মৃত শিশুর পরিবারকে শাসানির পর ক্ষমার ভান ইউনিট হেডের, আরও অগ্নিগর্ভ আমরি
প্রথমে মৃত শিশুর পারিবারকে শাসানি, তারপর ক্ষমার ভানে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায আমরিতে। চারঘণ্টা লুকিয়ে থাকার পর দায়সারা ক্ষমা চাইতে এসে পাল্টা অভিযোগ করতেই রে-রে করে ওঠে উত্তেজিত জনতা।
আড়াই বছরের শিশু ঐত্রী দে-র মৃত্যুর পর থেকেই উত্তেজনার আগুন জ্বলছিল। হাসপাতালের ইউনিট হেড জয়ন্তী চট্টোপাধ্যায়ের অসংবেদনশীল আচরণে সেই আগুনে ঘৃতাহুতি পড়ে। প্রথমে মৃত শিশুর পারিবারকে শাসানি, তারপর ক্ষমার ভানে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায আমরিতে। চারঘণ্টা লুকিয়ে থাকার পর দায়সারা ক্ষমা চাইতে এসে পাল্টা অভিযোগ করতেই রে-রে করে ওঠে উত্তেজিত জনতা। আমরির ইউনিট হেডের দায়িত্ব থেকে জয়ন্তী চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে দেওয়ার দাবি ওঠে।

এদিন আমরিতে শিশু মৃত্যুর এমনও দাবি ওঠে, অবিলম্বে ইউনিট হেড জয়ন্তী চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করতে হবে। জয়ন্তী চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলতে থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দেন উত্তেজিত জনতা। হাসপাতালের আধিকারিকদের দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে সরব হন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বও। মুকুন্দপুর নাগরিক কমিটি ও স্থানীয় তৃণমূলের তরফেও ইউনিট হেড জয়ন্তী চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানানো হয়।
এদিন আড়াই বছরের শিশু ঐত্রীর মৃত্যুর পর তার মা অভিযোগ জানাতে যান ইউনিট হেডের কাছে। অভিযোগ হাসাপাতালের ভুল চিকিৎসার জেরেই তাঁর শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারপরই ইউনিট হেড জয়ন্তী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বচসা বাধে শিশুটির মায়ের। তখন শিশুটির মাকে তিনি হুমকি দেন- 'মস্তানি করবেন না। আমার থেকে বড় মস্তান কে আছে।' এই বলে তিনি ধাক্কা দেন মৃত শিশুর মাকে। এরপর উত্তেজনার পারদ ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর চারঘণ্টা অন্তরালে চলে যান ওই ইউনিট হেড। বিক্ষোভের আঁচ বাড়তে থাকলেও তিনি বেরিয়ে আসেননি জনসমক্ষে। শেষপর্যন্ত বিকেলে তিনি ক্ষমতা চাওয়ার ভান করে বেরিয়ে আসেন। আর দায়সারা ক্ষমা চাওয়ার নামে তিনি অভিযোগ করে বসেন, তাঁকেও নাকি ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। হাত মুড়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর উত্তেজনা আরও বাড়তে শুরু করে।
হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার দাবি তোলে মৃত শিশুটির পরিবার। একজন ইউনিট হেড হয়ে তিনি কী ভাষা ব্যবহার করেছেন, সহমর্মিতা না দেখিয়ে কী ভাষায় হুমকি দিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হোক। তারপর ওই ধরনের হাসপাতাল আধিকারিকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। সেই সঙ্গে বিক্ষোভ শুরু হয় অভিযুক্ত জয়ন্তী চট্টোপাধ্যায়কে অবিলম্বে হাসপাতাল থেকে সরানো এবং গ্রেফতারের দাবিতে।
এদিকে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় পূর্ণ তদন্ত দাবি করে পরিবার। হাসপাতালের বাইরে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখায় মুকুন্দপুর নাগরিক কমিটি। তাঁরাও এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications