এগিয়েও পিছিয়ে আসা! নতুন বিধিকে ফেল করিয়ে পড়ুয়াদের পাস করাল বিশ্ববিদ্যালয়
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুরোধ করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। সেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অঙ্গুলিহেলনেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ফের ফিরে গেল পুরনো নিয়মে।
একেই বলে এক পা এগিয়ে দু-পা পিছিয়ে আসা। নতুন বিধি চালু করে ফের অকৃতকার্য ছাত্রছাত্রীদের পাস করাতে পুরনো বিধিকেই আঁকড়ে ধরল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুরোধ করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। সেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অঙ্গুলিহেলনেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ফের ফিরে গেল পুরনো নিয়মে। সেইমতো পাস পেপারগুলিতে সাপ্লিমেন্টারি দেওয়ার নিয়ম বলবৎ হল ফের।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলেজগুলিতে এ বছর প্রথম বর্ষের অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীই ফেল করে। এরপরই পুরনো নিয়ম তুলে দেওয়া নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন ফেল করা ছাত্রছাত্রীরা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সহ উপাচার্য, রেজিস্টারকে নিয়ে বারবার বৈঠকে বসেও সমাধান সূত্র বের হচ্ছিল না। এরপরই হাওড়ার ডুমুরজলায় ছাত্র-যুব সমাবেশ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনার অনুরোধ করেন শিক্ষামন্ত্রীকে।
সেইমতোই শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। দফায় দফায় বৈঠকের পর সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয় ছাত্রছাত্রীদের যাতে নতুন করে একটি বছর নষ্ট না হয়, তার জন্য পুরনো নিয়মেই ফেরা হবে। পাস পেপারগুলি পাস না করলেও তাঁদের পরবর্তী ক্লাসে উত্তরনের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হবে না। সেই নিয়মে পাস পেপারগুলিতে ফের পরীক্ষা নেওয়া হবে। সেখানে অন্তত দুটি বিষয়ে পাস করতেই হবে।
তবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালেয়র এই সিদ্ধান্ত শিক্ষামহলে সমালোচিত হল এদিন। এই ঘটনাকে অনেকে সরকারের জনপ্রিয়তা অর্জনের সস্তা পদক্ষেপ বলেও ব্যাখ্যা করেন। এ বিষয়ে শিক্ষাবিদরা দুটি প্রশ্ন উত্থাপন করেন। এক, ফেল করার দায় ছাত্র-ছাত্রীদের। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মের কোনও ব্যাপার থাকতে পারে না। দুই, ছাত্রছাত্রীদের পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষিকারা কি সঠিক ভূমিকা নিয়েছিলেন? কিন্তু সেই প্রশ্নকে সরিয়ে এখন বড় করে দেখা হল একটা প্রতিষ্ঠানের নিয়মকেই। এটা সঠিক পদক্ষেপ নয় বলেই অধিকাংশের মত।












Click it and Unblock the Notifications