যতদিন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আছি, তৃণমূলের সঙ্গে জোট মানব না, বার্তা অধীরের

‘যতদিন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি রয়েছি, ততদিন জোট মানব না। বাংলায় কংগ্রেস কর্মীদের খুন করছে, আর দিল্লিতে ঐক্যের ধুন দেখাচ্ছে, এসব চলতে পারে না।’

দিল্লিতে যখন সোনিয়া-মমতা বৈঠক নিয়ে পারদ চড়ছে, তখন তৃণমূলের সঙ্গে জোট সম্ভাবনা উড়িয়ে 'জেহাদ' ঘোষণা করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। মঙ্গলবার হাইকম্যান্ডের বিরুদ্ধে তোপ দেগে অধীর চৌধুরী বলেন, 'যতদিন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি রয়েছি, ততদিন জোট মানব না। বাংলায় কংগ্রেস কর্মীদের খুন করছে, আর দিল্লিতে ঐক্যের ধুন দেখাচ্ছে, এসব চলতে পারে না। বাংলার কংগ্রেস কর্মীরাও হাইকম্যান্ডের জোট বার্তা মানবেন না।'

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে বিজেপি বিরোধী ঐক্য স্থাপনের চেষ্টায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে আহ্বান জানান কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে সোমবারই দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনে দুই নেত্রীর মধ্যে বৈঠক হয়। এই বৈঠকে সামনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ইস্যু সামনে থাকলেও, পিছনে কিন্তু লক্ষ্য ২০১৯ লোকসভা।

যতদিন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আছি, তৃণমূলের সঙ্গে জোট মানব না, বার্তা অধীরের

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীকে ভারতের মসনদ থেকে হটাতে চাইছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাই চান। সেই কারণেই দুই নেত্রী আবার এক মঞ্চে আসতে চাইছেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে উপলক্ষ করেই তাঁরা জোটের পথে এগতে চাইছেন বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের। মমতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন সোনিয়া। কারণ এই মুহূর্তে তিনিই আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে বড় শক্তি। তারপর তো অখিলেশ, মায়াবতী, নীতীশ কুমার, লালুপ্রসাদ যাদবরা রয়েছেনই।

সম্প্রতি ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর নবীন পট্টনায়কের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তারপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সিপিএম তথা বামেরাও হাত বাড়িয়ে দেবেন বলে বিশ্বাস সোনিয়া গান্ধীর। এমনকী শিবসেনাও তাঁদের দিকে সমর্থনের হাত বাড়াতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে পা দিয়েই বলে দিয়েছিলেন, বাংলায় কংগ্রেস, সিপিএম ও বিজেপি একজোট হয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তবু দেশের ভালোর স্বার্থে সোনিয়াজির ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি এসেছেন। তাঁর কাছে দেশ সবার আগে। সবার আগে দেশের ভালো চান তিনি।

আর মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরই অধীর চৌধুরী বাংলা থেকে হুঙ্কার ছেড়েছেন, তৃণমূলের সঙ্গে জোট হলে রাজ্যের কংগ্রেস তা মানবে না। শুধু তিনি নন, রাজ্যের কংগ্রেস কর্মীরাও মানবে না এই অনৈতিক জোট। কেননা তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে তাঁদের দল ভাঙাচ্ছে, মিথ্যে মামলায় ফাঁসাচ্ছে, কর্মী খুন করছে। তারপর দিল্লিতে গিয়ে জোট করলে কেন মানবে কংগ্রেস। হাইকম্যান্ডের তা ভেবে দেখা উচিত। তা না করে যদি জোট চাপিয়ে দেওয়া হয়, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে তিনি তা মানবেন না, সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অধীরবাবু। সেই কারণেই মমতার সঙ্গে বৈঠকের আগে সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখে প্রদেশ কংগ্রেসের অবস্থান জানিয়ে দেন।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+