কলকাতা পুরভোটের আগে হেস্টিংস থেকে নির্বাচনী দফতর ফিরল ‘পয়া’ মুরলিধর সেন লেনে
কলকাতা পুরভোটের আগে হেস্টিংস থেকে নির্বাচনী দফতর ফিরল ‘পয়া’ মরলিধর সেন লেনে
২০১৯-এ লোকসভায় ২ থেকে সাংসদ সংখ্যা ১৮ বাড়িয়ে ২০২১-এ বাংলা জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল বিজেপি। সেই স্বপ্নকে সফল করতে কোমর বেঁধে ২০২১-এর নির্বাচনে লড়েছিল গেরুয়া শিবির। মুরলিধর সেন সেলেন ঘিঞ্জি এলাকা থেকে নির্বাচনী কার্যালয় স্থানান্তর হয়েছিল হেস্টিংসে। কিন্তু স্বপ্ন অধরাই রয়ে গিয়েছে গোহারা হারের ফলে। এবার তাই ফের পুরনো অফিসেই ফিরছে বিজেপি।

আসলে ঝাঁ চকচকে হেস্টিংয়ের হাউস যা দিতে পারেনি, তার থেকে অনেকবেশি দিয়েছিল মুরলিধর সেন লেনের ঘিঞ্জি কার্যালয়। তাই সেই পয়া কার্যালয়েই নির্বাচনী দফতর স্থানান্তর করে আসন্ন পুরসভা নির্বাচনে লড়তে চলেছে বিজেপি। বিজেপি চাইছে তৃণমূলকে হারিয়ে ছোটো লালবাড়ি দখল করতে। সেই কাজ হবে শ্যামাপ্রসাদের স্মৃতিবিজড়িত অফিস থেকেই।
পুরভোটের ওয়াররুম বদল করে বিজেপি কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল তৃণমূলকে। আসলে বিজেপির একাংশ মনে করছে হেস্টিংসের আগরওয়াল হাউস তাঁদের জন্য ভালো স্মৃতি বয়ে আনতে পারেনি। এরপ্রকার অপয়াই ওই অফিস। সেই কারণে এগিয়ে থেকেও তাঁরা জিততে পারেনি বিধানসভা ভোটে। লোকসভার ভোটের নিরিখে ১২১টি আসনে বিজেপি এগিয়েছিল। কিন্তু বিধানসভায় ৭৭-এই থেমে যেতে হয় তাদের।
তাই ফিরে আসার লড়াইয়ে হেস্টিংয়ের বিলাস-বৈভব ছেড়ে মুরলিধরের সাবেকিয়ানাকেই আশ্রয় করল বিজেপি। বিজেপি গত পুরসভার ভোটে ২০১৫ সালে সাতটি আসনে জিতেছিল। তখন বিজেপির কোনও হাওয়া ছিল না। ২০১৭ সালের পর থেকে বঙ্গে বিজেপি বাড়তে থাকে। এই হাওয়ায় ভর করে ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত বা ২০১৯ সালের লোকসভায় প্রভূত সাফল্য পায় বিজেপি।
এবার সেই সাফল্যের সরণিতেই বিজেপি ফিরতে চাইছে লড়াইয়ে। নবান্ন দখলের স্বপ্ন যে অফিস থেকে শুরু হয়েছিল, সেই অফিসে এসেই ফিরে আসার লড়াই লড়তে চায় সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিজেপি। হেস্টিংসে যাওয়ার পর থেকে তাঁদের ভালো কিছু হয়নি। দলে বেনোজলরা ঢুকেছিল, তা বেরিয়ে গিয়েছে অনেকটাই, এবার শুদ্ধ হয়ে পুরনো অফিস থেকেই নতুন পথের দিশারি হতে চাইছে বিজেপি।
জনসঙ্ঘের আমল থেকে মুরলিধর সেন লেনের অফিস চলছে। বাংলার পদ্ম-রাজনীতির বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী এই অফিস। বিজেপি বিধানসভায় পরাজিত হওয়ার পর থেকেই আগরওয়াল হাউসের বিভিন্ন তলা ছাড়তে শুরু করেছিল। তিনটি তলা ছাড়ার পর এখন ন-তলায় শুভেন্দু-দিলীপসহ কয়েকজন নেতার ঘর রয়েছে। তবে সে অর্থে যাতায়াত নেই আর। তাই ফের সাবেক অফিসেই ফিরতে চাইছে বিজেপি। নতুন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার আসার পর পুরনো অফিসই গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন অফিসে তাঁর কোনও ঘরও নেই, তিনি কোনওদিনও যানওনি।












Click it and Unblock the Notifications