রাজ্যের আপত্তি অগ্রাহ্য! হাওড়ায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের রাম নবমীর শোভাযাত্রায় শর্তসাপেক্ষে অনুমতি হাইকোর্টের
প্রতিটি মানুষের নিজের মত বা ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী অনুষ্ঠান করার এবং তাতে যোগ দেওয়ার অধিকার রয়েছে। তাদের সেই কাজে বাধা দেওয়া যায় না। মন্তব্য কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সেনগুপ্তর। মাত্র ২০০ লোকের শোভাযাত্রা যদি পুলিশ সামাল দিতে না পারে তাহলে কিছু বলার নেই, বলেছেন তিনি।
বিচারপতি সেনগুপ্ত আরও বলেছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভিড় সামাল দেওয়ার নির্দেশ তিনি দিচ্ছেন। হাওড়ায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের রাম নবমীর শোভাযাত্রা নিয়ে রাজ্যের আপত্তিতে এমনটাই অবস্থান কলকাতা হাইকোর্টের। আদালতের বক্তব্য, রাজ্যের দাবি অনুযায়ী গত বছর এই শোভাযাত্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার লোক ছিল। একইসঙ্গে সেখানে মারাত্মক গোলমাল হওয়ায় এনআইএ তদন্ত চলছে।

কিন্তু এবার তারাই ২০০ লোক নিয়ে শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে। তাই এখানে আর রুট বদল বা লোক কমানোর মতো শর্ত দিতে নারাজ হাইকোর্ট। রাজ্যের আইনজীবী হাইকোর্টে জানান, শুধু হাওড়াতেই ১৭ টি শোভাযাত্রার অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। এবছর সরকারের হাতে এত ফোর্স নেই। তাই এই র্যালী বন্ধ করার আবেদন করা হচ্ছে।
এর প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশ, প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নিয়ে রাম নবমীর ওই শোভাযাত্রার ব্যবস্থা করবে রাজ্য। ২০০ লোক নিয়েই শোভা যাত্রা যাতে নিশ্চিত করে যায়, তার জন্য আগাম ঘোষণা করতে হবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদকে। প্রয়োজনে লিফলেট বিলি করে এই কথা জানাতে হবে, বলেছে হাইকোর্ট।
এর আগে একই শোভাযাত্রায় অঞ্জনি পুত্র সেনা নামের একটি সংগঠন যুক্ত থাকতো। মামলাকারীদের আইনজীবীর দাবি, এবার ওই সংগঠনের শোভাযাত্রা পরের রবিবার করা হবে।
আদালতের তরফে যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে
- শোভাযাত্রায় অনুমতি মাত্র ২০০ জনের।
- শোভাযাত্রা কোথাও দাঁড় করানো যাবে না।
- মিছিলে কোনও অস্ত্র রাখা যাবে না।
- কোনও প্ররোচনামূলক বক্তব্য রাখা যাবে না।
- রাজ্য চাইলে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে পারবে।
- বিই কলেজের এক নম্বর গেট থেকে রামকৃষ্ণপুর ঘাট পর্যন্ত শোভাযাত্রা করা যাবে।
- দুপুর তিনটে থেকে সন্ধে ছটা পর্যন্ত শোভা যাত্রা করতে পারবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।
- রামের মূর্তি রাখতে শোভাযাত্রায় একটি গাড়ি রাখার অনুমতি।












Click it and Unblock the Notifications