বসিরহাট লোকসভার ভোটের সব নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট
বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্র পরাজিত হয়েছিলেন। নির্বাচনে হিংসা হয়েছে। ভোট লুট চলেছে। একাধিক অভিযোগ তুলেছিলেন রেখা পাত্র। শেষ পর্যন্ত তিনি কলকাতা হাইকোর্টে এই বিষয়ে মামলা দায়ের করেছিলেন। বুধবার কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলায় বড় পদক্ষেপ করল।
বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে এই মামলা উঠেছিল। বুধবার এই মামলার শুনানি হয়। ইভিএম, ব্যালট, সিসিটিভি, ডিভিআর, নির্বাচনী সমস্ত কাগজপত্র সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। শুধু তাই নয়, মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে নোটিশ জারি করা হল।

অর্থাৎ, এবার এই মামলায় নির্বাচন কমিশন, সাংসদ হাজি নুরুল ইসলামও যুক্ত হলেন। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে ভোট লুট, ছাপ্পা, রিগিংয়ের অভিযোগ তুলেছেন রেখা পাত্র। কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একটা অংশ।
এবারের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে অন্যতম বড় ইস্যু ছিল সন্দেশখালির ঘটনা। নারীদের উপর নির্যাতন চলেছে। এই অভিযোগ রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব বার বার ভোটের প্রচারে করেছে। এলাকার সাধারণ মুখ প্রতিবাদী নারী রেখা পাত্রকে বিজেপি বসিরহাট কেন্দ্রে প্রার্থী করে। রেখা পাত্র হয়ে উঠেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রার্থী। মোদী নিজে টেলিফোনে রেখা পাত্রের সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলেছিলেন। ফলে এই বসিরহাট লোকসভা আসন ঘিরে যথেষ্ট রাজনৈতিক চর্চা চলেছে।
প্রচারে রেখা পাত্র যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছিলেন এলাকায়। কিন্তু ভোটের দিন তেমন ভাবে তিনি জায়গা পাননি। একাধিক জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেসের বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে। শেষ পর্যন্ত ইভিএম মেশিন তার পক্ষে রায় দেয়নি। তিন লক্ষের বেশি ভোটে বসিরহাট কেন্দ্রে হেরেছেন রেখা পাত্র। তারপরেই তৃণমূলের গাজোয়ার, ভোট লুটের অভিযোগ তিনি করেছেন। কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি।
কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি শুরু হল। সব পক্ষের জন্যই নোটিশ জারি হয়েছে। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications