ব্রিগেডে বিজেপি-তৃণমূলের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াইয়ের ডাক বাম নেতৃত্বের
কলকাতা, ২৭ ডিসেম্বর : বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণের মধ্য দিয়েই এদিন ব্রিগেড সমাবেশ শুরু ও শেষ করল বাম নেতৃত্ব। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যে তৃণমূল সরকারকে সমূলে উৎখাতের ডাক দিলেন বাম নেতারা।
এদিন বামেদের ব্রিগেড সমাবেশে অন্তত দশ লক্ষ লোক হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন সিপিএম নেতারা। লোকসমাগম কতো হয়েছে তা জানা না গেলেও ভরা ব্রিগেডের জনসমাগমই দেখেই আগামী বিধানসভা ভোটে আত্মবিশ্বাসী লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন বাম নেতারা। ব্রিগেড সভা থেকেই ভোটের দামামা বাজিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে রাজ্য নেতৃত্ব ও পলিটব্যুরোর সদস্যরা।

রাজ্য তৃণমূল একেরপর এক সন্ত্রাস চালাচ্ছে। নারী নিরাপত্তা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। কৃষকদের অবস্থা সঙ্গীন, সিন্ডিকেটরাজ, চিচফান্ডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক দেওয়া এমনকী ক্ষেতমজুরদের দুর্দশার কথাও শোনা গিয়েছে বাম নেতাদের মুখে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার দেশের সাম্প্রদায়িকতাকে নষ্ট করছে। এমনকী এই রাজ্যের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সংখ্যালঘু উন্নয়নের নামে মানুষকে বোকা বানাচ্ছে বলেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বাম নেতারা।
তবে এদিন রাজ্য তথা কেন্দ্রের আর এক বিরোধী দল কংগ্রেসকে নিয়ে একটিও শব্দ উচ্চারণ করেননি বাম নেতৃত্ব। কংগ্রেসের সঙ্গে বামেরা কি আদৌও জোটে যাবে। এদিন ব্রিগেড সমাবেশে নেতৃত্ব কি উত্তর দেয় তার অপেক্ষায় ছিল দলের একাংশ। তবে এই ব্যাপারে এদিনই মুখ খোলেননি নেতৃত্ব। বরং সুকৌশলে জোটের ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন।
কেন্দ্রে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যেমন এগিয়ে কংগ্রেস তেমন এই রাজ্যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন সিপিএম নেতৃত্ব। আর এক্ষেত্রে কংগ্রেসের বিরোধিতা না করে আগামিদিনে জোটবার্তার পক্ষেই নীরবে সম্মতি দিল বাম নেতৃত্ব। এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের।
এই রাজ্যের কংগ্রেস নেতারা যে আর কোনওভাবেই তৃণমূলের সঙ্গে জোটে যেতে চাইছেন না তা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানিয়ে দিয়েছেন অধীর চৌধুরীরা। বরং মমতা সরকারকে উৎখাত করতে সিপিএম সহ বামেরাই রয়েছেন তাদের পছন্দের তালিকায়। অন্যদিকে সিপিএমও এদিন কংগ্রেস প্রসঙ্গে মুখ না খুলে পাল্টা জোটের প্রাথমিক সম্মতি দিয়ে রাখল বলেই মত রাজনীতির কারবারিদের।
বস্তুত, দলের একটা বড় অংশের মতে, একক শক্তিতে বিধানসভা ফের দখল করার মতো জায়গায় নেই বামেরা। তাই কংগ্রেসের মতো ধর্ম নিরপেক্ষ দলের সঙ্গে জোট বাঁধলে সবদিকই রক্ষা পাবে। এমতাবস্থায় আগামিদিনে দুই দল জোট বা আসন সমঝোতার রাস্তায় হাঁটে কিনা সেটাই এখন দেখার।












Click it and Unblock the Notifications