বেঙ্গালুরুতে আটক সন্তোষকে পুনেতে এনে দফায় দফায় জেরা, স্ক্যানারে অন্তরার এক বান্ধবীও
বেঙ্গালুরুতে আটক করে পুনেতে আনা হল বেহালার তরুণী পুনের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার অন্তরা দাস হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত সন্তোষকুমার যাদবকে। সন্তোষকে জেরাও শুরু করেছে পুলিশ।
কলকাতা, ২৭ ডিসেম্বর : বেঙ্গালুরুতে আটক করে পুনেতে আনা হল বেহালার তরুণী পুনের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার অন্তরা দাস হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত সন্তোষকুমার যাদবকে। মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্তোষকে দফায় দফায় জেরাও শুরু করেছে পুলিশ। তার কথায় অনেক অসঙ্গতি মিলেছে। সন্তোষের মোবাইলের কললিস্ট পরীক্ষা করে পাওয়া গিয়েছে বেশ কিছু সন্দেহজনক নম্বরও।
সন্তোষের পাশাপাশি অন্তরার এক বান্ধবীও এবার তদন্তকারী অফিসারদের স্ক্যানারে চলে এসেছেন। তাঁর গতিবিধিও সন্দেহজনক মনে করছেন তদন্তকারীরা। বিশেষ করে গতকাল দিনভর সজল নামে এক ফুড ডেলিভারি বয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে ওই বান্ধবীর কথা। খুনের দিন ওই বান্ধবীর বাড়ি যাচ্ছিলেন অন্তরা। সেখানেই ওই ডেলিভারি বয়ের রাতের খাবার পাঠানোর কথা ছিল। ওই বান্ধবীর বাড়িতেই ওই রাতে অন্তরার থাকার পরিকল্পনাও ছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।

কিন্তু অন্তরা খুন হয়ে যাওয়ার পরও ওই বান্ধবী প্রকাশ্যে আসেনি। কোনও বিবৃতিও দেয়নি। সজলকে নিয়ে পুলিশ ওই বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সজল অন্তরার ওই বান্ধবীর বাড়ি চিনতে পারেনি। পুলিশ এখন ওই বান্ধবীকে জেরা করতে চাইছে। তার খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
শীঘ্রই ওই বান্ধবীকে জেরা করে ওই রাতের রহস্য উন্মোচন করতে চাইছে। কেন ওই বান্ধবীর বাড়িতে রাত কাটানোর পরিকল্পনা, কেনই বা রাতের খাবার ওই বান্ধবীর বাড়িতে পাঠাতে ফুড ডেলিভারি বয়কে ফোন করেছিল, অন্তরা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে পুলিশ সন্তোষের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে অন্তরা খুনের পিছনে। প্রথম থেকেই সন্তোষ ছিল সন্দেহের তালিকায়। এখন তার কথার মধ্যে নানা অসঙ্গতি ও মোবাইল কললিস্ট সেই সন্দেহের মাত্র আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। খুনের দিন সন্তোষ পুনেতেই ছিল। তবে কি সুপারি কিলার লাগিয়ে সন্তোষই খুন করেছে 'প্রেমিকা' অন্তরাকে। এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ।
পুলিশ এই তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে, সন্তোষ বেঙ্গালুরু থেকেই পিছু নিয়েছিল অন্তরার। চাকরি পাওয়ার পর বেঙ্গালুরু ছেড়ে পুনে আসার সময় সন্তোষও পুনে চলে এসেছিল। মোবাইলের টাওয়ার লোকশেন ট্র্যাক করে পুলিস জেনেছে, খুনের সময় পুনেতেই ছিল সন্তোষ। কিন্তু খুনের দিন ঘটনাস্থলের আশেপাশে সন্তোষ ছিল না বলেই ধারণা তদন্তকারীদের।
তাহলে কে খুন করেছে অন্তরাকে? সন্তোষ, সজল, নাকি অন্য কেউ? পুলিশি এই তদন্তের জাল গুটিয়ে এনেছে অনেকটাই। পুলিস দাবি করছে, বেহালার তরুণী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার অন্তরা দাসের হত্যাকারীকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিতও করে ফেলেছে তারা। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই তাঁর নাম প্রকাশ্যে আনতে চাইছেন না তদন্তকারী অফিসাররা।
পুলিশ জানতে পেরেছে, বেঙ্গালুরুতে পড়াশোনার সময়ই বিহারের সন্তোষকুমার যাদবের সঙ্গে পরিচয় হয় অন্তরার। প্রথম দর্শনেই সন্তোষের ভালো লেগে যায় অন্তরাকে। কিন্তু সেই ভালো লাগা বা প্রেম ছিল একতরফা। সন্তোষের প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছিলেন অন্তরা। তিনি সন্তোষকে সেভাবে পছন্দ করতেন না।
পুলিশ এমনও জানতে পেরেছে যে, সন্তোষ পাগলের মতো ভালোবাসত অন্তরাকে। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে পড়তেই পুনের একটি আইটি সংস্থায় চাকরি পেয়ে যান অন্তরা। সেইসময় বেঙ্গালুরু ছেড়ে পুনে চলে আসেন তিনি। সন্তোষও বেঙ্গালুরু ছেড়ে পুনে চলে এসেছিল অন্তরার পিছু নিয়ে।












Click it and Unblock the Notifications