেই লালার। একাধিকবার তলব করা হলেও হাজিরা দেয়নি সে। জারি করা হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানাও। কিন্তু এখনও পর্যন্ত লালার খোঁজ পাচ্ছেন না তদন্তকারী আধিকারিকরা। বিশেষ সূত্রে মাঝে মধ্যেই রাজ্যের একাধিক জায়গায় সিবিআই তল্লাশি চালালেও লালার খোঁজ পাচ্ছেন না। এদিকে লালা ও তার সঙ্গী রত্নেশ ভার্মা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য আসানসোলের সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে আবেদন জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি।












Click it and Unblock the Notifications