এসএসসির নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড় রায় কলকাতা হাইকের্টের! প্রায় ২৬ হাজার জনের নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ

প্রায় সাড়ে তিনমাস শুনানির পরে অবশেষে স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রায় দিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ। এসএসসির গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, নবম দশম ও একাদশ-দ্বাদশের নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। চাকরিপ্রার্থীরা বলছেন, যেটা হয়েছে তা সংগঠিত অপরাধ।

মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরে কোনও চাকরি বৈধ নয় বলে জানিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। হাইকোর্টের নির্দেশে এদিন বাতিল হয়েছে প্রায় ২৬ হাজার জনের চাকরি। । মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরে যাঁরা চাকরি পেয়েছিলেন, চার সপ্তাহের মধ্যে টাকা ১২ শতাংশ সুদ-সহ ফেরত দিতে হবে আর ছয় সপ্তাহের মধ্যে এব্যাপারে ডিআই ও জেলাশাসকদের রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি ২৩ লক্ষ ওএমআর শিটের পুনমূল্যায়ন করে ফেলব প্যানেল প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

Calcutta HC give verdict on ssc recruitment corruption case

২৮১ পাতার নির্দেশে রয়েছে ৩৭০ টি অনুচ্ছেদ। এদিন রায়দান হয় নটি ইস্যুতে। সিবিআই নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে। যেসব আধিকারিক বাড়তি পদ তৈরি করেছিলেন, তাঁদেরকে গ্রেফতার করতে পারবে সিবিআই। এই মুহূর্তে স্কুল সার্ভিস কমিশন নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে।

হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১৬-র নিয়োগ প্যানেল পুরোটাই বাতিল করে দিয়েছে হাইকোর্ট। সব ওএমআর আপলোড করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি গাজিয়াবাদ থেকে উদ্ধার হওয়া হার্ডডিক্সকেও বৈধতা দেওয়া হয়েছে হাইকোর্টের রায়ে।

এই রায়ে ভোটের মুখে দুর্নীতি নিয়ে বড় ধাক্কা খেল তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যাবিনেট বাড়তি যেসব পদ তৈরি করেছিল, তাও বাতিল করেছে হাইকোর্ট। এই বতিলের মধ্যেও সোমা দাস নামে একজনকে মানবতার খাতিরে চাকরি দেওয়া হয়েছি, একমাত্র তার চাকরিই রয়েছে।

মামলা সুপ্রিম কোর্টে গেলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ তৈরি করে মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে ৬ মাসের মধ্যে। সেই মতো কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি শব্বর রশিদিকে নিয়ে ডিভিশন বেঞ্চ গঠন করা হয়। এরপরই শুরু হয় মামলার শুনানি। সেই শুনানি চলে প্রায় সাড়ে তিনমাস।

আদালতে নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলা চলছে বেশ কিছুদিন ধরে। শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি ও বেনিয়মের অভিযোগে এই মুহূর্তে জেলে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, এসএসসির প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্য, শান্তিপ্রসাদ সিনহার মতো প্রাক্তন শিক্ষাকর্তারা।

হাইকোর্টের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানিয়েছেন, এই সবকটি ক্ষেত্রে ২৪ হাজার ৬৪০ টি শূন্যপদ ছিল, দেখা যায় ২৫ হাজার ৭৫৩ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। অর্থাৎ অতিরিক্ত নিয়োগ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তিনি আরও জানান, এই সব ক্ষেত্রে ছিল একাধিক অভিযোগ রয়েছে। যেমন ‌র‌্যাঙ্ক জাম্প করে চাকরি দেওয়া, ওএমআর শিটে শূন্য বা ১ পাওয়া সত্ত্বেও চাকরি দেওয়া, তালিকায় নাম না থাকা প্রার্থীকে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই সব বিষয়গুলি শোনার পর সোমবার রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+