কেন আসন ছাড়লেন শোভনদেব, ভবানীপুর উপনির্বাচন মামলায় প্রশ্ন হাইকোর্টের, স্থগিত রইল রায়দান
কেন আসন ছাড়লেন শোভনদেব, ভবানীপুর উপনির্বাচন মামলায় প্রশ্ন হাইকোর্টের, স্থগিত রইল রায়দান
ভবানীপুর উপনির্বাচন মামলায় চাপ বাড়ল রাজ্য সরকারের। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। জিতেও কেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন করেছেন হাইকোর্টের ভার প্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল। রাজ্য সরকারকে একাধিক অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন কেন এতদিনেও উত্তর দিতে পারল না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। শুনানি শেষ হলেও রায়দান স্থগিত রেখেছে আদালত।

অস্বস্তিতে রাজ্য সরকার
ভবানীপুর উপনির্বাচন মামলায় অস্বস্তি বাড়ল রাজ্য সরকারের। আদালতে আজ রাজ্য সরকারকে একাধিক অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। প্রথমেই জানতে চাওয়া হয়েছিল, ভোটে জেতার পরেও কেন আসন ছাড়লেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল প্রশ্ন করেছেন, কেন ভবানীপুরে উপনির্বাচন করার প্রয়োজন হল। আদালতের প্রশ্নের উত্তরে তেমন সদুত্তর দিতে পারে কমিশন। তারপরেই ভার প্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন একটি নির্বাচনে কত টাকা খরচ হয়? কমিশন জানায় ৩ কোটি? একটি কেন্দ্র কতবার নির্বাচন করা হবে? মানুষের টাকা কতবার খরচ করা হবে। অন্য আসন থেকেও লড়তে পারতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কমিশনের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ
এদিন হাইকোর্টে মামলার শুনানি চলাকালীন ভবানীপুর কেন্দ্রে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভার প্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল। কমিশনকে কোন উদ্দেশ্যে মুখ্য সচিব চিঠি লিখেছিলেন তার স্পষ্ট উত্তর এখনও দিয়ে উঠতে পারেনি তারা। এমনকী কমিশনের হলফনামা ত্রুটিপূর্ণ এবং ভুলে ভরা বলে বিরক্তি প্রকাশ করেছে আদালত। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ভবানীপুর নির্বাচন না হলে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে বলে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যসচিব। গতকালই আদালত জানতে চায় এমন চিঠি কে লিখেছিল। কারণ কমিশনকে ভবানীপুরে নির্বাচন করানোর দাবিতে চিঠি লেখা নিয়েই আদলতে মামলা করা হয়েছিল।

গৃহীত হল না কমিশনের হলফনামা
গতকাল আদালতের নির্দেশের প্রক্ষিতে আজ হলফনামা জমা দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সেই হলফনামা গৃহীত হয়নি। আদালত জানিয়েছে কমিশনের হলফনামা ভুলে ভরা এবং ত্রুটিপূর্ণ। ১ ঘণ্টার মধ্যে নতুন হলফনামা তৈরি করে জমা দিেত বলা হয়। কিন্তু সেই হলফনামাতেও ত্রুটি থাকায় সেটাও গৃহীত হয়নি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য রাজ্যের ৫ কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু কেবল মাত্র ভবানীপুর, জঙ্গিপুর, সামশের গঞ্জের নামই ঘোষণা করা হয়েছে।

রয়দান স্থগিত
ভবানীপুর উপনির্বাচন মামলার শুনানি শেষ হলেও রায়দান করেনি আদালত। রায়দান স্থগিত রাখা হয়েছে। কমিশন আদালতকে বিবৃতি দিয়ে জানিেয়ছে, সংবিধানের ১৬৪(৪) ধারা অনুযায়ী একজন মন্ত্রী যদি ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচিত হতে না পারেন তাহলে আর তিনি মন্ত্রী পদে থাকতে পারেন না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিত্ব চলে গেলে রাজ্যে সংকট তৈরি হতে পারে। জনস্বার্থেই ভবানীপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচন করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications