Sandeshkhali: এভাবে কি গ্রেফতার করা যায়? নিরাপদ সর্দারকে জামিন দিয়ে রাজ্য পুলিশকে তিরস্কার বিচারপতির
১৭ দিন ধরে জেলে ছিলেন তিনি। কীভাবে এভাবে জামিন পাওয়ার পরেও গ্রেফতার করা যায়। সন্দেশখালির প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক নিরাপদ সর্দারের জামিন মঞ্জুর করে রাজ্য পুলিশকে তীব্র ভর্ৎসনা বিচারপতি
দেবাংশু বসাকের। তিনি প্রশ্ন করেছেন এভাবে কোনও নাগরিককে কি গ্রেফতার করা যায়?
গত ১৫ জানুয়ারি গ্রেফতার করা হয়েছিল সন্দেশখালির প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক নিরাপদ সর্দারকে। শাহজাহান শেখের সাগরেদ শিবু হাজরার অভিযোগের প্রেক্ষিতে গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁকে। বাঁশদ্রোণীর বাড়ি থেকে তাঁকে থানায় ডেকে এনে পুলিশ গ্রেফতার করে। ন্যাজাট থানার পুলিশ এসে নিরাপদ সর্দারকে গ্রেফতার করেছিল। শিবু হাজরা অভিযোগ করেছিলেন নিরাপদ সর্দার বিক্ষোভে প্ররোজনা দিচ্ছেন সন্দেশখালিতে।

এদিকে সন্দেশখালি তখন শিবু হাজরার গ্রেফতারির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছিল। তার বাড়িঘর ভাঙচুর করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাতে নাকি সিপিএম নেতা নিরাপদ সর্দার ইন্ধন দিয়েছিলেন। এদিকে নিরাপদ সর্দার দাবি করেছিলেন সেদিন তিনি বাঁকুড়ায় দলীয় কর্মসূচিতে ছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাঁর কোনও কথাই শুনতে রাজি হয়নি। তাঁকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এই নিয়ে বাঁশদ্রোণী থানায় তুমুল বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন বাম কর্মী সমর্থকরা।
এমনকী সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। এবং আজই তাঁকে জেল থেকে মুক্ত করতে হবে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। গোটা ঘটনায় জেলার পুলিশ সুপারের রিপোর্ট তলব। আজ জেল থেকে মুক্ত না হলে আদালত অবমাননার নোটিশ ইস্যু করা হবে বলেও পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন বিচারপতি।
১৭ দিন হেফাজতে রয়েছেন নিরাপদ সরদার। নিরাপদ সরদারের বিরুদ্ধে FIR দায়ের হয়েছে ৯ ই ফেব্রুয়ারি, আর পুলিশের কাছে অভিযোগ এসেছে ১০ ই ফেব্রুয়ারি। পুলিশ তো দারুন দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছে। তাচ্ছিল্য করে মন্তব্য করেন বিচারপতির। কীভাবে একজন নাগরিককে এভাবে হেফাজতে নিতে পারে পুলিশ ? প্রশ্ন বিচারপতি দেবাংশু বসাকের। কেন এই পুলিশ আধিকারিকদের এখুনি গ্রেফতার করা হবে না ? প্রশ্ন করেন বিচারপতি। এতদিন হেফাজতে আছেন। কে এই ক্ষতিপূরণ দেবে ? এটা অত্যন্ত বিস্ময়কর যে এই ধরনের একটা অভিযোগের ভিত্তিতে কীভাবে একজন নাগরিককে গ্রেফতার করা হল। পর্যবেক্ষণে রাজ্য পুলিশকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছেন বিচারপতি।
সন্দেশখালির প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক গতকাল অভিযোগ করেছিলেন যে সন্দেশখালিতে যে এই পরিস্থিতি চলছে দেদারে জমি দখল করা হচ্ছে তা তিনি বিধানসভায় একাধিকবার বলার চেষ্টা করেছেন। যখনই বলতে গিয়েছেন তখনই তাঁর মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ তিনি যে রাজ্য সরকারের কাছে সন্দেশখালির পরিস্থিতি পৌঁছে দিয়েছিলেন সেই দাবি করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications