শেষ রক্ষা হল না, কালীঘাটের কাকুর গলার স্বরের নমুনা নিয়ে ছাড়ল ED, কীভাবে হল পরীক্ষা জেনে নিন
আর কোনও বাহানা কাজে দিল না। শেষ পর্যন্ত কণ্ঠস্বরের নমুনা নিয়ে ছাড়ল ইডি। এই নিয়ে ভোর রাত পর্যন্ত চরম নাটক চলেছে জোকা ইএসআই হাসপাতালে। কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা এড়াতে একাধিক পন্থা নিয়েছেন কালীঘাটের কাকু। অসুস্থতা দেখিয়ে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিিন।
এমনকী সেখানে শিশুদের জন্য বরাদ্দ বেডেও নিজে ভর্তি হয়ে থেকেছেন। কিছুতেই গলার স্বরের নমুনা যাতে সংগ্রহ করতে না পারে ইডি তার জন্য মরিয়া প্রচেষ্টা চালিয়েছেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই করে উঠতে পারলেন না তিনি। ইডির জেদের কাছে হার মানতেই হল তাঁকে।

ইডি প্রথম থেকেই দাবি করে আসছিল নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল কালীঘাটের কাকুর কণ্ঠস্বরের নমুনা পাওয়। তার জন্য গত কয়েক মাস ধরে মরিয়া প্রচেষ্টা চালিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু যতবারই সুজয় ভদ্র কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছেন তদন্তকারীরী ততবাই কোনও না কোনও কৌশলে তার থেকে বেঁেচ বেরিয়েছিলেন তিনি।
গতাকল একেবারে জেদ ধরে বসেছিলেন ইডির তদন্তকারী অফিসাররা। গভীর রাত পর্যন্ত এসএসকেএম হাসপাতালে চলে তুমুল শোরগোল। কিছুতেই যাবেন না সুজয় ভদ্র। আর ইডি তাঁকে না নিয়ে ছাড়বে না। একেবারে মরিয়া হয়ে গিয়েছিল তারা। শেষ পর্যন্ত ভোর রাতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় জোকা ইএসআই হাসপাতালে। সেখােন প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর হয় কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা।
চিকিৎসকদের কাছে যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে তাতে কারোর কণ্ঠস্বরের নমুনা িনতে গেলে যেটা সবার আগে করতে হয় সেটা হল কণ্ঠস্বরের তীক্ষ্ণতা মাপা। অর্থাৎ সব ব্যক্তির কণ্ঠস্বরের তীক্ষ্ণতা সমান হয় না। অর্থাৎ সকলে সমান পিচে কথা বলেন না। সকলের কথা বলার তীক্ষ্ণতা বা পিচ আলাদা আলাদা হয়। সেটা আগে মাপা হয় কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করার পর।
তারপরে পরীক্ষা করা হয় সেই ব্যক্তির কথা বলার ধরন। অর্থাৎ কোথায় তিনি থামছেন। কথা বলার সময় কোথায় কোথায় কতটা সময় থামছেন তিিন। কীভাবে কোন শব্দে কতটা জোর দিচ্ছেন সবটা পরীক্ষা করার পর সেটা মেলানো হয়। গতকাল সুজয় ভদ্রের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে বিভিন্ন েটলিফোনিক কথপোকথনের যে প্রমাণ ইডির হাতে রয়েছে সেগুলির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।
প্রথম থেকেই তদন্তকারীরা সুজয় ভদ্রের কণ্ঠস্বরের নমুনা নেওয়ার জন্য তৎপর হয়েছিলেন। কারণ তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করলেই নাকি নিয়োগ দুর্নীতির অনেক জট খুলে যাবে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন সুজয় ভদ্র। তাঁকে গ্রেফতারির পরে একের পর এক তথ্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।
ইতিমধ্যে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের তল্লাশি চালিয়েছে ইডির আধিকারিকরা। সেখােন তল্লাশি চালিয়ে একাধিক গুরুকত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পর্যন্ত তলব করে জেরা করা হয়েছে। লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের একাধিক কর্তার সম্পত্তির খতিয়ান নেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশে গতকাল লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের একাধিক সম্পকত্তি অ্যাটাচ করেছে ইডি।












Click it and Unblock the Notifications