দেউচায় প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ! মমতার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন বিজেপি সাংসদের
পুজোর পরে দেউচা পাচামি কোল ব্লকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীরর অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।
পুজোর পরে দেউচা পাচামি কোল ব্লকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীরর অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। বুধবার এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যা। কিন্তু এই আমন্ত্রণের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন বিজেপি সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত। সেখানে এই কোল ব্লক সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

কয়লা ব্লকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ
প্রধানমন্ত্রীকে রাজ্যে আমন্ত্রণ প্রসঙ্গে দেউচা-পাচামিকে সামনে রেখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কয়লাখনিটি ভবিষ্যতে ভারতের বৃহত্তম কয়লা খনি হবে। কাজ শুরু হলে বাংলায় পরবর্তী ১০০ বছরে কয়লার অভাব হবে না। ২, ১০২ মিলিয়ন টন কয়লা মজুত রয়েছে সেখানে। দিন কয়েক আগে সেখানকার কাজ পর্যবেক্ষণে মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার। কমিটিতে ডিজিপি, জেলা পরিষদ, স্থানীয় পঞ্চায়েতকেও রাখা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ শুরু করার আগে বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট দেখা হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সবপক্ষের সঙ্গে কথা বলেই রিপোর্ট তৈরি করা হবে। সপ্তাহখানেক আগে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, এই প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে ১২ হাজার কোটির বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কাজ শুরু হতে ৫ বছর সময় লাগবে।
বুধবার মুখ্যমন্ত্রী জানান, দেউচা-পাচামির কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীকে। পুজোর পর প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সঙ্গে কথা বলে দিন ঠিক করা হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

বিজেপি সাংসদের চিঠিতে অনিশ্চয়তা
বুধবার প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানোর পর থেকে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দফতরের বিবেচনাধীন ছিল। কিন্তু এদিন সকালে বিজেপি সাংসদ স্বপন দাশগুপ্তের চিঠি প্রকাশের পর থেকে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর যোগ দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা শুরু হয়েছে। চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দুপাতার চিঠিতে স্বপন দাশগুপ্ত উল্লেখ করেছেন, প্রকল্পটি একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্প চালু হলে, তার পরিবেশগত কিংবা সামাজিক প্রভাব কী হবে, তা এখনও খতিয়ে দেখা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি জায়গাটি আদিবাসী প্রধান। স্থানীয় আদিবাসীরা এই প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি এই প্রকল্পে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কোনও পুনর্বাসন নীতিও তৈরি হয়নি বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

বীরভূমের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ
চিঠিতে বীরভূমের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি বলেছেন রাজনৈতিক হিংসার গ্রাসে চলে গিয়েছে বীরভূম। পাশাপাশি পুলিশি অত্যাচারেরও
অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীকে সামনে রেখে কাজ হাসিলের চেষ্টা
যেখানে প্রকল্পের জরুরি ছাত্রপত্র যোগার হয়নি, এমন পরিস্থিতিতে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে উপস্থিত করে, এই প্রকল্পের বিভিন্ন জটিলতা পশ্চিমবঙ্গ সরকার ঝেড়ে ফেলতে চাইছেবলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। প্রকল্প নিয়ে পরবর্তী কালে কোনও খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হলে যাতে কেন্দ্রের দিকে বিষয়টি ঠেলে দেওয়ার যায়, সেই রকম উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা তা নিয়েসন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিজেপি সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত।












Click it and Unblock the Notifications