নতুন বউমার জন্য নিজের হাতে চা করে এনেছিলেন বাজপেয়ী, দেখে অবাক সকলেই
কলকাতায় এলে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের ঘনশ্যামবাবুদের বাড়িতেই উঠতেন অটলবিহারী বাজপেয়ী। ১৯৫৬ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে পর্যন্ত অর্থাৎ ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত যতবার এসেছেন অন্যথা হয়নি।
কলকাতায় এলে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের ঘনশ্যামবাবুদের বাড়িতেই উঠতেন অটলবিহারী বাজপেয়ী। ১৯৫৬ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে পর্যন্ত অর্থাৎ ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত যতবার তিনি কলকাতায় এসেছে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ে ঘনশ্যাম বেরিয়ালদের বাড়িতেই থাকতেন তিনি। ঘনশ্যামবাবুরা থাকতেন পাঁচতলায়। আর বাজপেয়ী থাকতেন ছ-তলায়।

এমনই একদিনের ঘটনা। ঘনশ্যামবাবুর ছোটো ছেলের বিয়ের পরে একদিন অটলবিহারী এসেছেন কলকাতায়। উঠেছেন ঘনশ্যামবাবুর বাড়িতে। সকালে উঠে ঘনশ্যামবাবু দেখেন, রান্নাঘরে গিয়ে চা করছেন বাজপেয়ী। কী ব্যাপার চা করছেন আপনি, কার জন্য। জিজ্ঞেস করতেই অটলজি উত্তর দিয়েছিলেন, ঘরে নতুন বউমা এসেছে, তাঁর জন্যই চা করছি।
অটলবিহারী বাজপেয়ীর কথা শুনে চমকে গিয়েছিলেন ঘনশ্যামবাবু। তাঁর সরলতা, উদারতা প্রকাশ পেত পরতে পরতে। বাঙালি সেন্টিমেন্টও যে তিনি বুঝতেন, তাঁর ওই কথাতেই তা বোঝা যায়। আজ বাজপেয়ী নেই। তিনি প্রয়াত হয়েছেন। কিন্তু তাঁর স্মৃতি ছড়িয়ে রয়েছে ঘনশ্যামবাবুর বাড়ির পরতে পরতে।
১৯৫২ সাল থেকে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা। দুজনেই ছিলেন আরএসএসের সদস্য। দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে আলাপ হয় দুজনের। তারপরই সেই আলাপ রূপ নেয় গাঢ় বন্ধুত্বে। গভীর সম্পর্ক থেকেই কলকাতায় এলে ঘনশ্যামবাবুদের বাড়ি ছাড়া অন্য কোথাও উঠতেন না অটলবিহারী বাজপেয়ী। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এর অন্যথা হয়নি।
ঘনশ্যামবাবুদের বাড়িতে আমিষ হত না। তবে নিরামিশ শুক্তো, নারকেল কুরো দিয়ে ডাল খুব পছন্দ করতেন বাজপেয়ী। নিখাদ বাংলা খাবার আদ্যান্ত বাঙালির মতে খেতে ভালোবাসতেন তিনি। আর আমিষ খেতে ইচ্ছা হলেই চলে যেতেন পার্কস্ট্রিটের রেস্তোরাঁয়। আমিষ খাবারও বেশ পছন্দের ছিল বাজপেয়ীর। আর ঘনশ্যামবাবুদের বাড়িতে এলে ফুচকা ছিল মাস্ট। ওটা তিনি খাবেনই। বেশ জমিয়ে আসর বসিয়ে তিনি ফুচকা খেতেন।












Click it and Unblock the Notifications