Buddhadeb Bhattacharjee: একতলায় দুকামরার স্যাঁতস্যাঁতে ঘর, জ্যোতি বসুর অনুরোধেই ছাড়েননি পাম অ্যাভিনিউর বাড়ি
সাদা ধুতি পাঞ্জাবীর গায়ে দুর্নীতির কালি কেউ ছেটাতে পারকেননি। এতোটাই স্বচ্ছ এবং সৎ ছিল রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ভাবমূর্তি। আর ততটাই সাধারণ ছিল তাঁর জীবন যাপন। উত্তর কলকাতায় জন্ম হলেও, পাম অ্যাভিনিউর বাড়িতেই থাকতেন তিনি।
ছোট্ট একটা দু কামরার ফ্ল্যাট। একতলা হওয়ায় স্যাঁত স্যাঁত করত মেঝে। তবে এই পাম অ্যাভিনিউ-র বাড়ি ছেড়ে বেরোতে চাননি তিনি। জ্যোতি বসু পর্যন্ত তাঁকে বলেছিলেন সেখান থেকে চলে আসার জন্য শোনেনি কারোর কথা। এমনকী সিওপিডির রোগী হওয়ায় বারবারই ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ত তাঁর। পাম অ্যাভিনিউর বাড়ির স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসতে বলেছিলেন চিকিৎসকরা। শোনেনি বুদ্ধবাবু।

ঘর জুড়ে ছিল তাঁর বই। লেনিন, কার্ল মার্কস, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুকান্ত ভট্টাচার্যের ছবি টাঙানে রংচটা দেওয়ালে। সেখানেই আইসিইউর মতো সেটআপ করে তাঁকে রাখা হয়েছিল। হাসপাতালে ভর্তি হতে চাইতেন না তিনি। খুব বাড়াবাড়ি হলে জোর করে চিকিৎসকরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতেন। একটু সুস্থ হলেই কতক্ষণে বাড়ি ফিরবেন তার জন্য বারবার চিকিৎসকদের কাছে বলতেন।
এই পাম অ্যাভিনিউর বাড়ি থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর পদের গুরুদায়িত্ব সামলেছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা তাঁর পাম অ্যাভিনিউর বাড়ি থেকে ছুটল সাদা অ্যাম্বাসাডার গাড়ি। বিকেল ৩টেয় ফিরে আসত সেটি। এই পাম অ্যাভিনিউ-র বাড়িতে বসেই একের পর এক বড় বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আজও সাদা অ্যাম্বাসাডার গাড়িটি দাঁড়িয়ে ছিল তাঁর বাড়ির সামনে। কিন্তু তার সওয়ারি চিরবিদায় নিল।
বুদ্ধবাবুর সততা আর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বাংলার রাজনৈতিক মহলে বরাবরই ছাপ ফেলে গিয়েছে। আজও সেই সততার দেখা মেলে না। তাই আজও ছাত্র যুবাদের কাছে তিনি সততার প্রতীক। বুদ্ধবাবুর প্রয়াণ বাম জমানার এক অধ্যায়ের অবসান ঘটাল। তবে তিনি প্রমাণ করে গিয়েছিলেন বাংলাকে শিল্পবান্ধব করে তোলার নীতি তাঁর ভুল ছিল না।
মুখ্যমন্ত্রী পদে সেসময়ে বেতন ছিল ১০ হাজার টাকা। আর সাদা একটা অ্যাম্বাসাডার গাড়ি। এই দুটি ছাড়া কোনও দিন কোনও বাড়তি সুবিধা তিনি নেননি। এমনকী তাঁর পরিবারের কারোর জন্য কোনও সুবিধা তিনি নেননি ক্ষমতায় থাকতেও। আতিশয্যে তাঁর প্রবল আপত্তি ছিল। কোনও দিন চাইতেন না তাঁর জন্য কারোর কোনও অসুবিধা হোক।
মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরে যাওয়ার পরেও তিনি ছিলেন বামপন্থী কর্মী সমর্থকদের কাছে অনুপ্রেরণা। রাজনৈতিক সৌজন্যের উদাহরণ ছিলেন তিনি। কোনও দিন বিরোধীদের বিরুদ্ধে কোনও খারাপ মন্তব্য করতে শোনা যায়নি তাঁর মুখে। তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকতেও তাঁর বেঁচে থাকাটাই ছিল বাম ছাত্র যুবদের কাছে অনুপ্রেরণা। মীনাক্ষী-সৃজনরাও বারবার ছুটে যেতেন তাঁর কাছে।












Click it and Unblock the Notifications