মমতার সঙ্গে জোট বাঁধছেন দিলীপও, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘লড়াই’-এ এককাট্টা শাসক-বিরোধী
শুধু বিজেপিই নয়, সমস্ত বিরোধী দলই শাসকদলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বার্ন স্ট্যান্ডার্ড বাঁচাতে চিঠি লিখছে।
রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে রাজ্যের তৃণমূল সরকারের সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে কোনও বাধা নেই রাজ্য বিজেপির। এমনকী কেন্দ্রের বিরুদ্ধেও তাঁরা রাজ্য সরকারের পক্ষে দাঁড়াবে বলে সাফ জানিয়ে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। শুধু বিজেপিই নয়, সমস্ত বিরোধী দলই শাসকদলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বার্ন স্ট্যান্ডার্ড বাঁচাতে চিঠি লিখছে। শাসক দল ও বিরোধীরা এক হয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামিল।

উদ্দেশ্য বার্ন স্টান্ডার্ডের পুনরুজ্জীবন। রাজ্যের শিল্পরক্ষার স্বার্থে কোনওপক্ষই রাজনীতি করতে চায় না, তা স্পষ্ট হয়ে গেল এদিন। রাজ্যের দাবি, রেল বরাত দিলেই বাঁচবে বার্ন স্ট্যান্ডার্ড। সেই মর্মেই কেন্দ্রকে চিঠি লিখল রাজ্য। বিজেপিও এই লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পাশে রয়েছেন বলে জানান বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
এর আগে বার্ন স্ট্যান্ডার্ড বাঁচাতে বিধানসভায় প্রস্তাব এনেছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের সেই প্রস্তাবনার সঙ্গে সহমত হয়নি বাম ও কংগ্রেস। তারা বার্ন স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে সহায়ক শিল্পগুলোকে বাঁচানোর দাবিও সংযোজন করার আবেদন করেছিলেন। সেই পরিমার্জন প্রস্তাব মেনেই বিধানসভায় আলোচনা স্থির হয়।
বিজেপির বিধায়ক তথা রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গেও এই মর্মে আলোচনা করেন পরিষদীয় মন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান, বার্ন স্ট্যান্ডার্ড পুনরুজ্জীবনের জন্য রাজ্যের তরফে কেন্দ্রের কাছে চিঠি পাঠাচ্ছি আমরা। রাজ্যের স্বার্থে, শিল্পের স্বার্থে বিজেপিকেও এই প্রস্তাবনায় সমর্থনের আর্জি জানান তিনি।
পার্থবাবুর এই আর্জির পর দিলীপ ঘোষ বলেন, তিনি প্রস্তাবনা পড়ে দেখার পর আলোচনা সাপেক্ষে তাঁদের সিদ্ধান্ত জানাবেন। কংগ্রেস সিপিএম আগেই রাজ্যের এই প্রস্তাব মেনে নেয়। আর দিলীপবাবুও প্রস্তাবনা পড়ে দলগত আলোচনা শেষে জানান, আমরাও পুনরুজ্জীবনের পক্ষে। রাজ্যের শিল্পের স্বার্থে আমরা চাই পুনরুজ্জীবন হোক বার্ন স্ট্যান্ডার্ডের। তবে তিনি জানান, যে ভাষায় এই প্রস্তাবনা লেখা হয়েছে, আমরা তার বিরোধিতা করছি।
দিলীপবাবু বলেন, প্রস্তাবনায় কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনা-অবিচারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্র রাজ্যের সঙ্গে কোনও বঞ্চনা করছে না। বাংলা ছাড়া অন্য রাজ্যেও অনেক রুগ্নপ্রায় শিল্পের ঝাঁপ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কংগ্রেস সরকার ভোটের সময় লাভ-লোকসান না দেখে এইসব শিল্প তৈরি করেছে। তারই ফল ভোগ করতে হচ্ছে। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেন। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে থাকার আহ্বান জানান।
এরপর পার্থ চট্টোপাধ্যায় দিলীপ ঘোষের উদ্দেশ্যে বলেন, 'কেন অহেতুক বিরোধিতা করছেন। আমরা সবাই এক হয়ে কেন্দ্রের কাছে চিঠি পাঠাচ্ছি। আপনারাও আসুন। আপনি কেন বিরোধিতা করছেন। রাজ্যে আপনি একক দল হয়ে যাচ্ছেন এই ব্যাপারে। সমস্যা থাকবে, তা নিয়েই এগোতে হবে। আমাদের একটাই প্রশ্ন লাভজনক সংস্থা কেন বন্ধ করা হবে? এরপরই রাজ্যের প্রস্তাব মেনে নেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও।
দিলীপবাবু বলেন, রাজ্যে সরকারের উচিত রাজ্যের স্বার্থেই কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কথা বলা। রাজ্যেরে শিল্পের স্বার্থের আমরা সবসময় রাজ্যের পাশে আছি। সেইসঙ্গে রাজ্যকে এটাও মাথায় রাখা উচিত, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতা করে রাজ্যের ভালো কাজ করা যায় না। এখন তো রাজ্যের কাজই হয়েছে কেন্দ্রের বিরোধিতা করা। এটা রাজ্যের পক্ষে ভালো ইঙ্গিত নয়।












Click it and Unblock the Notifications