মিশন ২০১৯-এর লক্ষ্যে স্থির মমতা, মোদী বধের পরিকল্পনায় নিলেন যে আট দফা সিদ্ধান্ত
২০১৯-এ লোকসভা ভোটের লক্ষ্যে এখন থেকে তাল ঠুকতে শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিকে মাত দিতে ঘুঁটি সাজাতে আসরে নেমে পড়েছে তাঁর তৃণমূল কংগ্রেস।
২০১৯-এ লোকসভা ভোটের লক্ষ্যে এখন থেকে তাল ঠুকতে শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিকে মাত দিতে ঘুঁটি সাজাতে আসরে নেমে পড়েছে তাঁর তৃণমূল কংগ্রেস। নিজেদের তৈরি রাখতে কোর কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেই বৈঠকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছেন লোকসভা নির্বাচনে লড়াইয়ের ব্যাপারে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করে ফেলতে।
আসন্ন ২১ জুনের কোর কমিটির বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দলের কাণ্ডারিদের উদ্দেশ্যে বার্তা দেবেন- কোন পথে নরেন্দ্র মোদীর বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালাবে তৃণমূল। সেই পরিকল্পনা একপ্রকার ছকা হয়ে গিয়েছে, এবার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা দলের অন্যান্য সদস্যদের জানিয়ে দেবে। দায়িত্ব বণ্টন করবেন দলের কাণ্ডারিদের।
লোকসভা নির্বাচনের লড়াইয়ে তৃণমূলের যেসব পরিকল্পনা নিয়েছে, তা একনজরে

মন্ত্রিসভায় রদবদল
পঞ্চায়েত ভোট মিটতেই কালবিলম্ব না করে মন্ত্রিসভায় প্রয়োজনীয় রদবদল সেরে ফেলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে ঘাটতি রয়ে গিয়েছে, সেই ঘাটতি পূরণ করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পন্থা অবলম্বন করেছেন। যাতে এই রদবদলের প্রভাব সুদূরপ্রসারী না হয়, তাই দেরি না করে চটজলদি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সাংগঠনিক রদবদল
শুধু মন্ত্রিসবায় রদবদল করেই ক্ষান্ত নন মমতা। তিনি সাংগঠনিক পর্যায়ে রদবদলের নির্দেশও দিয়েছেন। সেইমতো পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর রদবদল সেরে নেওয়ার কাজ হচ্ছে। অনেক জায়গাতেই ব্লক সভাপতি বদল করা হচ্ছে। যাঁরা বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন, তাঁদের প্রয়োজনীয় বার্তা দিয়েছেন।

ভোটার তালিকায় নজর
ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে আগামী লোকসভা নির্বাচনের জন্য। সেই ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে কর্মীদের তিনি নির্দেশ দিয়েছেন তীক্ষ্ণ নজর রাখতে। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নজর রেখে নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করা জরুরি বলে তিনি জানিয়েছেন কর্মীদের।

ডিসেম্বরের লক্ষ্যে ব্লক স্তরে নির্দেশ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা সভাপতিদের নির্দেশ দিয়েছেন ব্লক স্তরকে সজাগ করতে। ব্লক কর্মীরা যাতে এখন থেকেই লোকসভার ক্যাম্পেনিংয়ে নেমে পড়েন। আর কালবিলম্ব নয়, কারণ কালবিলম্ব করলে সময় অতিবাহিত হয়ে যাবে। ডিসেম্বর মাসে ভোট ধরে নিয়েই এগোতে হবে কর্মীদের।

বাড়ি বাড়ি প্রচারে জোর
প্রচার মানে শুধু মিটিং-মিছিল নয়। বাড়ি বাড়ে গিয়ে প্রচার করতে হবে। জনসংযোগ বাড়ানোর নির্দেশ দিতে হবে। কোথায় কোন সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা মানুষের সঙ্গে থেকে সমাধান করতে হবে। মনে রাখতে হবে মানুষই আমাদের প্রধান শক্তি। যেখানে মানুষ তৃণমূলের থেকে মুখ সরিয়ে নিয়েছে, সেখানে বারবার যেতে হবে, কেন তাঁরা সরে গেলেন তা জেনে তাঁদের দাবি মেটাতে হবে।

বিধায়কদের টার্গেট
পঞ্চায়েত ভোট শেষ হতেই লোকসভার লক্ষ্য স্থির করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিধায়কদের নির্দেশ দিলেন, প্রতি কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধান দ্বিগুণ করতে হবে। সেই নির্দিষ্ট লক্ষ নিয়ে এগোতে হবে। আর এজন্য জনসংযোগই যে প্রধান হাতিয়ার হবে, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন মমতা।

সংসদেরও উন্নয়নের খতিয়ান
শুধু বিধায়কদেরই দায়িত্ব নয়, সাংসদেরও দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। তাঁদের পাঁচ বছরের খতিয়ান তুলে ধরতে হবে জনসমক্ষে। মানুষকে দেখাতে হবে, এই পাঁচ বছর তাঁরা ভুল মানুষকে বেছে নেননি। সঠিক মানুষকেই এবং সঠিক দলকেই বেছে নিয়েছিলেন। এবারও তাঁরা ভুল না করে সেই দলকেই বেছে নেবেন, তা বোঝাতে হবে মানুষকে।

বিজেপি কোথায় বাড়ছে নজর
শুধু নিজেদের বাড়ানোর দিকে নজর দিলেই হবে না, বিপক্ষ কোথায় বাড়ছে, কেন বাড়ছে, তাঁদের খামতি কোথায়, তা নিরুপণ করে এগোতে হবে ভবিষ্যতের লড়াইয়ে। বিপক্ষ কী তাস খেলছে, তা জানা জরুরি। চোখ বন্ধ করে এগোলে হবে না। সমস্ত আটঘাট বেঁধে নামতে হবে ভোট ময়দানে।












Click it and Unblock the Notifications