পার্থ-পরেশের পরে এবার অরূপ রায়! একের পর এক 'ভাইপো'কে নিয়োগের অভিযোগ, মামলায় নিশানা মন্ত্রীকে
পার্থ-পরেশের পরে এবার অরূপ রায়! একের পর এক 'ভাইপো'কে নিয়োগের অভিযোগ, মামলায় নিশানা মন্ত্রীকে
এবার নিয়োগ দুর্নীতিতে (recruitment scam) জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ মন্ত্রী অরূপ রায়ের (arup roy) বিরুদ্ধে। সমবায় ব্যাঙ্কের (co operative bank) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের সমবায় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। যা নিয়ে হাইকোর্টে (High Court) মামলাও দায়ের হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করার কথা বলেছেন মন্ত্রী। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন।

শূন্যপদের দ্বিগুণ লোক নিয়োগের অভিযোগ
সূত্রের খবর অনুযায়ী, সমবায় ব্যাঙ্কে শূন্যপদের দ্বিগুণ লোক নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। বিজ্ঞপ্তিতে ৫২ টি শূন্যপদের কথা বলা হলেও এখনও পর্যন্ত ১৩৪ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। যা নিয়ে দায়ের হয়েছিল মামলা। মামলার অতিরিক্ত হলফনামায় উঠে এসেছে বিস্ফোরক সব তথ্য। নিশানায় রাজ্যের সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায়।

নিয়ম বহির্ভূত নিয়োগের অভিযোগ
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে রাজ্যের সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায় দু-দফায় নিয়ম বহির্ভূত নিয়োগের অনুমতি দিয়েছিলেন। যেখানে বলা হয়েছিল, কো-অপারেটিভ সার্ভিস কমিশন ছাড়াই ব্যাঙ্কে নিয়োগ করা যাবে। রাজ্যে সাধারণভাবে সমবায় ব্যাঙ্কগুলিতে নিয়োগ করে থাকে কো-অপারেটিভ সার্ভিশ কমিশন। আর এই সার্ভিস কমিশন ছাড়া নিয়োহ আইন বিরুদ্ধ।

ঘনিষ্ঠদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ
মূলত তমলুক-ঘাটাল সমবায় ব্যাঙ্কে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূলের নেতাদের ঘনিষ্ঠদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আদালতে জমা দেওয়া অতিরিক্ত হলফনামায় বলা হয়েছে মন্ত্রী অরূপ রায়ের ঘনিষ্ঠ সত্য সামন্তের বোন চাকরি পেয়েছেন। চাকরি পেয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি প্রয়াত দেবব্রত দাসের ভাইপো। এছাড়াও ওই ব্য়াঙ্কের চেয়ারম্যান গোপাল মাইতির ভাইপোকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্যাঙ্কের প্রাক্তন সিইও প্রণয় চক্রবর্তীর ভাইপোকেও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্যাঙ্কের অন্যতম কর্তা তপন কুমার কুইলার ছেলে এবং নিমাই অধিকারীর মেয়েকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে হলফনামায়।

তালিকায় গরমিল
জানা গিয়েছে সমবায় ব্যাঙ্কে ২০৩৫ জন আবেদন করেছিলেন। তাঁরা একটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে পরীক্ষার ফিও জমা দিয়েছিলেন। ফি জমার সেই তালিকায় ১০০ টির বেশি নাম ফাঁকা রাখার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও মেধাতালিকায় নাম না থাকা সত্ত্বেও অনেকে চাকরি পেয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঠিক যেমন অভিযোগ উঠেছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায়।

জনস্বার্থ মামলা ২০২১-এ
২০১৯-এ ব্যাঙ্কে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছিল। এরপর নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে ২০২১-এ জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। এবার সেখানেই অতিরিক্ত হলফনামা জমা পড়ল। যদিও এদিন নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অরূপ রায়। তিনি বলেছেন, দুর্নীতির কোনও অভিযোগ থাকলে তদন্ত হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তিনি কোনও প্রভাব খাটাননি বলেও দাবি করেছেন মন্ত্রী। তদন্তে যদি কেউ দোষী প্রমাণিত হয়, তবে তাঁর শাস্তির বন্দোবস্ত করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন অরূপ রায়।












Click it and Unblock the Notifications