ভ্যাকসিনের নামে কলকাতায় দেওয়া হচ্ছিল এই ওষুধ? পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা জেনেই বাড়ছে ভয়
ভ্যাকসিনের নামে কলকাতায় দেওয়া হচ্ছিল এই ওষুধ? পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা জেনেই বাড়ছে ভয়
করোনা আবহে একদিকে যেমন টিকার অভাবের অভিযোগ উঠেছে নানা স্থানে, আবার তেমনই কলকাতার ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ডের জেরে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। টিকাকাণ্ডের দৌলতে রাতারাতি খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে কসবার দেবাঞ্জন দেব। গ্রেপ্তার আরও ৪। ইতিমধ্যে তদন্তে নামতে চেয়ে কলকাতা পুলিশকে মেইল করে ফেলেছে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ইডি। যদিও কোভিশিল্ডের নামে যে ওষুধ ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে প্রবেশ করানো হয় নাগরিকদের দেহে, তা কতটা ক্ষতিকর? জেনে নিন একনজরে।

কী এই অ্যামিকাসিন?
দেহে ব্যাকটেরিয়া ঘটিত সংক্রমণ রুখতে মূলত ব্যবহৃত হয় এই অ্যামিকাসিন ওরফে অ্যামিকাসিন সালফেট। অ্যামিনোগ্লাইকোসাইড অ্যান্টিবায়োটিকের অন্তর্গত এই ওষুধ আসলে মেনিনজাইটিসের ওষুধ। রক্ত, তলপেট, ফুসফুস, চামড়া, হাড় এবং মূত্রাশয়ে নানাবিধ সংক্রমণের গতি হ্রাস করে এই অ্যামিকাসিন।

অ্যামিকাসিনের অধিক ডোজে বাড়তে পারে সমস্যা
প্রয়োজন বিশেষে মূলত শিরায় বা পেশিতে প্রতি ৮/১২ ঘন্টা অন্তর দিনে দুই বা তিনটি ডোজে অ্যামিকাসিন প্রয়োগ করা হয়, জানিয়েছেন গবেষকরা। সূত্রের খবর, অ্যামিকাসিনের কারণে হালকা সর্দি, বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, ক্ষুধাহীনতা, তৃষ্ণাবৃদ্ধি, ইঞ্জেকশনের স্থান লাল হয়ে যাওয়ার ন্যায় লক্ষণ দেখা যায়। যদিও অতিরিক্ত অ্যামিকাসিন প্রয়োগে কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে বলে জানান চিকিৎসকরা।

ভুয়ো টিকা নিয়ে বিপাকে তৃণমূল সাংসদ মিমি
কসবার ভুয়ো টিকাকরণ কেন্দ্রে কোভিশিল্ড টিকার নাম করে দেওয়া হচ্ছিল এই অ্যামিকাসিন-৫০০ ইঞ্জেকশন। সূত্রের খবর, তৃণমূলের অভিনেত্রী সাংসদ মিমি চক্রবর্তী এই কেন্দ্র থেকেই টিকা নেন। যদিও কো-উইন থেকে মোবাইল নম্বরে মেসেজ না আসায় সন্দেহ করেন মিমি। এরপরেই ঘটনাস্থলে পুলিশ ডাকেন মিমি, জানিয়েছেন সাংসদ ঘনিষ্ঠরা। যদিও ভুয়ো টিকা কাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সিবিআই-ইডি তদন্তের দাবি তুলেছে বঙ্গ বিজেপি। ভ্যাকসিন কাণ্ডে জড়িত তৃণমূলের শীর্ষনেতৃত্বরা, মত রাজ্য বিজেপির।

নকল টিকা নিয়ে অসুস্থ মিমি চক্রবর্তী
গত সাথে কসবার নকল টিকাকরণ কেন্দ্র থেকে ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন মিমি। বাড়ি গিয়ে পেটে ব্যথা ও ডিহাইড্রেশনের সম্মুখীন হন তৃণমূল সাংসদ। যদিও অ্যামিকাসিন-৫০০ অর্থাৎ ভুয়ো ভ্যাকসিন নিয়েই যে এহেন শারীরিক পরিস্থিতি মিমির, সে সম্বন্ধে স্পষ্ট দিশা দেখাতে পারেননি চিকিৎসকরা। স্বভাবতই অ্যামিকাসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়েও সুস্পষ্ট ধারণা দিতে পারেননি চিকিৎসকরা।

আইএএসের মুখোশে ভ্যাকসিন জালিয়াতি
ভুয়ো ভ্যাকসিন চক্র চালানোর অভিযোগে গত সপ্তাহে কসবা থেকে কলকাতা পুলিশ গ্রেপ্তার করে বছর আঠাশের দেবাঞ্জন দেবকে। দিনের পর দিন ভুয়ো আইএএস অফিসারের তকমাকে কাজে লাগিয়ে টিকাকরণ কেন্দ্র চালিয়ে যাচ্ছিলেন দেবাঞ্জন, মত কলকাতা পুলিশের শীর্ষকর্তাদের। যদিও সর্বসমক্ষে এইভাবে টিকাকান্ড চালিয়ে গেলেও তা নজরে এলো না রাজ্য প্রশাসনের, এই বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে নানামহলেই।

অ্যামিকাসিন ভায়াল ও কোভিশিল্ড লেবেল উদ্ধার
দেবাঞ্জনের অফিস থেকে ইতিমধ্যেই পুলিশের হাতে এসেছে বহু অ্যামিকাসিন ভায়াল ও কোভিশিল্ডের জাল লেবেল। এইসকল নকল কোভিশিল্ডের ভায়ালে থাকত না কোনোরকম ব্যাচ নং বা সময়োত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার যোগ্য তারিখ। স্বাভাবিকভাবেই কলকাতার কসবায় প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে সরকারি নথি ব্যবহার করে কিভাবে দিনের পর দিন জাল টিকাকরণ চালিয়ে গেল দেবাঞ্জন, সে বিষয়ে মুখে কুলুপ নবান্নের।












Click it and Unblock the Notifications