নিয়োগ দুর্নীতিতে নজিরবিহীন নির্দেশ! ৩৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিল করল কলকাতা হাইকোর্ট
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নজির বিহীন নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের। ৩৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিল। এদিন নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিন মাসের মধ্যে নিয়োগের নির্দেশ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে।
তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পরে প্রাথমিকে নিয়োগ হয়েছে ২০১২, ২০১৪, ২০১৬ এবং ২০২২ সালে। এর মধ্যে ২০১৬ সালে অ্যাপটিচিউড টেস্ট নেওয়া হয়েছিল কী হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্নে নিয়োগ দুর্নীতি সামনে আসে। সেখানে সংরক্ষণ প্রথা মানা হয়নি বলেও অভিযোগ ওঠে।

বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধায় নির্দেশে বলেছেন, যাঁরা অ্যাপটিচিউড টেস্ট দেননি, যাঁদের প্রশিক্ষণ নেই, তাঁদেরই চাকরি যাবে। ২০২৪-র নিয়োগের পরীক্ষায় ২০১৬ সালে নিয়োগের পর যাঁরা নিয়োগের প্রশিক্ষণ নিয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ নয় বলে জানানো হয়েছে।
নির্দেশে বলা হয়েছে, এখন থেকে তিনমাসের মধ্যে যেমন প্রাথমিক শিক্ষা পর্যদকে নিয়োগ সম্পূর্ণ করতে হবে। অন্যদিকে যাঁরা এই মুহূর্তে চাকরি করছেন, তাঁরা পরবর্তী চারমাস চাকরি করতে পারবেন। তবে তাঁরা পুরো নয়, পার্শ্ব শিক্ষকের বেতন পাবেন।

অ্যাপ্টিচিউড টেস্ট না নিয়ে কীভাবে নিয়োগ হয়েছে, তা জানতে বেশ কয়েকজন জন ইন্টারভিউয়ারকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সেখানেই উঠে এসেছিল হাজার হাজার পরীক্ষারাথীকে কীভাবে বেশি নম্বর দিয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর নির্দেশে বলেছেন, সরকার যদি মনে করে তাহলে নিয়োগের জন্য যে টাকা লাগবে, তা প্রাথমিক শিক্ষা পর্যদের তৎকালীন সভাপতি জেলবন্দি মানিক ভট্টাচার্যের থেকে নিতে পারে।
প্রসঙ্গত ২০২৬ সালে প্রাথমিকে নিয়োগ হয়েছিল প্রায় সাড়ে বিয়াল্লিশ হাজার। আদালত মনে করছে প্রায় সাড়ে ছয় হাজারজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অর্থাৎ ডিগ্রি রয়েছে। আবার যাঁদের চাকরি যাচ্ছে, তাঁরা ফের প্রাথমিকের নিয়োগের প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে পারবেন যদি যোগ্যতাসম্পন্ন হন। যাঁরা প্রশিক্ষণ নেননি তাঁরা চাকরির পরীক্ষায় বসতেই পারবেন না।












Click it and Unblock the Notifications