ঠোঁটের কোণে হাসি, মেয়েকে নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বমেজাজে অনুব্রত! জেরায় নয়া পন্থা সিবিআই-এর
অনুব্রত মণ্ডল ২০১৩-র পঞ্চায়েত নির্বাচনের মুখে পুলিশকে বোমা মারার কথা বলেছিলেন। তাঁকে স্বমেজাজে পাওয়া যেত তৃণমূলের (Trinamool Congress) সভায় কিংবা সাংবাদিক সম্মেলনে। এমনই জায়গায় গুড়-বাতাসার কথাও বলেছিলেন।আর সিবিআই (
অনুব্রত মণ্ডল ২০১৩-র পঞ্চায়েত নির্বাচনের মুখে পুলিশকে বোমা মারার কথা বলেছিলেন। তাঁকে স্বমেজাজে পাওয়া যেত তৃণমূলের (Trinamool Congress) সভায় কিংবা সাংবাদিক সম্মেলনে। এমনই জায়গায় গুড়-বাতাসার কথাও বলেছিলেন। আর সিবিআই (CBI) গ্রেফতার পরে ম্রিয়মান হয়ে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু দুদিন পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) পাশে দাঁড়ানোর কথা বলতেও স্বমেজাজে অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। এদিন তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান কিছু বলবেন না। অন্যদিকে অনুব্রত মণ্ডলকে জেরায় নয়া পন্থা নিয়েছে সিবিআই।

বদলেছে শরীরী ভাষা
১২ অগাস্ট গ্রেফতার করা হয় অনুব্রত মণ্ডলকে। তারপর থেকে সংবাদ মাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে দেখা যায়নি বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতিকে। গ্রেফতার করে কলকাতায় আনার সময় তাঁর চোখের কোনায় জলও দেখা গিয়েছে।
তবে তাঁকে যাঁরা নিয়মিত দেখছেন, তাঁরা বলছেন শরীরী ভাষা বদলে গিয়েছে অনুব্রত মণ্ডলের। আর এব্যাপারে রাজনৈতিক নেতার বলছেন, হবে নাই বা কেন, মুখ্যমন্ত্রী পাশে দাঁড়িয়ে অনুব্রত মণ্ডলের তোলাবাজিকে সমর্থন করেছেন।
আর তাতেই পরিবর্তিত হয়েছেন অনুব্রত।

স্বমেজাজে অনুব্রত
আদালতের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতি ৪৮ ঘন্টায় অনুব্রত মণ্ডলের শারীরিক পরীক্ষা করাতে। সেই মতো এগিন দুপুর বারোটায় অনুব্রত মণ্ডলকে নিজাম প্যালেসের সিবিআই হেফাজত থেকে নিয়ে যাওয়া হয় নিউ আলিপুরেরকমান্ড হাসপাতালে। নিজাম প্যালেস থেকে বেরনোর সময় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা তাঁকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, জবাব পাওয়ার আশায়। তাঁর উদ্দেশে প্রশ্ন, গরুপাচার মামলায় তাঁর মেয়ের ভূমিকা কী? কেউ কেউ মেয়ের নামে আলাদা সম্পত্তি নিয়েও প্রশ্ন করেন। জবাবে অনুব্রত মণ্ডল জানান, কিছু বললেন না। সেই উত্তরের সময় অনুব্রত মণ্ডলকে কার্যত পুরনো মেজাজেই পাওয়া গিয়েছে। এই উত্তরের সময় তাঁর কোনও হতাশা কিংবাভেঙে পড়া মনোভাব একেবারেই ছিল না। জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা।

নিজাম প্যালেসে পৌঁছেও স্বমহিমায়
আলিপুর কমান্ড হাসপাতাল থেকে নিজাম প্যালেসে পৌঁছেও স্বমহিমায় পাওয়া গিয়েছে অনুব্রত মণ্ডলকে। ছিল ঠোঁটের কোণে হাসি। যা গত রবিবারেও দেখা যায়নি। মেয়েকে নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তাঁকে বুম চেপে ধরতেওদেখা গিয়েছে।

অনুব্রতকে জেরায় নয়া পন্থা সিবিআই-এর
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, তাদেরকে তদন্তে সহযোগিতা করছেন না অনুব্রত মণ্ডল। কার্যত কোনও প্রশ্নের উত্তরই তিনি দিচ্ছেন না। সিবিআই-এর সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে সরাসরি অনুব্রত মণ্ডলের নাম উল্লেখ করা বলে হয়েছে, অনুব্রত মণ্ডলের নাম করে প্রোটেকশন মানি তুললেন দেহরক্ষী সায়গল হোসেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, এব্যাপারে অনুব্রত মণ্ডলের উত্তর সায়গল হোসেন শুধুমাত্র তাঁর দেহরক্ষী ছিলেন। এর বাইরে তিনি কিছু জানেন না। কার্যত দেহরক্ষী সায়গল হোসেনকে নিয়ে দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন অনুব্রত।
সিবিআই-এর তরফে দাবি করা হয়েছে, গরুপাচার নিয়ে তদন্তে অনেকেই অনুব্রত মণ্ডলের নাম করেছেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, এবার সেইসব নাম ধরে ধরে অনুব্রত মণ্ডলকে দেরা করা হবে। এদিন যে সময় নিজাম প্যালেসে অনুব্রত মণ্ডলকে দেরা করা হয়েছে, ঠিক সেই সময় আসানসোলে সিবিআই হেফাজতে জেরা করা হয়েছে দেহরক্ষী সায়গল হোসেনকে।












Click it and Unblock the Notifications