হাইকোর্টের রায়ে প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিল! ১৭ পন্থায় এসএসসির চাকরি চুরির পর্দা ফাঁস
স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড় রায় দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের দেবাংশু বসাক এবং সব্বার রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ। ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিল করে ওএমআর শিট পুনর্মূল্যায়নের পরে ফের প্যানেল তৈরি করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। অন্যদিকে সময় উত্তীর্ণ প্যানেলের বাইরে যাঁরা চাকরি পেয়েছেন, চার সপ্তাহের মধ্যে তাঁদের বেতন ফেরতের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
এই রায়কে কঠিন রায় বলে তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা জানিয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, চাকরি হারানোদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সরকার তাঁদের পাশে রয়েছে। তবে সবাই তো চুরি করে চাকরি পায়নি, যাঁরা যোগ্য চাকরি প্রাপক তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলের নেতারা মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন।

হাইকোর্টের নির্দেশ
সিবিআই নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে। যেসব আধিকারিক বাড়তি পদ তৈরি করেছিলেন, তাঁদেরকে গ্রেফতার করতে পারবে সিবিআই। এই মুহূর্তে স্কুল সার্ভিস কমিশন নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে।
১৭ উপায়ে সরকারি চাকরি চুরি
সোমবারের ২৮১ পাতার নির্দেশে রয়েছে ৩৭০ টি অনুচ্ছেদ। এদিন রায়দান হয় নটি ইস্যুতে। সেখানে বিচারপতিদ্বয় বলেছেন সতেরো উপায়ে সরকারি চাকরি চুরি করা হয়েছে। সেগুলি হল,
- নম্বর-সহ মেরিট লিস্ট প্রকাশ না করেই চাকরি
- ফাঁকা ওএমআর শিট জমা দিয়েও চাকরি
- প্যানেলে নাম না থাকার পরেও চাকরি
- র্যাঙ্ক জাম্প করে চাকরি
- প্যানেলের সময় উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও নিয়োগপত্র
- চারটি ক্যাটেগরিতে শূন্যপদের থেকেও বেশি নিয়োগ
- স্ক্যান কপি না রেখেই ওএমআর শিট নষ্ট করে দেওয়া (এক্ষেত্রে আরটিআইতে স্ক্যান কমি পেলেও, তদন্ত করতে গিয়ে সেই এএমআর-এর হদিশ পায়নি সিবিআই)
- বেআইনিভাবে গোপন টেন্ডারে নাইসাকে ওএমআর মূল্যায়নের দায়িত্ব
- অতিরিক্ত নিয়োগকে মান্যতা দিতে অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি ক্যাবিনেটের
প্রসঙ্গত এসএসসির কাছে কোনও ওএমআর শিট না থাকলেও (স্ক্যান কপি না রেখে নষ্ট করা হয়েছে) গাজিয়াবাদে মূল্যায়নকারী সংস্থা নাইসার এক আধিকারিকের বাড়ি থেকে তিনটি হার্ডডিস্কে প্রায় ৫০ লক্ষ পাতার ওএমআর শিট পাওয়া গিয়েছে। হাইকোর্ট এই ওএমআর শিটকেই বৈধতা দিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications