দিলীপের সমর্থনের ডাক সিপিএমকে, বঙ্গে 'বাম-রাম সঙ্গ' নিয়ে সুর চড়াচ্ছে তৃণমূল
তৃণমূল বাম-রাম জোটের অভিযোগ করে আসছিল দীর্ঘদিন। এমনকী কংগ্রেসও সেই জোটে সামিল হয়েছে বলে অভিযোগ ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
বঙ্গে বাম-রাম জোটের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছিল তৃণমূল। এমনকী কংগ্রেসও সেই জোটে সামিল হয়েছে বলে অভিযোগ ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সম্প্রতি বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ তৃণমূলকে ঠেকাতে সব দলকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান। আর তাতেই তৃণমূলের জগাই-মাধাই-বিদাই তত্ত্ব আবার মান্যতা পেল। তৃণমূলের অভিযোগের জুৎসই জবাবও হারাল বামেরা।

এবার পঞ্চায়েতের নিচুতলায় বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএম তথা বামফ্রন্ট একজোট হয়ে লড়াই করেছিল বলে নানা ছবি স্পষ্ট হয়েছিল। বোর্ড গঠনেও সেই চিত্র ধরা পড়ছে রাজ্যে। এবার বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সরাসরি আহ্বান জানালেন বিরোধীদের উদ্দেশ্যে। বেশ কিছু পঞ্চায়েতে বাম-রাম এক হয়ে বোর্ড গঠন করেছে। আর তাতেই উৎসাহিত বিজেপি।
যত দিন গড়াচ্ছে ততই ত্রিশঙ্কু পঞ্চায়েতগুলোর অধিকাংশতেই বিজেপি ও সিপিএম তথা বামেদের এক হতে দেখা যাচ্ছে।
কিছুক্ষেত্রে কংগ্রেসও সামিল তৃণমূল বিরোধী মহাজোটে। আর তা দেখেই ফের সুর চড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল কংগ্রেস মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, যেটা এতদিন কম্বলের নিচে ছিল, সেটা এবার কম্বলের উপরে উঠে এল। বিজেপির নেতৃত্বে সিপিএম তথা বামেরা এবং কংগ্রেসও একই অবস্থান নিল। তিন দলের পতাকা এখন একসঙ্গে উড়ছে।
বিজেপি এবার গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে নজরকাড়া সাফল্য পেয়েছে। আর তার সূত্র ধরেই বহু গ্রাম পঞ্চায়েত ত্রিশঙ্কু হয়েছে। সেখানে বিজেপির লক্ষ্য সিপিএম, বামফ্রন্ট, কংগ্রেস, নির্দল, বিক্ষুব্ধ তৃণমূলকে এক জায়গায় আনা। সেই লক্ষ্যে অনেকটাই সফল বিজেপি। এভাবেই পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, নদিয়া প্রভৃতি জেলায় অনেক বোর্ডই গঠন করেছে তারা।
তাই দিলীপ ঘোষ খোলাখুলি আহ্বান জানিয়েছেন সবাইকে। বলেছেন বাংলার মানুষই চাইছেন না, কোনওভাবে তৃণমূলের হাতে ক্ষমতা যাক। সবাইকে নিয়ে তৃণমূলকে ক্ষমতার বাইরে রাখাই তাঁর বক্তব্যের উদ্দেশ্য। কিন্তু দিলীপের এই আহ্বান অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে সিপিএম নেতৃত্বের। সিপিএম রাজ্য নেতৃত্ব পঞ্চায়েত ভোটের সময় এই অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু আবার সেই অস্বস্তি ভিড় করছে বিমান বসু-সুজন চক্রবর্তীদের। এখন তাঁদের যুক্তি সিপিএম কর্মীদের একাংশের এই উদ্যোগকে অনুমোদন দিচ্ছে না আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। সুজন চক্রবর্তী জানিয়েছে, দিলীপ ঘোষদের কোনও নীতিজ্ঞান নেই। ওনারা আহ্বান জানাতেই পারেন। কিন্তু বামপন্থীরা কোনওভাবেই ওঁদের সঙ্গে সহমত নন।
দিলীপ ঘোষ অবশ্য সিপিএমের এই ছেঁদো যুক্তির ধার ধারছেন না। তাঁর সাফ কথা, ওসব কথা মানবেন না নিচুতলারকর্মীরা। বোর্ড গঠনেও কোনও প্রভাব পড়বে না। কেননা সিপিএম কর্মীরা জানেন তৃণমূলকে ঠেকাতে বিজেপির হাত ধরতে হবে। তা না হলে তৃণমূলকে আটকানো যাবে না। গ্রাম-বাংলার সাধারণ বামকর্মীদের এমনটাই মনোভাব।












Click it and Unblock the Notifications