নাড়া দিয়েছে দুর্নীতি-সন্দেশখালি ইস্যু! মমতার প্রতি তীব্র ক্ষোভ তাপসের, কাজে আসল না তৃণমূলের সন্ধি সূত্র
শেষ পর্যন্ত দল ছাড়লেন তাপস রায়। তার আগে তিনি বিধায়ক পদেও ইস্তফা দেন। এই সিদ্ধান্ত তিনি গত কয়েকদিন ধরেই নিয়েছেন। তবে এদিন সকালে সিদ্ধান্তের পরিবর্তনের অনুরোধ করতে বউবাজারের বাড়িতে যান শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং কুণাল ঘোষ। তারপরেই নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন তাপস রায়।
ব্রাত্য বসু ও কুণাল ঘোষ তাঁর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরে তাপস রায় বলেন, ১৯৯৭ সাল থেকে বিধায়ক। আর গত ২৪ বছর ধরে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। তবে কোনও দুর্নীতিই তাঁকে ছুঁতে পারেনি। সাম্প্রতিক সময়ে দলের দুর্নীতি ও সন্দেশখালি ইস্যু তাঁকে নাড়া দিয়েছে। এর বাইরেও গত ১২ জানুয়ারি তাঁর বাড়িতে ইডির হানায় দল তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি। যা তাকে আঘাত দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

এদিন সকালে তাপস রায়ের বাড়িতে তৃণমূলের দূত হিসেবে পৌঁছে যান শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং কুণাল ঘোষ। সেখানে তাঁরা প্রায় দুই ঘন্টা কথা বলেন। তারপর তাঁরা বেরিয়ে যান। বেরিয়ে যাওয়ার পরে তাপস রায় বলেন, যে কুণাল ঘোষকে তাঁর মত পরিবর্তন করতে পাঠানো হয়েছিল, তাঁকেই এদিন সকালে দলের সভাপতি সুব্রত বক্সি শোকজের নোটিশ পাঠিয়েছেন। এদিন তাঁর বাড়িতে এসেছিলেন বরানদর পুরসভার বেশ কয়েকজন তৃণমূল কাউন্সিলরও। তাঁদের কান্নাকাটিও তাপস রায়ের সিদ্ধান্ত বদল করতে পারেনি বলে খবর তৃণমূল সূত্রে।
এরপরেই তাপস রায় দল ও সরকারের প্রতি তাঁর একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি সাম্প্রতিক সময় তৃণমূল নেতা ও সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের কথা বলেন। সঙ্গে বলেন সন্দেশখালির ঘটনার কথা। নিজের গত পঞ্চাশ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কোনও দুর্নীতি তাঁকে ছুঁতে পারেনি বলে দাবি করেছেন।
এর মধ্যে তাঁকে যা সব থেকে আঘাত করেছে, তা হল ১২ জানুয়ারি বিবেকানন্দের জন্মদিনে তাঁর বাড়িতে ইডির হানা। আগেই তাপস রায় ইডির হানা নিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছিলেন। এদিন তিনি বলেন, ১২ জানুয়ারি তাঁর বাড়িতে ইডির হানার পরে তৃণমূলের একাংশ উল্লাশ করেছিলেন। এব্যাপারে তাঁকে দলের একাংশ ও সাংবাদিকরা খবর দিয়েছেন। যা তাঁকে আঘাত দিয়েছে।
পরবর্তী সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় সন্দেশখালির সাসপেন্ডেড তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়িতে ইডির হানার নিন্দা করেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাপস রায়ের বাড়িতে ইডির হানা নিয়ে একটা কথাও বলেননি। ওই দিন শারীরিক কারণে বিধানসভায় উপস্থিত না থাকলেও মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপ তাঁকে আরও বেশি ভারাক্রান্ত বলে উল্লেখ করেছেন তাপস রায়। তাঁর বাড়িতে ইডির হানা নিয়ে দলের তরফেও কেউ ফোন করেননি বলে জানিয়েছেন বর্ষীয়ান এই নেতা।












Click it and Unblock the Notifications