WB Bypoll 2024: উপনির্বাচনে বিজেপির অস্ত্র আরজি কর, অনুদান-উন্নয়নই হাতিয়ার তৃণমূলের; জল মাপছে বাম-কংগ্রেসও
West Bengal Bypoll: আরজি কর কাণ্ডে বিচারহীন ৯০ দিন পার। এই আবহেই ১৩ নভেম্বর বাংলার ৬ বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। ভোটের লাইনে দাঁড়াবে সিতাই, নৈহাটি, হাড়োয়া, মেদিনীপুর, মাদারিহাট ও তালড্যাংরা। ভাতা-অনুদান, উন্নয়নকে হাতিয়ার করে প্রচার সারছে তৃণমূল (TMC)। অন্যদিকে, বিরোধীদের ইস্যু শুধুই আরজি কর (RG Kar Case)।
তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্যের সীমানা ছাড়িয়ে দেশ, বিদেশেও প্রতিবাদের ঝড় বয়ে গেছে। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত অব্যাহত প্রতিবাদ আন্দোলন। সুপ্রিম কোর্টেও মুখ পুড়েছে রাজ্যের। ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ঘুঘুর বাসা। এই অবস্থায় উপনির্বাচনে আরজি কর কাণ্ডের যে প্রভাব পড়বে, তা সন্দেহাতীত।

সম্প্রতি এনিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, "আরজি করের পর প্রথম ভোট। রাজ্যবাসী প্রতিশোধ নেবেন না? তৃণমূল সরকারকে সরালেই নিহত চিকিৎসকের প্রতি সুবিচার হবে।" ছাব্বিশে পালাবদলের ডাক দিয়ে উপনির্বাচন থেকেই 'নো ভোট টু মমতা' স্লোগান বেঁধে দিলেন নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক।
যদিও বিরোধীদের দাবিতে আমল দিতে নারাজ তৃণমূল। দলের নেতা কুণাল ঘোষের দাবি,"উপনির্বাচনে শুধু উন্নয়নের মাপকাঠিতে লড়াই হবে। আরজি কর ইস্যু বলে উন্নাও, হাথরস, বদলাপুরও ইস্যু করবে তৃণমূল।" না জেতার ভয় থেকে আরজি কর কাণ্ডকে ইস্যু করে বিজেপি মূল স্রোত থেকে নজর ঘোরাতে চাইছে বলে দাবি কুণালের।
উপনির্বাচনের লড়াইয়ে রয়েছে বাম-কংগ্রেসও। যদিও ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের মতো কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে নয়, আলাদা লড়ছে বামেরা। বামেদের দাবি, বিজেপি বা তৃণমূলের মতো তাঁদের প্রার্থীরা প্রভাবশালী নয়। সেকারণেই ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচারে জোর দিচ্ছেন তারা।
সিপিএমের এক নেতাকে সম্প্রতি বলতেও শোনা যায়, "আমরা জানি আমরা জিতব না। তবে আরজি করের প্রতিবাদ আন্দোলনের পর মানুষ আমাদের সমর্থন করছেন কি না তা বলে দেবে এই বিধানসভা উপনির্বাচন।"
বাংলার সিতাই, মাদারিহাট, নৈহাটি, হাড়োয়া, মেদিনীপুর ও তালড্যাংরা এই ছয় বিধানসভা আসনের বিধায়করা গত লোকসভা নির্বাচনে সাংসদ হয়েছেন। তাই ছেড়ে আসা বিধায়কের আসনে হবে উপনির্বাচন। মাদারিহাট আসনে বিধায়ক থেকে সাংসদ হন বিজেপির মনোজ টিগ্গা।
সিতাইয়ের বিধায়ক আসন ছেড়ে কোচবিহারের সাংসদ হয়েছেন তৃণমূলের জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। মেদিনীপুরে জুন মালিয়া ও তালড্যাংরা ছেড়ে বাঁকুড়ার সাংসদ হয়েছেন অরূপ চক্রবর্তী। নৈহাটির বিধায়ক পদ থেকে ব্যারাকপুরের সাংসদ হয়েছেন পার্থ ভৌমিক।
শুধু আরজি কর নয়, দুর্নীতি (Corruption) ইস্যুতেও শাসকদলের বিরুদ্ধে লাগাতার সরব হয়েছে বিরোধীরা। দুর্নীতির দায়ে জেলে ঠাঁই হয়েছে একাধিক মন্ত্রী বিধায়কেরও। ছয় আসনেই তাই স্থানীয়স্তরের (Local Leaders) নেতাদেরই বেছে নিয়েছে তৃণমূল।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথীর মতো প্রকল্পকে হাতিয়ার করে প্রার্থীকে নিয়ে প্রচার সারছেন সুজিত বসু, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো মন্ত্রীরা। পাল্টা বাংলায় দুর্নীতি, নারী নিরাপত্তার অভাব ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগ তুলে ভোটের ময়দানে লড়ছে বিজেপি।












Click it and Unblock the Notifications