গয়ংগচ্ছ ভাব মেট্রো কর্তৃপক্ষের! এই ভোগান্তি আর কতদিন
মেট্রোয় রেকে আগুন লেগে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আরও মারাত্মক হয়ে দাঁড়িয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষের দায়সারা জবাব।
মেট্রোয় রেকে আগুন লেগে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আরও মারাত্মক হয়ে দাঁড়িয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষের দায়সারা জবাব। বৃহস্পতিবার বিকেলে দমদমগামী এসি মেট্রো রেকে কোনও ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এটা মানতেই রাজি নয় তাঁরা। এমনকী পুরো ঘটনাটা কীভাবে ঘটেছে এবং কী হয়েছে সেই সম্পর্কে স্পষ্ট করে কোনও ধারণা দিতে পারেননি কলকাতা মেট্রোর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক ইন্দ্রাণী বন্দ্যোপাধ্যায়।

মেট্রোর এসি রেকে ধোঁয়া কীভাবে তৈরি হল বা ট্রেনের কামরার নিচে কোনও অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হয়েছিল কিনা তা না জেনে কোনওভাবে মন্তব্য করা যাবে না বলে জানান ইন্দ্রাণী।
Aparajita Rai, Additional Deputy Commissioner on Kolkata metro fire: There are no casualties, 16 people have been injured, all have been taken to SSKM Medical College. It was an accident, there was a small spark in the front portion of the metro. pic.twitter.com/w1LDwu7kWm
— ANI (@ANI) December 27, 2018
মেট্রো রেলের বিরুদ্ধে যাত্রীরা তুলেছেন সবচেয়ে বড় অভিযোগ। বলছেন, চালক বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতেই গোটা ট্রেনটাই অন্ধকারে ডুবে যায়। কিন্তু আধ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আটকে থাকা যাত্রীদের উদ্ধার করতে কেউ আসেনি। যেখানে ট্রেনটি দাঁড়িয়েছিল, সেখান থেকে ময়দান স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের দূরত্ব আটশো গজ। কিন্তু চালক বা মেট্রোর কোনও কর্মী- কারও দেখা মেলেনি।
অন্ধকার সুড়ঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা এসি রেকের মধ্যে তখন যাত্রীরা আর্ত চিৎকার করছেন। অভিযোগ, ট্রেনের ভিতরে আপতকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় যে ধরনের ব্যবস্থা রেখেছে মেট্রো, তার কোনও কিছুই কাজ করেনি। একে অন্ধকার, তার সঙ্গে প্রবল ধোঁয়া, পাশাপাশি আতঙ্কিতদের চিৎকার - অনেকেই মনে করেছিলেন প্রাণ নিয়ে আর বাড়ি ফিরতে পারবেন না।
মেট্রো রেলের পরিকাঠামো যে সঠিক জায়গায় নেই তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। কলকাতা মেট্রো রেলে এখনও অনেক রেক এমন চালানো হয় যার জীবন অন্তত ১৫ বছর আগে শেষ হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে যে এসি রেক চলে, তারাও তাদের শেষ সময়ের কাছাকাছি চলে এসেছে। এসবের সঙ্গে জুড়েছে খারাপ রক্ষণাবেক্ষণ। বলতে গেলে এককালে এশিয়ার গৌরব তথা বিশ্বের অন্যতম সেরা কলকাতা মেট্রো এখন ধুঁকছে।
বিভিন্ন কারণে চলন্ত রেকের মাঝপথে খারাপ হওয়া ঘটনা থেকে শুরু করে শর্ট সার্কিট কলকাতা মেট্রো রেলের নিত্যসঙ্গী। বছর কয়েক আগেই ভরদুপুরে এই ক্রিসমাসের সময়ই পার্ক স্ট্রিট মেট্রো স্টেশনে একই ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় মেট্রো কর্তৃপক্ষ কলকাতাবাসীকে আশ্বাস দেন মেট্রোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের। তবে কার্যক্ষেত্রে সেসবের কিছুই হয়নি। উপরন্তু মেট্রো রেলের বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থা কতটা নিম্নমানে পৌঁছেছে তা এদিনের ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।












Click it and Unblock the Notifications