Amit Shah: 'সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক খুশি রাখতে অপারেশন সিঁদুরের বিরোধিতা মমতার', কড়া আক্রমণে অমিত শাহ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 'অপারেশন সিঁদুর'-এর বিরোধিতা করে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে খুশি করতে চাইছেন। এবং এর মাধ্যমে জাতীয় সুরক্ষাকে অবজ্ঞা করছেন। এই বলেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। শাহ আরও দাবি করেন যে, মুর্শিদাবাদে হওয়া সাম্প্রতিক দাঙ্গা 'রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষকতায়' ঘটেছে এবং এর জন্য তৃণমূল কংগ্রেস দায়ী।
নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, "মুসলিম ভোটব্যাঙ্ককে খুশি করার জন্য মমতা দিদি অপারেশন সিঁদুরের বিরোধিতা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি এই দেশের মা ও বোনেদের অপমান করছেন।" তিনি পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের প্রতি আহ্বান জানান, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে 'অপারেশন সিঁদুরের' বিরোধিতা করার জন্য উপযুক্ত জবাব দিতে।

'অপারেশন সিঁদুর' প্রসঙ্গে শাহ জানান, এটি পাকিস্তান সীমান্তের গভীরে জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো একটি সামরিক অভিযান ছিল। যেখানে অসংখ্য জঙ্গি নিহত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, "জঙ্গিদের মৃত্যুতে মমতা দিদি ব্যথিত হয়েছেন এবং তাঁর এই অপারেশনের সমালোচনা জাতীয় নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করার সামিল।" শাহ আরও উল্লেখ করেন যে, এপ্রিল মাসের ২২ তারিখে পহেলগাঁওয়ে যে জঙ্গি হামলায় বাংলার পর্যটকরা নিহত হয়েছিলেন, সে সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নীরব ছিলেন, কিন্তু এখন 'অপারেশন সিঁদুর' নিয়ে তাঁর সমস্যা হচ্ছে।
মুর্শিদাবাদের দাঙ্গা প্রসঙ্গে অমিত শাহ তৃণমূল কংগ্রেসকে অভিযুক্ত করে বলেন, "যেভাবে একজন তৃণমূল মন্ত্রী দাঙ্গা উস্কে দিয়েছেন, তাতে স্পষ্ট বোঝা যায় যে মুর্শিদাবাদের দাঙ্গা ছিল রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষকতায়।" তিনি আরও দাবি করেন যে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দাঙ্গার সময় বিএসএফ মোতায়েনের অনুরোধ করলেও রাজ্য সরকার তাতে বাধা দিয়েছে, যার ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
সীমান্ত সুরক্ষা নিয়েও এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, "বাংলার নির্বাচন শুধু রাজ্যের ভবিষ্যৎ নয়, দেশের নিরাপত্তার সঙ্গেও যুক্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের জন্য বাংলার সীমান্ত খুলে দিয়েছেন। তাঁর আশীর্বাদেই অনুপ্রবেশ ঘটছে। শুধুমাত্র বিজেপি সরকারই এটি আটকাতে পারে।" বিএসএফকে সীমান্ত বেড়া তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জমি না দেওয়ার জন্যও তিনি রাজ্য সরকারকে দায়ী করেন।
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়েও শাহ তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "যুবকদের চাকরি কলকাতার বাজারে বিক্রি হচ্ছে।" তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রীর পদ হারাবেন এবং একমাত্র বিজেপি সরকারই বাংলার সীমান্ত ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পারবে।












Click it and Unblock the Notifications