মমতাকে খুনের চক্রান্তে ‘উদ্বিগ্ন’ নেতাদের নানা প্রশ্নবাণ, নিরাপত্তায় দিলেন ‘সু’-পরামর্শও
মুকুল রায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে বলেন, আপনাকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরাবই। আর যদি তা না পারি, আমার নামে কুকুর পুষবেন আপনারা।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অন্য রাজ্যে গিয়ে আত্মগোপন করে থাকার পরামর্শ দিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা। মুখ্যমন্ত্রীকে খুন করতে সুপারি দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি এই পরামর্শ দিলেন। রাহুল বলেন, মুখ্যমন্ত্রী এখন সহানুভূতি কুড়ানোর চেষ্টা করছে। পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে বুঝতে পেরেই এখন সহানুভূতি আদায় চেষ্টা করছেন বলে মত বিজেপির।
শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, তাঁকে হত্যার চক্রান্ত করা হয়েছিল। তাঁকে খুন করতে সুপারি দেয় কোনও রাজনৈতিক দল। এমনকী দুষ্কৃতীরা তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে রেইকিও করে যান।এই অভিযোগ প্রসঙ্গেই দিলীপ ঘোষ ও রাহুল সিনহা একহাত নেন মুখ্যমন্ত্রীর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করেন সিপিএম সাংসদ মহম্মদ সেলিমও।

‘সহানুভূতির ভোট আদায়ের চেষ্টা’
দিলীপ ঘোষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী জমি হারিয়ে এখন সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন। যদি সত্যিই তাঁর বিরুদ্ধে কেউ বা কোন দল সুপারি দিয়ে থাকে, তবে তাঁকে কেন গ্রেফতার করছে না পুলিশ। পুলিশও আপনার, গোয়েন্দাও আপনার, পুলিশ মন্ত্রী আপনি, তবু আপনার পুলিশ কিছু করছে না কেন? একসময় এসব কথা বলে অনেক সহানুভূতি আদায় করেছেন। কেননা তখন সিপিএমের আমল ছিল। এখন তো আপনার নিজেরই সরকার। তাহলে এই চক্রান্তের জাল কেটে ষড়যন্ত্রকারীদের গ্রেফতার করে দেখান এই ঘটনার সত্যতা। তাহলেই বুজব আপনিই ঠিক। অযথা নাটক করে কোনও ফায়দা হবে না।

‘অন্য রাজ্যে আত্মগোপন করুন’
রাহুল সিনহা এ প্রসঙ্গে বলেন, অন্য রাজ্যে গিয়ে আত্মগোপন করে থাকুন মুখ্যমন্ত্রী। যখনই নির্বাচন আসে, তখনই মুখ্যমন্ত্রী এ ধরনের অভিযোগ করেন। এটা আর নতুন নয়, এসব পুরনো হয়ে গিয়েছে। নির্বাচন এলেই সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করেন উনি। এবারও সেই একই নাটক করছেন। এ নাটকে আর কাজ হবে না। মানুষ বুঝতে পেরে গিয়েছেন এইসব নাটকের অর্থ। তিনি বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই যখন খুনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে, তখন এ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি সহজেই অনুমেয়। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে খুনের ষড়যন্ত্রের পরও ষড়যন্ত্রকারীদের টিকি পেল না পুলিশ বা গোয়েন্দার, এটা কার ব্যর্থতা? সেই প্রশ্নও তুলে দিলেন বিজেপি নেতা। সেইসঙ্গে দাবি করলেন, যে রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নেই, সেই রাজ্যে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা থাকতে পারে কি? খুনের ষড়যন্ত্রের কথা বলেন নিজের দৈন্যতাই প্রকাশ করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

‘এসব ওনার মাথার ব্যামো’
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে সিপিএম সাংসদ মহম্মদ সেলিম বলেন, এটা আসলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথার ব্যামো। আর তা-ই যদি না হবে, কেন ব্যবস্থা নিল না রাজ্য প্রশাসন। সবার আগে তো তদন্তের নির্দেশ দেওয়া উচিত ছিল। তা না দিয়ে তিনি ঘোষণা করেই ক্ষান্ত। আমরা সবাই চাই মুখ্যমন্ত্রী নিরাপদে থাকুন। তাই তদন্ত হোক। আর তা না হলে আমাদের ধরেই নিতে হবে, এসব ওনার মাথায় ব্যামো। যখন বিপাকে পড়েন, তখনই এসব নাটক করেন। সেলিমের আরও কটাক্ষ, মুখ্যমন্ত্রী শঙ্খ ঘোষের থেকেও বড় কবি হতে চাইছেন। রাজ্যের মানুষ ক্ষিপ্ত হতেই নজর ঘোরাতে এমন মন্তব্য করেছেন। রাজ্যের মানুষ যখন আক্রান্ত, তখন নিজের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলে তিনি পুরো ব্যাপারটা লঘু করতে চাইছেন।












Click it and Unblock the Notifications