মমতাকে বাদ রেখেই দক্ষিণেশ্বর-নোয়াপাড়ার মেট্রোর সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী
দীর্ঘদিনের স্বপ্ন! অবশেষে বাস্তবের মুখ দেখল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে। নোয়াপাড়া থেকে মেট্রো এগোল দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত। ভার্চুয়াল মাধ্যমে সেই সম্প্রসারিত অংশের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
দীর্ঘদিনের স্বপ্ন! অবশেষে বাস্তবের মুখ দেখল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে। নোয়াপাড়া থেকে মেট্রো এগোল দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত। ভার্চুয়াল মাধ্যমে সেই সম্প্রসারিত অংশের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
তবে নোয়াপাড়া-দক্ষিণেশ্বর মেট্রোর উদ্বোধন করা হলেও যাত্রীদের জন্য এর পরিষেবা শুরু হবে ২৩ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার থেকে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই মিলবে মেট্রো। এর সম্প্রসারণে ফলে বহু মানুষ উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

১ ঘণ্টায় কবি সুভাষ থেকে দক্ষিণেশ্বর
দীর্ঘদিনের দাবি ছিল নোয়াপাড়া এবং দক্ষিণেশ্বর সম্প্রসারণ। যাতে দ্রুত এই লাইন চালু হয় সে বিষয়েও বারবার দাবি ওঠে। কিন্তু কোনও না কোনও কারণে তা থমকে যায়। কিন্তু আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে ছুটল মেট্রো। হুগলির সাহাগঞ্জ থেকেই এই পরিষেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী৷ উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পরিষেবা শুরু হওয়ায় মাত্র ১ ঘণ্টায় কবি সুভাষ থেকে দক্ষিণেশ্বর পৌঁছে যাওয়া যাবে৷ কালীঘাট থেকে দক্ষিণেশ্বর পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র ৪০ মিনিট৷ ধর্মতলা পৌঁছানো যাবে মাত্র আধ ঘন্টায়। এছাড়াও ট্রেন ধরার ক্ষেত্রেও বহু মানুষ উপকৃত হবেন বলে খবর।

কবি সুভাষ থেকে ২৫ টাকাতেই পৌঁছনো যাবে দক্ষিণেশ্বরে
ভাড়ার কোনও বদল আনা হয়নি। সর্বনিম্ন ভাড়া পাঁচ টাকা রাখা হয়েছে। আর সর্বোচ্চ ২৫ টাকা। অর্থাৎ মাত্র ২৫ টাকাতেই পৌঁছানো যাবে কবি সুভাষ থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত। তবে সূত্রের খবর, এখনই সব ট্রেন দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত চলবে না। সকালে ছয় মিনিট অন্তর চললেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মেট্রো পাওয়া যাবে ১৫ মিনিট অন্তর।

মমতাকে ছাড়াই মেট্রো প্রকল্পের সূচনা
২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই দক্ষিণেশ্বর-নোয়াপাড়া মেট্রো প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। জমি জট ছাড়াও একাধিক সমস্যায় জর্জরিত ছিল এই প্রকল্প। বিভিন্ন সময়ে থমকে যায় এর কাজ। তবে বছরখানেক আগে থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই মেট্রো প্রকল্পের কাজ চালু হয়। গত মাসখানেক আগে এর কাজ শেষ হয়। তবে করোনার কারনে বেশ কয়েকদিন আটকে যায় কাজ। অবশেষে জটিলতা কাটিয়ে ছুটল মেট্রো। তবে মমতাকেই ছাড়াই। মোদীর পাশেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যে চেয়ার রাখা ছিল। কিন্তু তা খালি! ফলে রাজ্যপাল এবং প্রধানমন্ত্রী সবুজ পতাকা নেড়ে দক্ষিণেশ্বর মেট্রোর সূচনা করেন।

বাংলায় বিনিয়োগের জন্য অনেকেই আগ্রহী
উল্লেখ্য প্রকল্পের উদ্বোধনে যোগ দেওয়ার আগে ডানলপে সভা করেন মোদী। সেখান থেকে এদিন তিনি বলেন, বাংলায় বিনিয়োগের জন্য অনেকেই আগ্রহী। তবে রাজ্যে কাটমানি ও সিন্ডিকেট রাজের জন্য এই বিনিয়োগের সমস্যা হচ্ছে বলে ইঙ্গিত দেন মোদী। মোদী বলেন, রাজ্যে তৃণমূলের আমদানি করা সংস্কৃতির জন্যই বিনিয়োগ আসছে না। তাঁর দাবি , এখানে বাড়িভাড়া নিতেও সিন্ডিকেট লাগে। মোদী হুগলির বুক থেকে সাফ বলেন, মোদী বলেন, সিন্ডিকেটরাজ আর তোলাবাজদের রমরমা থাকলে , কাটমানি সংস্কৃতি থাকলে বাংলায় বিকাশ সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি 'আসল পরিবর্তন' এর ডাক দেন। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরের অব্যবস্থা পশ্চিমবঙ্গকে কীভাবে পিছনে ফেলছে হুগলি তার প্রমাণ।












Click it and Unblock the Notifications