কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতির সঙ্গে অসভ্যতা, গ্রেফতার অটোচালক

সেই ফাঁদই দেখল এক অভব্য অটোচালক। অ্যায়সা জব্দ হয়েছে যে, হয়তো বাকি জীবনটা মনে রাখবে।
গতকাল বালিগঞ্জের বাড়ি থেকে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়। সকাল এগারোটা নাগাদ বিজন সেতুর নীচে একটি অটো ওভারটেক করতে গিয়ে সটান এসে ধাক্কা মারে তাঁর গাড়িতে। বিচারপতি জানলা থেকে মুখ বের করে অটোচালককে ভর্ৎসনা করেন। ক্ষমা চাওয়া তো দূর, কলকাত্তাইয়া অটোওয়ালাদের বহুচর্চিত অসভ্যতার ঐতিহ্যকে বজায় রেখে সে পাল্টা চেঁচাতে শুরু করে। গাড়িতে ফ্ল্যাশার-সহ লালবাতি জ্বলছে এবং 'জাজ, ক্যালকাটা হাই কোর্ট' লেখা আছে দেখেও ওই অটোচালক অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ চালিয়ে যায়। এমনকী, বিচারপতির গাড়ির চালককে গাড়ি থেকে নামিয়ে পেটাতে যায়। এর পর বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় আর কথা বাড়াননি। তিনি অটোচালকের নাম এবং অটোর নম্বর নোট করে নিয়ে ওখান থেকে চলে যান।
হাই কোর্টে পৌঁছেই সোজা ফোন করেন পুলিশ কমিশনার সুরজিৎ কর পুরকায়স্থকে। ওই চালককে গ্রেফতার করে দুপুর দু'টোর সময় তাঁর চেম্বারে হাজির করানোর নির্দেশ দেন। বিচারপতির ফোন পেয়েই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। পুলিশ কমিশনার ফোন করেন সাউথ-ইস্ট ট্রাফিক গার্ডের ওসি অলোক সান্যালকে। অলোকবাবু যোগাযোগ করেন গড়িয়াহাট থানার ওসি উজ্জ্বলকুমার রায়ের সঙ্গে। সঙ্গে সঙ্গে গড়িয়াহাট থানা থেকে পুলিশ ছুটে যায় ঘটনাস্থলে। শুরু হয় খোঁজখবর। জানা যায়, অটোচালকের নাম সমর দাশ। হাওয়া খারাপ বুঝে সে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। কিন্তু গড়ফা থেকে কিছুক্ষণ পরই তাকে তুলে নিয়ে আসে পুলিশ।
গড়ফা থেকে প্রিজন ভ্যানে চাপিয়ে সোজা তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতা হাই কোর্টে। তাকে দেখেই ক্ষোভ ফেটে পড়েন বিচারপতি। ঔদ্ধত্য ঘুচে গিয়ে অভিযুক্ত অটোচালক তখন 'সুবোধ বালক' হয়ে গিয়েছে। সে বিচারপতির সামনে হাতজোড় করে কাঁদতে শুরু করে। কিন্তু বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় তা গ্রাহ্য না করে পুলিশকে নির্দেশ দেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ তাকে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে গড়িয়াহাট থানার উদ্দেশে রওনা দেয়। সমর দাশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অটোচালকদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে পুলিশকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।












Click it and Unblock the Notifications