রাজ্যপালের হস্তক্ষেপে সরকার ও আন্দোলনকারীদের আলোচনায় বসা উচিত! অনুব্রত মণ্ডলকে নিয়ে মমতাকে নিশানা দিলীপের
ডিএ নিয়ে আলোচনায় রাজ্যপালকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নেওয়ার দাবি তুললে বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি দিলীপ ঘোষ। এদিন তিনি বলেন, আগামী ভোটের আগে বিরোধীদের অর্ধেক নেতাই জেলে চলে যাবে।
ডিএ নিয়ে সরকারি কর্মীদের অনশনের মধ্যেই তাঁদের ডেকে পাঠিয়ে এদিন কথা বলেছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। আর এদিনই দিল্লি যাওয়ার সময় হাওড়া স্টেশনে এব্যাপারে রাজ্যপালের মধ্যস্থতার সওয়াল করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সূত্র বেরোতে পারে।

রাজ্যপালের মধ্যস্থতায় আলোচনা
দিল্লি যাওয়ার পথে হাওড়া স্টেশনে দিলীপ ঘোষ বলেন, রাজ্যপালের হস্তক্ষেপে সরকার এবং সরকারি কর্মীদের আলোচনায় বসা দরকার। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সূত্র বেরতে পারে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি। দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, সরকার তার কর্মীদের কথা শুনছে না। চিরকুট দিয়ে বাজেটে ডিএ ঘোষণা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কেন ৬ শতাংশ ডিএ তারা দিতে পারছে না তা নিয়ে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, আদালত ডিএ-র কথা বলেছে। কর্মীদেরও ধর্মঘট করার অধিকার আছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, সরকার তাদের দিয়ে সব রাজনৈতিক কাজ করাচ্ছে অথচ তাদের কথা শুনছে না। তাই মানুষের যাতে অসুবিধা না হয়, সেই জন্য রাজ্যপালের হস্তক্ষেপে কথা শুরু হওয়া উচিত।

প্রসঙ্গ অনুব্রত মণ্ডল
অনুব্রত ইস্যুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন, বীরভূমের তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের লটারির জেতা এখন ইডির আতসকাচের তলায়। এদিন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, একজন বারবার প্রথম পুরস্কার পাচ্ছে তাহলে তা সন্দেহের কারণ আছে। ৬০ লক্ষ টাকার টিকিট ৮০ লক্ষ টাকায় কেনা হয়েছে। আসলে মুখ্যমন্ত্রীর আশীর্বাদ তাঁর মাথায় থাকার কারণে তিনি একের পর এক অপরাধমূলক কাজ করে গিয়েছেন। এখন তদন্ত হওয়ায় সবকিছু বেরিয়ে আসবে।

শিশু মৃত্যুতে বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি করে তদন্ত করার দাবি
অ্যাডিনো ভাইরাসের জেরে এখন শিশু মৃত্যু হয়েই চলেছে। এব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ বলেন, রাজ্য সরকার দিশেহারা। নেতা বাঁচবেন না মন্ত্রী, সেখানে বাচ্চাদের কথা মনে নেই। রাজ্য সরকারের উচিত একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি করে গোটা ঘটনার তদন্ত করা। রাজ্য সরকার দারি করেছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এ ব্যাপারে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, সরকার সব সময় বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। কিন্তু মানুষ দেখছে শিশুদের জন্য বেড নেই, ওষুধ নেই, শিশুদের চিকিৎসা ঠিক মতো হচ্ছে না। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা চাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

লোকসভায় বিজেপি জিতবে
বিরোধী নেতাদের বাড়িতে সিবিআই এবং ইডি অভিযান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, দিলীপ ঘোষ বলেন, প্রতিবার ভোট এলেই বিরোধীরা নানা ইসুতে শোরগোল তোলার চেষ্টা করে। আগে পেগাসাস-সহ নানা ইস্যুতে চেঁচামেচি করেছিল। এবার সিবিআই-ইডিকে নিয়ে বলছে। তিনি বলেন, সিবিআই বা ইডি যেখানেই যাচ্ছে সেখানেই টাকা উদ্ধার হচ্ছে। এই টাকা বিরোধীরা পেয়েছে চাকরি বিক্রি করে অথবা জমি বিক্রি করে। এটা মানুষের সামনে পরিষ্কার। আগামী ভোটের আগে বিরোধীদের অর্ধেক নেতা জেলে চলে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দিলীপ ঘোষ বলেন, বিরোধীরা মোদীর সঙ্গে পেরে উঠছে না, পিছু হটছে। আগামী লোকসভা ভোটেও বিজেপি জিতবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications