রিক্রুটমেন্ট কোরাপশনে আরও কড়া হাইকোর্ট! প্রাথমিকের নিয়োগ প্রক্রিয়া খারিজের হুঁশিয়ারি
প্রাথমিকের নিয়োগ প্রক্রিয়া খারিজ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার মন্তব্য, 'আসল ওএমআর শিট শনাক্ত করা না গেলে আদালত বাধ্য হবে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে দিতে।
তাঁর নির্দেশ, ওএমআর শিটের আসল ডেটা খুঁজে বার করতে হবে সিবিআইকে। ডিজিটাল ফুট প্রিন্ট কোথায় রয়েছে তার হদিস শুরু করুক কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থা। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে তাদের অতিরিক্ত রিপোর্ট দিয়ে সংক্ষেপে স্পষ্ট করে জানাতে হবে নিয়োগে কী ভাবে, কোথায় দুর্নীতি হয়েছে। এপ্রিলের শেষ সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

- ২০১৪-র টেটে কারচুপির অভিযোগ
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের টেটে কারচুপির অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের হয় হাইকোর্টে। রাহুল চক্রবর্তী-সহ কয়েক জন চাকরিপ্রার্থীর অভিযোগ, ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বেআইনি ভাবে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। ২০১৬-র পরে ২০২০-তেও ২০১৪ সালের টেটের ওপরে ভিত্তি করে নিয়োগ হয়েছে।
- চাই ডিজিটাইজড ডেটা
সোমবার বিচারপতি মান্থার পর্যবেক্ষণ, পর্ষদের দাবি সব ওএমআর শিট ডিজিটাইজড ডেটা হিসাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ২০১৯ সালে হেমন্ত চক্রবর্তী নামে এক পরীক্ষার্থীকে ওএমআরের প্রতিলিপি দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট থাকার কথা।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, তথ্য-প্রযুক্তি বিজ্ঞান বলছে ডেটা সহজে নষ্ট হয় না। এমনকি মুছে ফেললেও তা পুনরুদ্ধার সম্ভব। তাই ওএমআর শিটের ডেটাও পাওয়া যেতে পারে। বিচারপতি জানান, ওই সব ডেটা বা তথ্য সিবিআইকে খুঁজে বার করতে হবে। হার্ডডিস্ক, অন্য কোনও সূত্র বা আবার প্রয়োজনে পর্ষদও অফিসেও যেতে পারবে সিবিআই। বিচারপতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পৃথিবী থেকে মঙ্গলে গেলেও ডেটা পাওয়া সম্ভব। ওই ডেটা না পাওয়া গেলে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করতে বাধ্য থাকবে আদালত।
- পর্ষদের অবস্থান
২০১৪ সালের টেটের ওএমআর শিটের আসল বা হার্ডকপি নষ্ট করা হয়েছে বলে আদালতে ইতিমধ্যেই জানিয়েছে পর্ষদ। তাদের বক্তব্য, ডিজিটাইজড ডেটা হিসাবে ওই সব তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।
- এখনও চূড়ান্ত চার্জশিট বাকি
মঙ্গলবার সিবিআই জানিয়েছে, তদন্তে উঠে এসেছে ৩০৪ জনকে বেআইনি ভাবে নিয়োগ করা হয়েছে। চার্জশিট এবং অতিরিক্ত চার্জশিট ফাইল করা হয়েছে। আরও তদন্ত চলছে। চূড়ান্ত চার্জশিট দেওয়া এখনও বাকি আছে।
প্রাথমিকের ওএমআর শিট মামলাগুলি শুনেছিলেন হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি ইস্তফা দেওয়ার পর মামলাগুলি যায় বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার এজলাসে। মঙ্গলবার বিচারপতি মান্থা জানান, এই মামলায় সিবিআইয়ের অনেক রিপোর্ট এজলাসে আসেনি। হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে ওই সব রিপোর্ট এজলাসে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে করতে এদিন নির্দেশ দেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications