রাজ্যপালের অফিসকে কালিমালিপ্ত করার অভিযোগ! দুই সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কেন্দ্রের
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের অফিসকে কালিমালিপ্ত করার অভিযোগে কলকাতা পুলিশের দুই সিনিয়র আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে কেন্দ্র। এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এই দুই আধিকারিকেক একজন হলেন, কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল। অপরজন হলেন, একজন ডিসিপি।
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস দিল্লিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল এবং ডিসিপি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় সম্পর্কে রিপোর্ট জমা দেন। সূত্রের খবর, অভিযোগে রাজ্যপাল বলেন, এঁরা এমনভাবে কাজ করছেন, যা একজন জনসেবক হিসেবে অশোভন। তারপরেই কেন্দ্রের তরফে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। যদিও এই দুই আইপিএস সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁরা বিষয়টি নিয়ে কিছুই জানে না।

জুনের শেষের দিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জমা দেওয়া রিপোর্টে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস বলেন, রাজ্যপালের অনুমতি থাকার পরেই ভোট পরবর্তী হিংসার শিকার ব্যক্তিদের রাজভবনে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এব্যাপারে তিনি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভোট পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে রাজভবনে ঢোকায় বাধার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁদের আটকে রাখার ঘটনাকে রাজ্যপালের সাংবিধানিক কর্তৃত্বের অবমাননা বলেও উল্লেখ করেছেন রাজ্যপাল। উল্লেখ্য, বিরোধী দলনেতা পরে আদালতের সাহায্য নিয়ে রাজভবনে যান।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, রাজ্যপালের রিপোর্ট পাওয়ার পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক দুই আইপিএসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে। গত চার জুলাই এব্যাপারে রাজ্য সরকারকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে রাজ্যপাল কেন্দ্রকে রিপোর্ট করার আগে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে দুই আইপিএসের বিরুদ্ধে ব্যবসস্থা নিতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু এনিয়ে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি কিংবা তাঁর অফিস থেকে কোনও যোগাযোগও করা হয়নি।
রাজ্যপাল কেন্দ্রের কাছে জমা দেওয়া রিপোর্টে বলেছেন, রাজভবনে নিযুক্ত পুলিশ অফিসাররা রাজভবনের এক মহিলা কর্মীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করায় উৎসাহিত করেছেন। রাজ্যপাল রিপোর্টে বলেছেন, এইসব আইপিএস অপিসাররা তাদের কাজে মাধ্যমে শুধুমাত্র রাজ্যপালের অফিসকেই কালিমালিপ্ত করেননি, তারা এমনভাবে কাজ করেছে, যা একজন সরকারি কর্মী হিসেবে সম্পূর্ণ অশোভন। তাঁরা আচরণবিধি উপেক্ষা করছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেন রাজ্যপাল। অভিযোগকারী মহিলা অভিযোগ প্রত্যাহার করতে চাইলেন, কলকাতা পুলিশ তাঁকে তা করতে দেয়নি বলে অভিযোগ।
কেন্দ্রের কাছে দেওয়া রিপোর্টে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস বলেছেন, রাজ্যপালের অফিসের আপত্তি সত্ত্বেও রাজভবনের কর্মীদের পরিচয়পত্র প্রদান এবং রাজভবনে ঢোকা ও বেরনো খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে।
রাজভবন থেকে কলকাতা পুলিশকে সরিয়ে নিতে গত ১৩ জুনের চিঠি নিয়ে কলকাতা পুলিশ নীরব ছিল বলেও উল্লেখ করেছেন রাজ্যপাল। কেন্দ্রের তরফে বিষয়টিকে আদেশ অমান্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সিভি আনন্দ বোস সম্প্রতি চোপড়ায় হিংসার শিকার মহিলার সঙ্গে দেখা করতে শিলিগুড়ি সফরের কথা উল্লেখ করেছেন। সেখানে রাজ্যের কিছু আধিকারিকের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যপাল। রাজ্য সরকারকে আগে থেকে এই সপর সম্পর্কে জানানো হলেও দার্জিলিং-এর জেলাশাসক এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার প্রোটোকল মানেননি বলেও অভিযোগ করেছেন রাজ্যপাল।












Click it and Unblock the Notifications